Dhaka ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন কর্মসংস্থানে লাখো তরুণের আয়ে গতি ‍

নিজেস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

** অনলাইন ডেলিভারি খাতে যুক্ত হচ্ছে বিপুলসংখ্যক তরুণ
** শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করছেন নিয়মিত
** ই-কমার্স সম্প্রসারণে বাড়ছে লজিস্টিকস খাতের চাহিদা
** ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা

ডিজিটাল বাণিজ্যের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে দেশে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে অনলাইন ডেলিভারি ও লজিস্টিকস খাত। রাজধানী থেকে জেলা শহর—সবখানেই এই খাত নতুন কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে উঠে এসেছে। শিক্ষার্থী, বেকার যুবক ও আংশিক কর্মজীবীরা ডেলিভারি সেবায় যুক্ত হয়ে তৈরি করছেন বিকল্প আয়ের পথ।

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বিভিন্ন কুরিয়ার, ই-কমার্স ও ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে কাজ করে বহু তরুণ মাসে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। দক্ষতা, কাজের পরিমাণ ও সময়ভেদে অনেকের আয় আরও বেশি হচ্ছে। অনেকে পূর্ণকালীন চাকরির বিকল্প হিসেবেও এ পেশাকে বেছে নিচ্ছেন। রাজধানীর একাধিক ডেলিভারি কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবারের আর্থিক সহায়তা, পড়াশোনার খরচ এবং ব্যক্তিগত ব্যয় মেটাতে তরুণরা ব্যাপকভাবে এই খাতে যুক্ত হচ্ছেন। সকাল বা নির্দিষ্ট সময় কাজ করে অনেকে দিনের বাকি সময় পড়াশোনা বা অন্যান্য কাজে ব্যয় করতে পারছেন। শুধু পণ্য সরবরাহ নয়, অনলাইন অর্ডার সংগ্রহ, পিকআপ, গুদাম ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন সহায়তাসহ নানা স্তরেও তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান। ফলে ডেলিভারি খাত ঘিরে বিস্তৃত হয়েছে একটি বড় সহায়ক অর্থনৈতিক চেইন।

প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ই-কমার্সের বিস্তার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে ডেলিভারি নেটওয়ার্কের প্রয়োজন। বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর পাশাপাশি মাঝারি ও ছোট প্রতিষ্ঠানও নতুন জনবল নিয়োগ দিচ্ছে, যার ফলে খাতটিতে কর্মসংস্থান ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এই খাত তরুণদের আয়ের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকেও গতিশীল করছে। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ডেলিভারি অবকাঠামো বিস্তৃত করা গেলে ভবিষ্যতে এ খাত আরও বড় কর্মসংস্থানের উৎসে পরিণত হতে পারে।

উত্তরার একটি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আকাশ (১৭)। পড়ালেখার পাশাপাশি পাঠাওয়ে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করেন। আকাশ বলেন, ‘বাবার এখন আয় নেই। আমাদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে ওনার কষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ডেলিভারিম্যানের কাজ করছি। মাসে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হয়। এ টাকা দিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারেও কিছু টাকা দিতে পারি।’

প্রায় একই রকম কথা বলেন নেত্রকোনার ইউসুফ (২১)। এইচএসসি পাসের পর এখন জাপানিজ ভাষা শিখছেন। ডেলিভারি সার্ভিস ম্যান হিসেবে কাজ করছেন দেশের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজে। ইউসুফের ভাষায়, ‘সাইকেলে করে প্রতিদিন ডেলিভারি দিই। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করি। মাসে ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হয়। পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করছি। মা-বাবাকেও কিছু টাকা দিতে পারছি। নিজের খরচও চালাতে পারছি।’শুধু আকাশ ও ইউসুফ নন, অনলাইন ডেলিভারি সেবায় এখন কাজ করছেন লাখো তরুণ। দেশের ই-কমার্স ও লজিস্টিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ করা তরুণদের বড় অংশই শিক্ষার্থী। অনলাইনে কেনা যে কোনো পণ্য ও খাবার তারা বাসা-বাড়িতে সরবরাহ করেন। ডেলিভারির বাহন সাইকেল ও মোটরসাইকেল।

রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় কথা হলে ডেলিভারি ম্যান ইউসুফ বলেন, ‘পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করছি। মা-বাবাকেও কিছু টাকা দিতে পারি। নিজেও চলতে পারছি। সকালে কাজ করি। পার্সেল কম থাকলে কাজ দুপুর ১টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। তখন বিকেল ও রাতে পড়ার সুযোগ পাই। লেখাপড়ার পাশাপাশি আমার মতো অনেকেই ডেলিভারি সার্ভিসে কাজ করেন।’

ডেলিভারি ম্যান আকাশ বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৫টা বা ৬টা পর্যন্ত ডেলিভারি দিই। পড়ালেখা করি সন্ধ্যার পরে। যখন পরীক্ষা থাকে তখন আগে থেকেই পাঠাও কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিই।’তিনি বলেন,‘পাঠাও এর সুপার মডেলে প্রতি পার্সেলে ২২ থেকে ২৫ টাকা করে দেয়, আর সুপার মডেল না হলে ১৩ থেকে ২২ টাকা দেয়। সুপার মডেল হতে হলে ৮০০ পার্সেল দিতে হয় এবং রেটিং ৮৮ থাকতে হয়।’বাড্ডায় কথা হলে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘অথবা’র ডেলিভারিম্যান হাসিব বলেন, ‘কয়েকদিন হলো ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ শুরু করেছি। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় পার্সেল সাপ্লাই দিই। আয় ভালোই হচ্ছে। মাসে ২০ হাজার টাকারও বেশি আয় হচ্ছে। আগে অন্য কাজ করতাম, এখন এ কাজ করে ভালোই লাগছে।’

ভোলার তানভীর (২০) থাকেন মিরপুরে। লেখাপড়া তেমন করা হয়ে ওঠেনি তার। মাঝেমধ্যে সে ডেলিভারি ম্যানের কাজ করেন। তানভীর বলেন, ‘আমি হাফ বেলা কাজ করি। কোনো দিন ৫০০ টাকা বা তার কমবেশি আয় করি। অনেকে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ হাজার কিংবা কেউ ৭ হাজার টাকাও আয় করতে পারেন।’

শুধু পণ্য সরবরাহই নয়, পণ্য সংগ্রহেও যুক্ত অনেকে। বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে পাঠাও কিংবা অন্য ডেলিভারি সার্ভিসগুলো গ্রাহকের দেওয়া অর্ডারের পণ্যগুলো প্রথমে সংগ্রহ করে। এ পণ্য সংগ্রহের কাজেও অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। কাফরুলের একটি ই-কমার্স পেজের অফিস থেকে প্রতিদিন পণ্য সংগ্রহ করে একজন পিকআপম্যান ও একজন ভ্যানচালক। পাঠাওয়ে কাজ করা পিকআপ ম্যান (পণ্য সংগ্রহকারী) হাবিব বলেন, ‘দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য সংগ্রহ করি। মাসে আমাকে ১৩ হাজার টাকা বেতন দেয়।’

ভ্যানচালক রহিম বলেন, ‘আমি দুপুর থেকে ভ্যানে করে পাঠাওয়ের মাল সংগ্রহ করি। মাসে বেতন দেয় ১৫ হাজার টাকা।’পাঠাওয়ে ১০ হাজারের বেশি ডেলিভারিম্যান
পাঠাও কুরিয়ারে সারাদেশে এখন ১০ হাজারের বেশি ডেলিভারি এজেন্ট আছেন। এর মধ্যে ৮ হাজার এজেন্ট মোটরসাইকেলে পার্সেল পরিবহন করেন, আর দুই হাজার ডেলিভারিম্যান সেবা দেন সাইকেলে।পাঠাও বলছে, ডেলিভারি কমিশনের মাধ্যমে এজেন্টরা গড়ে প্রতি মাসে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেন, যা উৎসবের সময় ৫০ হাজার টাকারও বেশি হয়। প্রতিষ্ঠানটি এজেন্টদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত সেফটি ট্রেনিং দেয়। একই সঙ্গে নিজস্ব তহবিল থেকে দুর্ঘটনা কাভারেজ হিসেবে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সুবিধা দেয়।

