Dhaka ০৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামিনে মুক্তি পেলেন তিন সন্তানের মা

নিজস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

দীর্ঘ ১৫ দিন কারাগারে থাকার পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন নওগাঁর সেই অসহায় মা আঁখি খাতুন। মাদক মামলায় বন্দি থাকা এই নারীর মুক্তির খবরে স্বস্তি ফিরেছে তার তিন নাবালক সন্তানের জীবনে।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইনি সহায়তা নিশ্চিত হওয়ার পর আদালতের আদেশে বুধবার (১৩ মে) বিকেল চারটার দিকে তিনি জামিন পান।

গত মার্চ মাসে মারা যান বাবা। একমাত্র আশ্র‍য় মাও জেলে। আর জেল গেটে এসে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকে অসহায় শিশু সন্তানরা। সামান্য আইনী সহায়তা দেওয়ার কেউ ছিলনা অসহায় তিন প্রতিবন্ধী সন্তানের মায়ের।

এমন সংবাদ প্রচারিত হয় একটি বেসরকারি টেলিভিশিনে। যা নজর এড়ায়নি প্রধানমন্ত্রীর। এরপর সাথে সাথেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ও অসহায় সেই নারীকে আইনী সহায়তা সহায়তা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ নামেন আইনি লড়াইয়ে। অবশেষে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় শেষে জামিন পান আঁখি খাতুন।

জানা গেছে, গতকাল রাতে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেটকে নির্দেশ দেন আইনী সহায়তা দিয়ে পরিবারটির পাশে দাড়ানোর জন্য। পরে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নাবালক তিন সন্তানের জননী অসহায় সেই আঁখি খাতুনে জামিনের ব্যবস্থা হয়।

জামিনের পর আজই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। মুক্তির পর তিনি তিন সন্তানকে বুকে জড়িয়ে নেন তিনি। অনেকটা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন ।

দীর্ঘদিন পর সন্তানদের এভাবে বুকে জড়িয়ে নিয়ে তিনি যেন অন্যরকম এক শক্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। একইসঙ্গে তার সন্তানরাও প্রধানমন্ত্রীর এমন মানবিক উদ্যোগে যেন অন্ধকারে দিশা খুঁজে পেলেন।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বর্তমান সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. শাহরিয়ার বলেন, আমাকে জানানো হয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই নারী যেন আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার ও প্রতিকার পান, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এবং অগ্রগতি জানানোসহ বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। এর পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

পরে বিষয়টি বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ রকনুজ্জামান–এর নজরে আনা হলে আদালত আসামিপক্ষকে আবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু জায়েদ মোহাম্মদ রফিকুল আলম রফিক আবেদন উপস্থাপন করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে ওই নারীকে জামিন মঞ্জুর করেন। তিনি বলেন, “ভদ্র মহিলা ইতোমধ্যে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি এখন আমাদের এখানেও উপস্থিত আছেন। আইন অনুযায়ী তিনি যে প্রতিকার পাওয়ার অধিকারী ছিলেন, সেটিই তিনি পেয়েছেন।”

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জামিনে মুক্তি পেলেন তিন সন্তানের মা

Update Time : ০৩:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

দীর্ঘ ১৫ দিন কারাগারে থাকার পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন নওগাঁর সেই অসহায় মা আঁখি খাতুন। মাদক মামলায় বন্দি থাকা এই নারীর মুক্তির খবরে স্বস্তি ফিরেছে তার তিন নাবালক সন্তানের জীবনে।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইনি সহায়তা নিশ্চিত হওয়ার পর আদালতের আদেশে বুধবার (১৩ মে) বিকেল চারটার দিকে তিনি জামিন পান।

গত মার্চ মাসে মারা যান বাবা। একমাত্র আশ্র‍য় মাও জেলে। আর জেল গেটে এসে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকে অসহায় শিশু সন্তানরা। সামান্য আইনী সহায়তা দেওয়ার কেউ ছিলনা অসহায় তিন প্রতিবন্ধী সন্তানের মায়ের।

এমন সংবাদ প্রচারিত হয় একটি বেসরকারি টেলিভিশিনে। যা নজর এড়ায়নি প্রধানমন্ত্রীর। এরপর সাথে সাথেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ও অসহায় সেই নারীকে আইনী সহায়তা সহায়তা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ নামেন আইনি লড়াইয়ে। অবশেষে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় শেষে জামিন পান আঁখি খাতুন।

জানা গেছে, গতকাল রাতে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেটকে নির্দেশ দেন আইনী সহায়তা দিয়ে পরিবারটির পাশে দাড়ানোর জন্য। পরে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নাবালক তিন সন্তানের জননী অসহায় সেই আঁখি খাতুনে জামিনের ব্যবস্থা হয়।

জামিনের পর আজই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। মুক্তির পর তিনি তিন সন্তানকে বুকে জড়িয়ে নেন তিনি। অনেকটা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন ।

দীর্ঘদিন পর সন্তানদের এভাবে বুকে জড়িয়ে নিয়ে তিনি যেন অন্যরকম এক শক্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। একইসঙ্গে তার সন্তানরাও প্রধানমন্ত্রীর এমন মানবিক উদ্যোগে যেন অন্ধকারে দিশা খুঁজে পেলেন।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বর্তমান সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. শাহরিয়ার বলেন, আমাকে জানানো হয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই নারী যেন আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার ও প্রতিকার পান, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এবং অগ্রগতি জানানোসহ বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। এর পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

পরে বিষয়টি বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ রকনুজ্জামান–এর নজরে আনা হলে আদালত আসামিপক্ষকে আবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু জায়েদ মোহাম্মদ রফিকুল আলম রফিক আবেদন উপস্থাপন করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে ওই নারীকে জামিন মঞ্জুর করেন। তিনি বলেন, “ভদ্র মহিলা ইতোমধ্যে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি এখন আমাদের এখানেও উপস্থিত আছেন। আইন অনুযায়ী তিনি যে প্রতিকার পাওয়ার অধিকারী ছিলেন, সেটিই তিনি পেয়েছেন।”