Dhaka ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাসকিনের আঘাতে ফের বিপর্যয়, সাজঘরে দুই পাকিস্তানি ওপেনার

10 / 100 SEO Score

 

দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুটা বাংলাদেশের করে নিচ্ছেন তাসকিন আহমেদ। আব্দুল্লাহ ফজলকে ফেরানোর পর প্রথম টেস্টের অভিষেকে সেঞ্চুরি করা আজান আওয়াইজকেও ফেরালেন তিনি। দুই ওপেনারকেই আউট করে দিনের শুরুটা বাংলাদেশের করে নিচ্ছেন তাসকিন।

২৪ বলে ১৩ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি মুমিনুল হককে ক্যাচ দিয়ে। প্রথম দিনের শেষ বিকালে অফ সাইডে তিনটি চার মেরে ইঙ্গিত দেন আবারও দারুণ কিছু করার। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। ২৩ রান ২ উইকেট হারালো পাকিস্তান।

দিনের শুরুতেই তার গতিতে পরাস্ত হন পাকিস্তানের ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল। ৯ রান করা পাকিস্তানের ব্যাটারের এজ খুঁজে নেন তাসকিন। আগের দিনের ২১ রানের সঙ্গে বোর্ডে ১ রান যোগ হতেই তথা দলীয় ২২ রানে প্রথম উইকেট হারালো সফরকারী পাকিস্তান।

এই উইকেটে কৃতিত্ব দিতে হবে উইকেটকিপার লিটন কুমার দাসেরও। বাম পাশে দ্রুত ঝাঁপিয়ে দারুণভাবে গ্লাভসে নেন বলটি। একটি চারে ৯ রান করা ফজল হতাশ হয়ে ফেরেন সাজঘরে।

ক্রিজে আছেন দুই নতুন ব্যাটার অধিনায়ক শান মাসুদ ও অভিজ্ঞ বাবর আজম। এর আগে, প্রথম টেস্টের শেষ বিকালে ৬ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পায় পাকিস্তান। কোনো উইকেট না হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ২১ রান। ফলে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তারা পিছিয়ে আছে ২৫৭ রান।

আজম আওয়াইজ ১৩ ও ৮ রানে অপরাজিত আব্দুল্লাহ ফজল। তাসকিন, শরিফুল, মিরাজ ও নাহিদ এই ৬ ওভার বোলিং করলেও কোনো উইকেট পাননি তারা।

দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের বোলারদের সামনে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে স্রোতের বিপরীতে সেঞ্চুরি করে উদ্ধার করেন লিটন কুমার দাস। দলের সংগ্রহ তিনশ পর্যন্ত নিতে না পারলেও কাছাকাছি নিয়ে গেছেন তিনি দলকে। অলআউট হওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৮ রান।

শেষ ব্যাটার হিসেবে রানের খাতা না খুলে আউট হয়েছেন নাহিদ রানা। হাসান আলীর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। ১২ রান করে অপরাজিত ছিলেন শরিফুল ইসলাম।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২৬ রানের ইনিংস খেলেছেন লিটন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন তিনি। ১০৬ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ইনিংসে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের নিজের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। খুররম শাহজাদকে চার মেনে পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা।

একেবারে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়েই এই সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে এটি তার টানা দ্বিতীয় শতক। পাকিস্তানের মাটিতে ২০২৪ সালে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজে রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খেলেছিলেন ১৩৮ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস।

এবারের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৬ চার ও ২ ছক্কায়। এই ইনিংস খেলার পথে তাইজুলের সঙ্গে গড়েছিলেন ৬০ রানের জুটি। তিনি আউট হয়েছেন ১৬ রান করে সাজিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে। তার বিদায়ে ১৭৬ রানে ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর দ্রুত ফিরে যান তাসকিন আহমেদও। খুররাম শাহজাদের চতুর্থ শিকার হয়ে স্লিপে সালমান আলী আগাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাসকিন আহমেদ ৭ রান করে। ২১৪ রানে ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