জানতে চাইলে পাঠাও লিমিটেডের সিইও ফাহিম আহমেদ বলেন, ‘পাঠাও কুরিয়ারে আমরা সারাদেশে অর্থবহ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে অবিচল। হাজার হাজার মানুষের জন্য আয়ের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা কেবল তাদের জীবিকাই নিশ্চিত করছি না; বরং একটি ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তি এমনভাবে ক্ষমতায়ন করছি যাতে তারা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশীদার হয়ে উঠতে পারেন।’স্টেডফাস্ট কুরিয়ারে ডেলিভারিতে কর্মসংস্থান ৫ হাজার।

আরেক জনপ্রিয় কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্টেডফাস্টে বর্তমানে ৮ থেকে ১০ হাজার কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ করেন ৪ হাজার ৫ হাজার। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ডেলিভারিম্যানরা মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। দারাজের ডেলিভারিতে বহু কর্মসংস্থান: দেশের ই-কমার্স খাতে লজিস্টিকস ও ডেলিভারি সেবায় দারাজ বেশ এগিয়ে। সারাদেশে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে রয়েছে ৬৬টি লাস্ট-মাইল হাব ও ৪০০টিরও বেশি ডেলিভারিভ্যান। প্রতিদিন এক হাজার ২শ জনেরও বেশি ডেলিভারি রাইডার সরাসরি গ্রাহকের দোরগোড়ায় পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন। এ লজিস্টিকস প্রসারের ফলে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ।

জানতে চাইলে দারাজ বাংলাদেশের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার এ এইচ এম হাসিনুল কুদ্দুস রুশো বলেন, ‘বাংলাদেশে ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে রাইডারদের কর্মসংস্থানের যে ধারা দারাজ শুরু করেছিল, তার সুফল আজ সারাদেশে দৃশ্যমান। বর্তমানে দেশে প্রায় এক লাখেরও বেশি মানুষ ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করছেন। দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন রাইডার মাসে ২৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারছেন। দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে এ খাতটি এখন অন্যতম শক্তিশালী চালিকাশক্তি।’নিজস্ব ডেলিভারিম্যানে নজর অথবার: প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘অথবা’। স্বল্প পরিসরে নিজস্ব ডেলিভারিম্যান রয়েছে ই-কমার্স সাইটটির। গ্রাহকদের পণ্য সরবরাহে প্রতিষ্ঠানটি মূলত লজিস্টিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সেবা নেয়।ফুডপান্ডায় নিবন্ধিত ডেলিভারি ম্যান লাখের বেশি
বাসাবাড়িতে রান্না করা খাবার সরবরাহে ফুডপান্ডা এখন বেশ জনপ্রিয়। প্রিয়জনের পছন্দের খাবার কিংবা সন্তানের জন্য বাইরের খাবার অর্ডার করতে অনেকেই ফুডপান্ডার আশ্রয় নেন। এসব খাবার বাসায় পৌঁছে দিতে ফুডপান্ডারও রয়েছে নিজস্ব ডেলিভারিম্যান। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে এক লাখেরও বেশি ডেলিভারি ম্যানের নিবন্ধন রয়েছে।

