Dhaka ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রিন্স শুটিং কেন থেমেছিল

নিজেস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

ঢালিউড অভিনেতা শাকিব খানের আলোচিত সিনেমা ‘প্রিন্স : ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ এবারের ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত পেয়েছে। সেই সিনেমা ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না।

মুক্তির পর প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও নির্মাণগত নানা সমালোচনার মধ্যেই এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু।

সম্প্রতি পরিচালক সমিতি আয়োজিত ‘আমাদের চলচ্চিত্র, আজকের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে খসরু দাবি করে বলেন, ‘প্রিন্স’ সিনেমাটির নির্মাণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের জটিলতা ছিল।

শুধু ডাবিং নয়, শ্রীলংকায় ১৬ দিন থাকার পরও শুটিং করতে পারেনি প্রিন্স টিম বলে জানান তিনি।

অভিযোগ তুলে খসরু আরও বলেন, ভারতে শুটিং চলাকালে অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের দাবি ওঠায় ডাবিং কার্যক্রমও বন্ধ ছিল, যা পুরো প্রজেক্টকে আরও জটিল করে তোলা হয়। যদিও সরাসরি কারকরা হয়নি। তবে এ আলোচনায় বিতর্কের নতুন জন্ম দিয়েছে।

সিনেমাটি মুক্তির আগে সামাজিক মাধ্যমে এ বিষয়টি নিয়ে তুমুল চর্চা হয়। ঈদের সময় ঘনিয়ে এলেও সিনেমার শুটিং আটকে রেখে শ্রীলংকায় অন্য একটি প্রজেক্টের শুটিং করছিলেন শাকিব খান। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে সিনেমাপাড়ায় কানাঘুষা চলছিল—সেখানেই বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

খোরশেদ আলম খসরু বলেন, প্রিন্স মুক্তির পর সবাই মিলে প্রযোজককে দোষ দেওয়া হলো। কিন্তু ঠিক সময়ে সিনেমা শেষ করতে কেন পারল না, অসম্পূর্ণ সিনেমা কেন রিলিজ দিল— সবাই মিলে নতুন প্রযোজককে চেপে ধরা হলো।

তিনি বলেন, ভেতরের কাহিনি কি জানার চেষ্টা করেছে কেউ? একটি ইউনিট যদি ১৬ দিন শ্রীলংকায় গিয়ে বসে থাকে অথচ শুটিং হয় না, তার দায়ভার কার? সেখানে একজন প্রযোজকের কী করার আছে। আবার ভারতে গিয়ে বাড়তি টাকার জন্য ডাবিং বন্ধ থাকে। যেখানে চুক্তির বেশিরভাগ টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রযোজক সমিতি কার্যকর থাকলে এ বিষয়টি এতদূর গড়াত না বলেও দাবি করেন খোরশেদ আলম খসরু। তিনি বলেন, প্রযোজক সমিতি সক্রিয় থাকলে এমন সংকট এতদূর গড়াত না।

সমিতি থাকলে শুটিং বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখা, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান বের করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডাবিং শেষ করার মতো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হতো।

তিনি বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণের শেষ পর্যায়ে আর্থিক চাপ তৈরি হওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়, তবে সে কারণে কাজ থেমে থাকা বা অসম্পূর্ণ অবস্থায় মুক্তি পাওয়া, কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পেশাদারি ও দায়বদ্ধতার ঘাটতিই এসব সমস্যার মূল কারণ বলে জানিয়েছেন খসরু।

ঈদুল ফিতরে মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি নানা সমালোচনার মুখে পড়ে। সাউন্ড, ভিএফএক্স, পোস্ট-প্রোডাকশন ত্রুটি এবং গল্পের অসঙ্গতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন দর্শকরা।

প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে দেশের অন্যতম মাল্টিপ্লেক্স স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রথম কয়েক দিন সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়নি। কিছু সিঙ্গেল স্ক্রিনেও মুক্তির দিন প্রদর্শনী ব্যাহত হয়। পরে এসব ত্রুটির কথা স্বীকার করে বিশেষ প্রদর্শনীতে ক্ষমা চান সিনেমার প্রধান অভিনেতা শাকিব খান।

এ প্রসঙ্গে ‘প্রিন্স : ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমাটির পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ বলেন, প্রিন্সের শুটিং বা ডাবিংয়ে শাকিব খান বাড়তি পারিশ্রমিক দাবি করেন, এই অভিযোগ সত্যি নয়। এমন আরও অনেক গুজব চারপাশে শোনা যাচ্ছে। কোনোটাই ঠিক নয়।

তিনি বলেন, আমি বা আমরা কোথাও এমন কোনো অভিযোগ আনিনি। জানি না এ কথাগুলো কেন ছড়াল? যিনি এ অভিযোগ জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ তার রেসপনসিবিলিটি।

উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকের এক গ্যাংস্টারের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘প্রিন্স’ সিনেমায় শাকিব খান ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য ও ইন্তেখাব দিনার প্রমুখ।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রিন্স শুটিং কেন থেমেছিল