নবম ব্যাটার হিসেবে হাসান আলীর বলে পুল করে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন দলীয় ২৭৮ রানে। এর আগে, শরিফুলের সঙ্গে গড়েন ৬৪ রানের জুটি।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ শনিবার টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। আব্বাসের বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ হয়েছেন তিনি, খুলতে পারেননি রানের খাতা।

তানজিদ হাসান তামিম অভিষেক টেস্টে শুরুটা ভালোই করেছিলেন। এগিয়ে যাচ্ছিলেন বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। কিন্তু ইনিংসটা বড় করতে পারলেন না। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে টপ এজ হয়েছেন তিনি। আব্বাস নিজেই ক্যাচ নেন।

৩৪ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২৬ রান আসে তানজিদের ব্যাট থেকে। দলীয় ৪৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সেট হয়ে গিয়েছিলেন আগের টেস্টে জোড়া হাফসেঞ্চুরি করা মুমিনুল হক। তবে খুররম শেহজাদের দারুণ এক ডেলিভারিতে লাইন মিস করেন তিনি, বল লেগে উড়ে যায় স্টাম্পের বেল। ৪১ বলে ৩ চারের সাহায্যে ২২ রান করে সাজঘরে ফেরেন মুমিনুল। ৬৩ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের।

৩ উইকেটে ১০১ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর দ্রুত সাজঘরে ফিরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম আর মেহেদী হাসান মিরাজ।

মোহাম্মদ আব্বাসের দুর্দান্ত সুইংয়ে ব্যাট ছুঁইয়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসবন্দী হয়েছেন শান্ত (২৯)। আরেক সেট ব্যাটার মুশফিককে (২৩) এলবিডব্লিউ করেন খুররম শেহজাদ। খুররমের তৃতীয় শিকার হন মিরাজ। মাত্র ৪ রান করে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। পাকিস্তানের হয়ে খুররম ৪টি, আব্বাস ৩টি, দুটি হাসান আলী ও একটি উইকেট নেন সাজিদ খান।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

তাসকিনের আঘাতে ফের বিপর্যয়, সাজঘরে দুই পাকিস্তানি ওপেনার

Update Time : ০৫:৩২:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
10 / 100 SEO Score

 

দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুটা বাংলাদেশের করে নিচ্ছেন তাসকিন আহমেদ। আব্দুল্লাহ ফজলকে ফেরানোর পর প্রথম টেস্টের অভিষেকে সেঞ্চুরি করা আজান আওয়াইজকেও ফেরালেন তিনি। দুই ওপেনারকেই আউট করে দিনের শুরুটা বাংলাদেশের করে নিচ্ছেন তাসকিন।

২৪ বলে ১৩ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি মুমিনুল হককে ক্যাচ দিয়ে। প্রথম দিনের শেষ বিকালে অফ সাইডে তিনটি চার মেরে ইঙ্গিত দেন আবারও দারুণ কিছু করার। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। ২৩ রান ২ উইকেট হারালো পাকিস্তান।

দিনের শুরুতেই তার গতিতে পরাস্ত হন পাকিস্তানের ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল। ৯ রান করা পাকিস্তানের ব্যাটারের এজ খুঁজে নেন তাসকিন। আগের দিনের ২১ রানের সঙ্গে বোর্ডে ১ রান যোগ হতেই তথা দলীয় ২২ রানে প্রথম উইকেট হারালো সফরকারী পাকিস্তান।

এই উইকেটে কৃতিত্ব দিতে হবে উইকেটকিপার লিটন কুমার দাসেরও। বাম পাশে দ্রুত ঝাঁপিয়ে দারুণভাবে গ্লাভসে নেন বলটি। একটি চারে ৯ রান করা ফজল হতাশ হয়ে ফেরেন সাজঘরে।

ক্রিজে আছেন দুই নতুন ব্যাটার অধিনায়ক শান মাসুদ ও অভিজ্ঞ বাবর আজম। এর আগে, প্রথম টেস্টের শেষ বিকালে ৬ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পায় পাকিস্তান। কোনো উইকেট না হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ২১ রান। ফলে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তারা পিছিয়ে আছে ২৫৭ রান।