জানতে চাইলে ফুডপান্ডা বাংলাদেশের হেড অব পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৩ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি ডেলিভারি পার্টনার ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ফুডপান্ডায় নিবন্ধন করেন। ডেলিভারি পার্টনাররা নিজেদের স্বাধীনতা অনুযায়ী কাজ করতে পারেন ও কত সময় কাজ করবেন তা নিজেরাই নির্ধারণ করেন। ডিজিটাল ইকনোমির অংশ হিসেবে এ খাতটি প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে এবং দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর আয়ের সুযোগ তৈরিতে এ খাতের অবদান অনেক। আরও কর্মসংস্থান ও বড় হবে অনলাইন ডেলিভারি: খাতটিতে বর্তমানে কয়েক লাখ কর্মসংস্থান হয়েছে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতে এ খাতে আরও বহু কর্মসংস্থান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ই-কমার্সের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাতটি আরও বড় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানতে চাইলে ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাবের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘দেশে ই-কমার্স খাত যত দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে, ডেলিভারি ও লজিস্টিকস সেক্টরও ঠিক একইভাবে বড় হচ্ছে। কারণ অনলাইনে অর্ডার হওয়া প্রতিটি পণ্য শেষ পর্যন্ত ডেলিভারি কোম্পানির মাধ্যমেই গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়। ফলে এ খাতটি পুরোপুরি ই-কমার্সের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে পাঠাও, স্টেডফাস্ট ই-কুরিয়ার, বাহকসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান ভালো অবস্থানে রয়েছে। তারা উল্লেখযোগ্য হারে কর্মসংস্থান তৈরি করছে। শুধু স্টেডফাস্টেই প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে এ খাতে কয়েক লাখ মানুষ কাজ করছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে ২ থেকে ৩ লাখ মানুষ সরাসরি এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ভবিষ্যতেও ই-কমার্সের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ডেলিভারি ও লজিস্টিকস খাতের বিস্তার এবং কর্মসংস্থান আরও বাড়বে।’জানতে চাইলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, ‘দেশে ডেলিভারি সার্ভিস খাতটি এখন একটি বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে করোনাকালীন লকডাউনের সময় ই-কমার্স খাতে ব্যাপক বিস্তার ঘটে। ফলে অনেক নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। যারা অন্য খাতে চাকরি হারিয়েছেন, তাদের জন্য এটি একটি নতুন জব মার্কেট হিসেবে কাজ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ডেলিভারি সার্ভিসগুলো মূলত শহরকেন্দ্রিক। তবে এটি যদি ধীরে ধীরে উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে। আমাদের অনেক প্রচলিত চাকরি কমে গেলেও এ ধরনের নতুন খাতগুলো নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।’

ডিবি/ এল

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নতুন কর্মসংস্থানে লাখো তরুণের আয়ে গতি ‍

Update Time : ০৮:৫৮:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

** অনলাইন ডেলিভারি খাতে যুক্ত হচ্ছে বিপুলসংখ্যক তরুণ
** শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করছেন নিয়মিত
** ই-কমার্স সম্প্রসারণে বাড়ছে লজিস্টিকস খাতের চাহিদা
** ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা

ডিজিটাল বাণিজ্যের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে দেশে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে অনলাইন ডেলিভারি ও লজিস্টিকস খাত। রাজধানী থেকে জেলা শহর—সবখানেই এই খাত নতুন কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে উঠে এসেছে। শিক্ষার্থী, বেকার যুবক ও আংশিক কর্মজীবীরা ডেলিভারি সেবায় যুক্ত হয়ে তৈরি করছেন বিকল্প আয়ের পথ।

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বিভিন্ন কুরিয়ার, ই-কমার্স ও ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে কাজ করে বহু তরুণ মাসে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। দক্ষতা, কাজের পরিমাণ ও সময়ভেদে অনেকের আয় আরও বেশি হচ্ছে। অনেকে পূর্ণকালীন চাকরির বিকল্প হিসেবেও এ পেশাকে বেছে নিচ্ছেন। রাজধানীর একাধিক ডেলিভারি কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবারের আর্থিক সহায়তা, পড়াশোনার খরচ এবং ব্যক্তিগত ব্যয় মেটাতে তরুণরা ব্যাপকভাবে এই খাতে যুক্ত হচ্ছেন। সকাল বা নির্দিষ্ট সময় কাজ করে অনেকে দিনের বাকি সময় পড়াশোনা বা অন্যান্য কাজে ব্যয় করতে পারছেন। শুধু পণ্য সরবরাহ নয়, অনলাইন অর্ডার সংগ্রহ, পিকআপ, গুদাম ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন সহায়তাসহ নানা স্তরেও তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান। ফলে ডেলিভারি খাত ঘিরে বিস্তৃত হয়েছে একটি বড় সহায়ক অর্থনৈতিক চেইন।

