Dhaka ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দোহা বৈঠকের পর বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা ইতিবাচকভাবে শেষ হওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের পক্ষ থেকে দুই দেশের আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হওয়ার খবর নিশ্চিত করার পর বৈশ্বিক বাজারে এই দরপতন দেখা দেয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আজ ভোরের দিকের লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের প্রধান দুই বেঞ্চমার্কেরই দরপতন ঘটেছে। অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৩ সেন্ট বা ১ দশমিক ০২ শতাংশ কমে ৭০ দশমিক ৮৪ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আমেরিকার বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৩ সেন্ট বা ১দশমিক ২১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৬৭ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসেও দুই ধরনের তেলের দামই এক শতাংশের বেশি কমে চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছিল।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা দোহায় টানা দুই দিন ধরে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল মুক্ত করার বিষয়ে নিবিড় আলোচনা করেছেন। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই বিশেষ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

গত সপ্তাহে একটি মালবাহী জাহাজে ইরানি হামলার পর দুই পক্ষ একে অপরের ওপর পাল্টা সামরিক আক্রমণ চালালেও বর্তমানে এই রুটে ট্যাংকার চলাচল আংশিকভাবে সচল হতে শুরু করেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান উল্লেখ না করেই দাবি করেছেন যে এই জলপথ দিয়ে তেলের প্রবাহ যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে।

চীনের বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান হেইতং ফিউচার্স এক বিশেষ নোটে জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত থাকা এবং বাজার ধরে রাখার জন্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর পারস্পরিক প্রতিযোগিতার কারণে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, যা তেলের দাম আরও কমিয়ে দিচ্ছে।

এর পাশাপাশি ওপেকের সদস্য রাষ্ট্রগুলো আগামী রবিবার অনুষ্ঠেয় বৈঠকে আগস্ট মাস থেকে দৈনিক তেলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আরও প্রায় এক লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে জানা গেছে। জুন ও জুলাই মাসের ধারাবাহিকতায় এই উৎপাদন বৃদ্ধি বাজারে তেলের সরবরাহ আরও বাড়িয়ে দেবে।

সূত্র: রয়টার্স

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

দোহা বৈঠকের পর বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

Update Time : ০৫:৪৫:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা ইতিবাচকভাবে শেষ হওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের পক্ষ থেকে দুই দেশের আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হওয়ার খবর নিশ্চিত করার পর বৈশ্বিক বাজারে এই দরপতন দেখা দেয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আজ ভোরের দিকের লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের প্রধান দুই বেঞ্চমার্কেরই দরপতন ঘটেছে। অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৩ সেন্ট বা ১ দশমিক ০২ শতাংশ কমে ৭০ দশমিক ৮৪ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আমেরিকার বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৩ সেন্ট বা ১দশমিক ২১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৬৭ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসেও দুই ধরনের তেলের দামই এক শতাংশের বেশি কমে চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছিল।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা দোহায় টানা দুই দিন ধরে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল মুক্ত করার বিষয়ে নিবিড় আলোচনা করেছেন। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই বিশেষ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

গত সপ্তাহে একটি মালবাহী জাহাজে ইরানি হামলার পর দুই পক্ষ একে অপরের ওপর পাল্টা সামরিক আক্রমণ চালালেও বর্তমানে এই রুটে ট্যাংকার চলাচল আংশিকভাবে সচল হতে শুরু করেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান উল্লেখ না করেই দাবি করেছেন যে এই জলপথ দিয়ে তেলের প্রবাহ যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে।

চীনের বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান হেইতং ফিউচার্স এক বিশেষ নোটে জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত থাকা এবং বাজার ধরে রাখার জন্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর পারস্পরিক প্রতিযোগিতার কারণে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, যা তেলের দাম আরও কমিয়ে দিচ্ছে।

এর পাশাপাশি ওপেকের সদস্য রাষ্ট্রগুলো আগামী রবিবার অনুষ্ঠেয় বৈঠকে আগস্ট মাস থেকে দৈনিক তেলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আরও প্রায় এক লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে জানা গেছে। জুন ও জুলাই মাসের ধারাবাহিকতায় এই উৎপাদন বৃদ্ধি বাজারে তেলের সরবরাহ আরও বাড়িয়ে দেবে।

সূত্র: রয়টার্স