আজম আওয়াইজ ১৩ ও ৮ রানে অপরাজিত আব্দুল্লাহ ফজল। তাসকিন, শরিফুল, মিরাজ ও নাহিদ এই ৬ ওভার বোলিং করলেও কোনো উইকেট পাননি তারা।

দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের বোলারদের সামনে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে স্রোতের বিপরীতে সেঞ্চুরি করে উদ্ধার করেন লিটন কুমার দাস। দলের সংগ্রহ তিনশ পর্যন্ত নিতে না পারলেও কাছাকাছি নিয়ে গেছেন তিনি দলকে। অলআউট হওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৮ রান।

শেষ ব্যাটার হিসেবে রানের খাতা না খুলে আউট হয়েছেন নাহিদ রানা। হাসান আলীর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। ১২ রান করে অপরাজিত ছিলেন শরিফুল ইসলাম।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২৬ রানের ইনিংস খেলেছেন লিটন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন তিনি। ১০৬ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ইনিংসে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের নিজের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। খুররম শাহজাদকে চার মেনে পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা।

একেবারে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়েই এই সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে এটি তার টানা দ্বিতীয় শতক। পাকিস্তানের মাটিতে ২০২৪ সালে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজে রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খেলেছিলেন ১৩৮ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস।

এবারের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৬ চার ও ২ ছক্কায়। এই ইনিংস খেলার পথে তাইজুলের সঙ্গে গড়েছিলেন ৬০ রানের জুটি। তিনি আউট হয়েছেন ১৬ রান করে সাজিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে। তার বিদায়ে ১৭৬ রানে ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর দ্রুত ফিরে যান তাসকিন আহমেদও। খুররাম শাহজাদের চতুর্থ শিকার হয়ে স্লিপে সালমান আলী আগাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাসকিন আহমেদ ৭ রান করে। ২১৪ রানে ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

নবম ব্যাটার হিসেবে হাসান আলীর বলে পুল করে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন দলীয় ২৭৮ রানে। এর আগে, শরিফুলের সঙ্গে গড়েন ৬৪ রানের জুটি।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ শনিবার টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। আব্বাসের বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ হয়েছেন তিনি, খুলতে পারেননি রানের খাতা।

তানজিদ হাসান তামিম অভিষেক টেস্টে শুরুটা ভালোই করেছিলেন। এগিয়ে যাচ্ছিলেন বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। কিন্তু ইনিংসটা বড় করতে পারলেন না। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে টপ এজ হয়েছেন তিনি। আব্বাস নিজেই ক্যাচ নেন।

৩৪ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২৬ রান আসে তানজিদের ব্যাট থেকে। দলীয় ৪৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সেট হয়ে গিয়েছিলেন আগের টেস্টে জোড়া হাফসেঞ্চুরি করা মুমিনুল হক। তবে খুররম শেহজাদের দারুণ এক ডেলিভারিতে লাইন মিস করেন তিনি, বল লেগে উড়ে যায় স্টাম্পের বেল। ৪১ বলে ৩ চারের সাহায্যে ২২ রান করে সাজঘরে ফেরেন মুমিনুল। ৬৩ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের।

৩ উইকেটে ১০১ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর দ্রুত সাজঘরে ফিরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম আর মেহেদী হাসান মিরাজ।

মোহাম্মদ আব্বাসের দুর্দান্ত সুইংয়ে ব্যাট ছুঁইয়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসবন্দী হয়েছেন শান্ত (২৯)। আরেক সেট ব্যাটার মুশফিককে (২৩) এলবিডব্লিউ করেন খুররম শেহজাদ। খুররমের তৃতীয় শিকার হন মিরাজ। মাত্র ৪ রান করে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। পাকিস্তানের হয়ে খুররম ৪টি, আব্বাস ৩টি, দুটি হাসান আলী ও একটি উইকেট নেন সাজিদ খান।