প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ই-কমার্সের বিস্তার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে ডেলিভারি নেটওয়ার্কের প্রয়োজন। বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর পাশাপাশি মাঝারি ও ছোট প্রতিষ্ঠানও নতুন জনবল নিয়োগ দিচ্ছে, যার ফলে খাতটিতে কর্মসংস্থান ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এই খাত তরুণদের আয়ের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকেও গতিশীল করছে। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ডেলিভারি অবকাঠামো বিস্তৃত করা গেলে ভবিষ্যতে এ খাত আরও বড় কর্মসংস্থানের উৎসে পরিণত হতে পারে।

উত্তরার একটি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আকাশ (১৭)। পড়ালেখার পাশাপাশি পাঠাওয়ে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করেন। আকাশ বলেন, ‘বাবার এখন আয় নেই। আমাদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে ওনার কষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ডেলিভারিম্যানের কাজ করছি। মাসে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হয়। এ টাকা দিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারেও কিছু টাকা দিতে পারি।’

প্রায় একই রকম কথা বলেন নেত্রকোনার ইউসুফ (২১)। এইচএসসি পাসের পর এখন জাপানিজ ভাষা শিখছেন। ডেলিভারি সার্ভিস ম্যান হিসেবে কাজ করছেন দেশের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজে। ইউসুফের ভাষায়, ‘সাইকেলে করে প্রতিদিন ডেলিভারি দিই। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করি। মাসে ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হয়। পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করছি। মা-বাবাকেও কিছু টাকা দিতে পারছি। নিজের খরচও চালাতে পারছি।’শুধু আকাশ ও ইউসুফ নন, অনলাইন ডেলিভারি সেবায় এখন কাজ করছেন লাখো তরুণ। দেশের ই-কমার্স ও লজিস্টিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ করা তরুণদের বড় অংশই শিক্ষার্থী। অনলাইনে কেনা যে কোনো পণ্য ও খাবার তারা বাসা-বাড়িতে সরবরাহ করেন। ডেলিভারির বাহন সাইকেল ও মোটরসাইকেল।

রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় কথা হলে ডেলিভারি ম্যান ইউসুফ বলেন, ‘পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করছি। মা-বাবাকেও কিছু টাকা দিতে পারি। নিজেও চলতে পারছি। সকালে কাজ করি। পার্সেল কম থাকলে কাজ দুপুর ১টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। তখন বিকেল ও রাতে পড়ার সুযোগ পাই। লেখাপড়ার পাশাপাশি আমার মতো অনেকেই ডেলিভারি সার্ভিসে কাজ করেন।’

ডেলিভারি ম্যান আকাশ বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৫টা বা ৬টা পর্যন্ত ডেলিভারি দিই। পড়ালেখা করি সন্ধ্যার পরে। যখন পরীক্ষা থাকে তখন আগে থেকেই পাঠাও কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিই।’তিনি বলেন,‘পাঠাও এর সুপার মডেলে প্রতি পার্সেলে ২২ থেকে ২৫ টাকা করে দেয়, আর সুপার মডেল না হলে ১৩ থেকে ২২ টাকা দেয়। সুপার মডেল হতে হলে ৮০০ পার্সেল দিতে হয় এবং রেটিং ৮৮ থাকতে হয়।’বাড্ডায় কথা হলে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘অথবা’র ডেলিভারিম্যান হাসিব বলেন, ‘কয়েকদিন হলো ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ শুরু করেছি। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় পার্সেল সাপ্লাই দিই। আয় ভালোই হচ্ছে। মাসে ২০ হাজার টাকারও বেশি আয় হচ্ছে। আগে অন্য কাজ করতাম, এখন এ কাজ করে ভালোই লাগছে।’

ভোলার তানভীর (২০) থাকেন মিরপুরে। লেখাপড়া তেমন করা হয়ে ওঠেনি তার। মাঝেমধ্যে সে ডেলিভারি ম্যানের কাজ করেন। তানভীর বলেন, ‘আমি হাফ বেলা কাজ করি। কোনো দিন ৫০০ টাকা বা তার কমবেশি আয় করি। অনেকে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ হাজার কিংবা কেউ ৭ হাজার টাকাও আয় করতে পারেন।’