Update Time : ০৪:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

ঢালিউড অভিনেতা শাকিব খানের আলোচিত সিনেমা ‘প্রিন্স : ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ এবারের ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত পেয়েছে। সেই সিনেমা ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না।

মুক্তির পর প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও নির্মাণগত নানা সমালোচনার মধ্যেই এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু।

সম্প্রতি পরিচালক সমিতি আয়োজিত ‘আমাদের চলচ্চিত্র, আজকের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে খসরু দাবি করে বলেন, ‘প্রিন্স’ সিনেমাটির নির্মাণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের জটিলতা ছিল।

শুধু ডাবিং নয়, শ্রীলংকায় ১৬ দিন থাকার পরও শুটিং করতে পারেনি প্রিন্স টিম বলে জানান তিনি।

অভিযোগ তুলে খসরু আরও বলেন, ভারতে শুটিং চলাকালে অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের দাবি ওঠায় ডাবিং কার্যক্রমও বন্ধ ছিল, যা পুরো প্রজেক্টকে আরও জটিল করে তোলা হয়। যদিও সরাসরি কারকরা হয়নি। তবে এ আলোচনায় বিতর্কের নতুন জন্ম দিয়েছে।

সিনেমাটি মুক্তির আগে সামাজিক মাধ্যমে এ বিষয়টি নিয়ে তুমুল চর্চা হয়। ঈদের সময় ঘনিয়ে এলেও সিনেমার শুটিং আটকে রেখে শ্রীলংকায় অন্য একটি প্রজেক্টের শুটিং করছিলেন শাকিব খান। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে সিনেমাপাড়ায় কানাঘুষা চলছিল—সেখানেই বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

খোরশেদ আলম খসরু বলেন, প্রিন্স মুক্তির পর সবাই মিলে প্রযোজককে দোষ দেওয়া হলো। কিন্তু ঠিক সময়ে সিনেমা শেষ করতে কেন পারল না, অসম্পূর্ণ সিনেমা কেন রিলিজ দিল— সবাই মিলে নতুন প্রযোজককে চেপে ধরা হলো।

তিনি বলেন, ভেতরের কাহিনি কি জানার চেষ্টা করেছে কেউ? একটি ইউনিট যদি ১৬ দিন শ্রীলংকায় গিয়ে বসে থাকে অথচ শুটিং হয় না, তার দায়ভার কার? সেখানে একজন প্রযোজকের কী করার আছে। আবার ভারতে গিয়ে বাড়তি টাকার জন্য ডাবিং বন্ধ থাকে। যেখানে চুক্তির বেশিরভাগ টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রযোজক সমিতি কার্যকর থাকলে এ বিষয়টি এতদূর গড়াত না বলেও দাবি করেন খোরশেদ আলম খসরু। তিনি বলেন, প্রযোজক সমিতি সক্রিয় থাকলে এমন সংকট এতদূর গড়াত না।

সমিতি থাকলে শুটিং বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখা, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান বের করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডাবিং শেষ করার মতো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হতো।

তিনি বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণের শেষ পর্যায়ে আর্থিক চাপ তৈরি হওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়, তবে সে কারণে কাজ থেমে থাকা বা অসম্পূর্ণ অবস্থায় মুক্তি পাওয়া, কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পেশাদারি ও দায়বদ্ধতার ঘাটতিই এসব সমস্যার মূল কারণ বলে জানিয়েছেন খসরু।

ঈদুল ফিতরে মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি নানা সমালোচনার মুখে পড়ে। সাউন্ড, ভিএফএক্স, পোস্ট-প্রোডাকশন ত্রুটি এবং গল্পের অসঙ্গতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন দর্শকরা।

প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে দেশের অন্যতম মাল্টিপ্লেক্স স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রথম কয়েক দিন সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়নি। কিছু সিঙ্গেল স্ক্রিনেও মুক্তির দিন প্রদর্শনী ব্যাহত হয়। পরে এসব ত্রুটির কথা স্বীকার করে বিশেষ প্রদর্শনীতে ক্ষমা চান সিনেমার প্রধান অভিনেতা শাকিব খান।

এ প্রসঙ্গে ‘প্রিন্স : ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমাটির পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ বলেন, প্রিন্সের শুটিং বা ডাবিংয়ে শাকিব খান বাড়তি পারিশ্রমিক দাবি করেন, এই অভিযোগ সত্যি নয়। এমন আরও অনেক গুজব চারপাশে শোনা যাচ্ছে। কোনোটাই ঠিক নয়।

তিনি বলেন, আমি বা আমরা কোথাও এমন কোনো অভিযোগ আনিনি। জানি না এ কথাগুলো কেন ছড়াল? যিনি এ অভিযোগ জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ তার রেসপনসিবিলিটি।

উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকের এক গ্যাংস্টারের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘প্রিন্স’ সিনেমায় শাকিব খান ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য ও ইন্তেখাব দিনার প্রমুখ।