ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে
জামায়াত আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দেশের ইতিহাসে বারবার জনগণের ভোটাধিকার হরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে বলেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তার মূল লক্ষ্যই হলো দেশে যেন আর কখনও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে।মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তিনি সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ বিষয়ে আলোচনার সূচনায় এসব মন্তব্য করেন।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে কোনো রাজতন্ত্র নেই, সেখানে জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সরকার গঠিত হয়। তবে দুঃখের বিষয়, অতীতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের ভোটাধিকার অধিকার খর্ব করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ১৯৭৫ সালের পর বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যা সংবিধানেও স্বীকৃত হয়।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালের পর ক্ষমতাসীনরা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে ডামি ও প্রহসনের নির্বাচন চালিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে জাতির ওপর দমন চাপিয়ে বহু মানুষ হত্যা, গুম করেছে। ২৩৫ জন এখনও পরিবারে ফিরে আসেননি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ২,৬৬২ জন যারা ন্যূনতম বিচার পাননি। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ধ্বংস হয়ে দলীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।দেশের প্রথম নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের কারণে যারা সুযোগ পেয়েছিলেন, তারাই বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। বাহাত্তরের সংবিধানে একদলীয় শাসনব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হয়ে যাওয়ায় জনগণের ভোটের আর কোনও মূল্যায়ন ছিল না।জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তরুণ ছাত্রসমাজের দাবানল জ্বলে ওঠে, যা ৫ আগস্ট পরিণতি পায়। এই জন্যই দেশের ক্যালেন্ডারে ৩৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই আন্দোলনে শুধু ছাত্র নয়, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি জনতা, মা ও শিশু—সবাই অংশগ্রহণ করে। দুধের শিশু নিয়ে মা রাস্তায় নেমেছিলেন এবং চার বছরের শিশুও এই আন্দোলনে শহীদ হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ উত্থাপনের প্রেক্ষাপট হলো এত রক্তের বিনিময়ে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা হলো ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে। ন্যায় ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি সমতাভিত্তিক দেশ কায়েম হবে। এই আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে প্রধান রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করেছেন।




