শুধু পণ্য সরবরাহই নয়, পণ্য সংগ্রহেও যুক্ত অনেকে। বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে পাঠাও কিংবা অন্য ডেলিভারি সার্ভিসগুলো গ্রাহকের দেওয়া অর্ডারের পণ্যগুলো প্রথমে সংগ্রহ করে। এ পণ্য সংগ্রহের কাজেও অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। কাফরুলের একটি ই-কমার্স পেজের অফিস থেকে প্রতিদিন পণ্য সংগ্রহ করে একজন পিকআপম্যান ও একজন ভ্যানচালক। পাঠাওয়ে কাজ করা পিকআপ ম্যান (পণ্য সংগ্রহকারী) হাবিব বলেন, ‘দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য সংগ্রহ করি। মাসে আমাকে ১৩ হাজার টাকা বেতন দেয়।’

ভ্যানচালক রহিম বলেন, ‘আমি দুপুর থেকে ভ্যানে করে পাঠাওয়ের মাল সংগ্রহ করি। মাসে বেতন দেয় ১৫ হাজার টাকা।’পাঠাওয়ে ১০ হাজারের বেশি ডেলিভারিম্যান
পাঠাও কুরিয়ারে সারাদেশে এখন ১০ হাজারের বেশি ডেলিভারি এজেন্ট আছেন। এর মধ্যে ৮ হাজার এজেন্ট মোটরসাইকেলে পার্সেল পরিবহন করেন, আর দুই হাজার ডেলিভারিম্যান সেবা দেন সাইকেলে।পাঠাও বলছে, ডেলিভারি কমিশনের মাধ্যমে এজেন্টরা গড়ে প্রতি মাসে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেন, যা উৎসবের সময় ৫০ হাজার টাকারও বেশি হয়। প্রতিষ্ঠানটি এজেন্টদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত সেফটি ট্রেনিং দেয়। একই সঙ্গে নিজস্ব তহবিল থেকে দুর্ঘটনা কাভারেজ হিসেবে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সুবিধা দেয়।

জানতে চাইলে পাঠাও লিমিটেডের সিইও ফাহিম আহমেদ বলেন, ‘পাঠাও কুরিয়ারে আমরা সারাদেশে অর্থবহ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে অবিচল। হাজার হাজার মানুষের জন্য আয়ের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা কেবল তাদের জীবিকাই নিশ্চিত করছি না; বরং একটি ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তি এমনভাবে ক্ষমতায়ন করছি যাতে তারা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশীদার হয়ে উঠতে পারেন।’স্টেডফাস্ট কুরিয়ারে ডেলিভারিতে কর্মসংস্থান ৫ হাজার।

আরেক জনপ্রিয় কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্টেডফাস্টে বর্তমানে ৮ থেকে ১০ হাজার কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ করেন ৪ হাজার ৫ হাজার। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ডেলিভারিম্যানরা মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। দারাজের ডেলিভারিতে বহু কর্মসংস্থান: দেশের ই-কমার্স খাতে লজিস্টিকস ও ডেলিভারি সেবায় দারাজ বেশ এগিয়ে। সারাদেশে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে রয়েছে ৬৬টি লাস্ট-মাইল হাব ও ৪০০টিরও বেশি ডেলিভারিভ্যান। প্রতিদিন এক হাজার ২শ জনেরও বেশি ডেলিভারি রাইডার সরাসরি গ্রাহকের দোরগোড়ায় পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন। এ লজিস্টিকস প্রসারের ফলে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ।

