Dhaka ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি সৈয়দ আব্দুল হাদীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

বাংলা সংগীতের আকাশে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকা কিংবদন্তি শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির নতুন সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন। বাংলা গানে অসামান্য অবদান, অনন্য কণ্ঠমাধুর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ করার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বিশেষ সম্মাননা দিচ্ছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

আগামী ১২ জুন সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনে ‘কালজয়ী কণ্ঠ: শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সৈয়দ আব্দুল হাদী’ নামে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে শিল্পীর হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।

শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, অর্ধশতাব্দীরও অধিক সময় ধরে বাংলা গানকে নিজস্ব কণ্ঠমাধুর্য, শিল্পনিষ্ঠা ও অনবদ্য পরিবেশনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ঋদ্ধ করার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের সংগীত ভুবনের জীবন্ত কিংবদন্তি সৈয়দ আব্দুল হাদীকে এই বিশেষ সম্মাননা দিচ্ছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

সম্মাননাপ্রাপ্তির খবরে নিজের অনুভূতি জানিয়ে সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, ‘দীর্ঘ সংগীতজীবনে ভক্ত-শ্রোতাদের এত বেশি ভালোবাসা পেয়েছি, সম্মানিত হয়েছি যে জীবনের এই পর্যায়ে এসে আর কোনো প্রাপ্তি বা সম্মাননা বিশেষভাবে পুলকিত করে না বা আনন্দিত করে না।

তারপরও রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাকে নিয়ে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এটা একজন শিল্পী হিসেবে অবশ্যই ভালো লাগার। আশা করছি আমাকে ঘিরে এ আয়োজন সুন্দর হবে এবং সবার কাছে উপভোগ্য হবে। যারা এই আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করবে, তাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে শুভ কামনা রইল। আন্তরিক কৃতজ্ঞতা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিল্পকলা একাডেমির প্রতি।’

সৈয়দ আব্দুল হাদী জানান, এই আয়োজনে তিনি সংগীত পরিবেশন না করলেও তার কণ্ঠের কালজয়ী গানগুলো আমন্ত্রিত শ্রোতা-দর্শককে গেয়ে শোনাবেন রাশেদ, আতিক, অপু আমান, কোনাল, অনন্যা, সুস্মিতাসহ এই প্রজন্মের শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে সৈয়দ আব্দুল হাদীকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। থাকবে আলোচনা পর্ব।

এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল। ওই দিন সাবিনা ইয়াসমীনের সংগীতজীবন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তার গান নিয়ে ছিল বিশেষ পরিবেশনা।

সিনেমায় গান গেয়ে সৈয়দ আব্দুল হাদী সেরা গায়ক হিসেবে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ (১৯৭৮), ‘সুন্দরী ’(১৯৭৯), ‘কসাই’ (১৯৮০), ‘গরিবের বউ’ (১৯৯০) এবং ‘ক্ষমা’ (১৯৯২) সিনেমায় প্লেব্যাক করার জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

তাঁর গাওয়া জনপ্রিয় কয়েকটি গান ‘আছেন আমার মুক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার’, ‘আমি তোমারি প্রেম ভিখারি’, ‘চোক্ষের নজর এমনি কইরা’, ‘যেও না সাথি’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি’, ‘তেল গেলে ফুরাইয়া’ ইত্যাদি।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি সৈয়দ আব্দুল হাদীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

Update Time : ০৮:০০:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
12 / 100 SEO Score

বাংলা সংগীতের আকাশে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকা কিংবদন্তি শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির নতুন সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন। বাংলা গানে অসামান্য অবদান, অনন্য কণ্ঠমাধুর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ করার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বিশেষ সম্মাননা দিচ্ছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

আগামী ১২ জুন সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনে ‘কালজয়ী কণ্ঠ: শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সৈয়দ আব্দুল হাদী’ নামে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে শিল্পীর হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।

শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, অর্ধশতাব্দীরও অধিক সময় ধরে বাংলা গানকে নিজস্ব কণ্ঠমাধুর্য, শিল্পনিষ্ঠা ও অনবদ্য পরিবেশনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ঋদ্ধ করার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের সংগীত ভুবনের জীবন্ত কিংবদন্তি সৈয়দ আব্দুল হাদীকে এই বিশেষ সম্মাননা দিচ্ছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

সম্মাননাপ্রাপ্তির খবরে নিজের অনুভূতি জানিয়ে সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, ‘দীর্ঘ সংগীতজীবনে ভক্ত-শ্রোতাদের এত বেশি ভালোবাসা পেয়েছি, সম্মানিত হয়েছি যে জীবনের এই পর্যায়ে এসে আর কোনো প্রাপ্তি বা সম্মাননা বিশেষভাবে পুলকিত করে না বা আনন্দিত করে না।

তারপরও রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাকে নিয়ে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এটা একজন শিল্পী হিসেবে অবশ্যই ভালো লাগার। আশা করছি আমাকে ঘিরে এ আয়োজন সুন্দর হবে এবং সবার কাছে উপভোগ্য হবে। যারা এই আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করবে, তাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে শুভ কামনা রইল। আন্তরিক কৃতজ্ঞতা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিল্পকলা একাডেমির প্রতি।’

সৈয়দ আব্দুল হাদী জানান, এই আয়োজনে তিনি সংগীত পরিবেশন না করলেও তার কণ্ঠের কালজয়ী গানগুলো আমন্ত্রিত শ্রোতা-দর্শককে গেয়ে শোনাবেন রাশেদ, আতিক, অপু আমান, কোনাল, অনন্যা, সুস্মিতাসহ এই প্রজন্মের শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে সৈয়দ আব্দুল হাদীকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। থাকবে আলোচনা পর্ব।

এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল। ওই দিন সাবিনা ইয়াসমীনের সংগীতজীবন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তার গান নিয়ে ছিল বিশেষ পরিবেশনা।

সিনেমায় গান গেয়ে সৈয়দ আব্দুল হাদী সেরা গায়ক হিসেবে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ (১৯৭৮), ‘সুন্দরী ’(১৯৭৯), ‘কসাই’ (১৯৮০), ‘গরিবের বউ’ (১৯৯০) এবং ‘ক্ষমা’ (১৯৯২) সিনেমায় প্লেব্যাক করার জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

তাঁর গাওয়া জনপ্রিয় কয়েকটি গান ‘আছেন আমার মুক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার’, ‘আমি তোমারি প্রেম ভিখারি’, ‘চোক্ষের নজর এমনি কইরা’, ‘যেও না সাথি’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি’, ‘তেল গেলে ফুরাইয়া’ ইত্যাদি।