জানতে চাইলে দারাজ বাংলাদেশের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার এ এইচ এম হাসিনুল কুদ্দুস রুশো বলেন, ‘বাংলাদেশে ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে রাইডারদের কর্মসংস্থানের যে ধারা দারাজ শুরু করেছিল, তার সুফল আজ সারাদেশে দৃশ্যমান। বর্তমানে দেশে প্রায় এক লাখেরও বেশি মানুষ ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করছেন। দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন রাইডার মাসে ২৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারছেন। দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে এ খাতটি এখন অন্যতম শক্তিশালী চালিকাশক্তি।’নিজস্ব ডেলিভারিম্যানে নজর অথবার: প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘অথবা’। স্বল্প পরিসরে নিজস্ব ডেলিভারিম্যান রয়েছে ই-কমার্স সাইটটির। গ্রাহকদের পণ্য সরবরাহে প্রতিষ্ঠানটি মূলত লজিস্টিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সেবা নেয়।ফুডপান্ডায় নিবন্ধিত ডেলিভারি ম্যান লাখের বেশি
বাসাবাড়িতে রান্না করা খাবার সরবরাহে ফুডপান্ডা এখন বেশ জনপ্রিয়। প্রিয়জনের পছন্দের খাবার কিংবা সন্তানের জন্য বাইরের খাবার অর্ডার করতে অনেকেই ফুডপান্ডার আশ্রয় নেন। এসব খাবার বাসায় পৌঁছে দিতে ফুডপান্ডারও রয়েছে নিজস্ব ডেলিভারিম্যান। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে এক লাখেরও বেশি ডেলিভারি ম্যানের নিবন্ধন রয়েছে।

জানতে চাইলে ফুডপান্ডা বাংলাদেশের হেড অব পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৩ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি ডেলিভারি পার্টনার ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ফুডপান্ডায় নিবন্ধন করেন। ডেলিভারি পার্টনাররা নিজেদের স্বাধীনতা অনুযায়ী কাজ করতে পারেন ও কত সময় কাজ করবেন তা নিজেরাই নির্ধারণ করেন। ডিজিটাল ইকনোমির অংশ হিসেবে এ খাতটি প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে এবং দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর আয়ের সুযোগ তৈরিতে এ খাতের অবদান অনেক। আরও কর্মসংস্থান ও বড় হবে অনলাইন ডেলিভারি: খাতটিতে বর্তমানে কয়েক লাখ কর্মসংস্থান হয়েছে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতে এ খাতে আরও বহু কর্মসংস্থান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ই-কমার্সের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাতটি আরও বড় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানতে চাইলে ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাবের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘দেশে ই-কমার্স খাত যত দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে, ডেলিভারি ও লজিস্টিকস সেক্টরও ঠিক একইভাবে বড় হচ্ছে। কারণ অনলাইনে অর্ডার হওয়া প্রতিটি পণ্য শেষ পর্যন্ত ডেলিভারি কোম্পানির মাধ্যমেই গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়। ফলে এ খাতটি পুরোপুরি ই-কমার্সের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে পাঠাও, স্টেডফাস্ট ই-কুরিয়ার, বাহকসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান ভালো অবস্থানে রয়েছে। তারা উল্লেখযোগ্য হারে কর্মসংস্থান তৈরি করছে। শুধু স্টেডফাস্টেই প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে এ খাতে কয়েক লাখ মানুষ কাজ করছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে ২ থেকে ৩ লাখ মানুষ সরাসরি এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ভবিষ্যতেও ই-কমার্সের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ডেলিভারি ও লজিস্টিকস খাতের বিস্তার এবং কর্মসংস্থান আরও বাড়বে।’জানতে চাইলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, ‘দেশে ডেলিভারি সার্ভিস খাতটি এখন একটি বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে করোনাকালীন লকডাউনের সময় ই-কমার্স খাতে ব্যাপক বিস্তার ঘটে। ফলে অনেক নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। যারা অন্য খাতে চাকরি হারিয়েছেন, তাদের জন্য এটি একটি নতুন জব মার্কেট হিসেবে কাজ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ডেলিভারি সার্ভিসগুলো মূলত শহরকেন্দ্রিক। তবে এটি যদি ধীরে ধীরে উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে। আমাদের অনেক প্রচলিত চাকরি কমে গেলেও এ ধরনের নতুন খাতগুলো নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।’

ডিবি/ এল