Dhaka ১২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নাক না গলাতে মাস্ককে সতর্ক করলেন কিয়ার স্টারমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মালিক ইলন মাস্ককে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

গত বছরের একটি হত্যাকাণ্ডর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও ক্ষোভের মধ্যে মাস্ক এক্সে বিতর্কিত পোস্ট করার পর বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্টারমার এই প্রতিক্রিয়া জানান।

ঘটনার সূত্রপাত, গত বছর ১৮ বছরের তরুণ হেনরি নোয়াক ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে হামলাকারী শিখ যুবকের বর্ণবাদী হামলার অভিযোগ শুনে হেনরিকে সাহায্যের বদলে হাতকড়া পরিয়ে রাখে। পরে হেনরি মারা যান। পরবর্তীতে জানা যায়, হামলাকারীর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল।

সোমবার আদালত হামলাকারীর সাজা ঘোষণা করার পর পুলিশের বডিক্যাম ভিডিও প্রকাশিত হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মৃত্যুপথযাত্রী নির্দোষ তরুণের আকুতি পুলিশ অফিসাররা আমলে নিচ্ছেন না। এ ঘটনায় সারা যুক্তরাজ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ ওঠে।

এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে ইলন মাস্ক এক্সে পোস্ট করে পুলিশের আচরণের সমালোচনা করেন এবং শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, পশ্চিমা সমাজে কাউকে বর্ণবাদী বলাটাই এখন সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এমনকি ধর্ষণ বা খুনের চেয়েও।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এর জবাবে বলেন, মাস্ক কয়েক দিন ধরে আমাদের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন। কিন্তু যুক্তরাজ্য এভাবে চলে না। তিনি পুলিশের জবাবদিহিতার ওপর জোর দিলেও বিক্ষোভের নামে সহিংসতার তীব্র নিন্দা করেন।

নিহত হেনরির পরিবারও স্টারমারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনাকে অমানবিক বলে উল্লেখ করেছেন। তবে তারা চান না যে তাদের ছেলের মৃত্যুকে কোনো রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক বিভেদের হাতিয়ার বানানো হোক।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে ইলন মাস্কের এ দ্বন্দ্ব নতুন নয়। আগেও একাধিকবার স্টারমারের তীব্র সমালোচনা করেছেন এই ধনকুবের। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মাস্ক স্টারমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, প্রধান সরকারি কৌঁসুলি থাকাকালীন তিনি দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত তরুণীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো একটি অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার।

এছাড়া স্টারমার তার লেবার পার্টির এক নারী সংসদ সদস্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যিনি গ্রোক এআই ব্যবহার করে নিজের বিকৃত ছবি তৈরির অভিযোগ এনেছেন মাস্কের বিরুদ্ধে।

বর্তমানে মাস্কের স্পেসএক্স কোম্পানি আমেরিকায় বড় আইপিও করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সময়ে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে তার এই টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সূত্র: রয়টার্স

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নাক না গলাতে মাস্ককে সতর্ক করলেন কিয়ার স্টারমার

Update Time : ১২:৫২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
8 / 100 SEO Score

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মালিক ইলন মাস্ককে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

গত বছরের একটি হত্যাকাণ্ডর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও ক্ষোভের মধ্যে মাস্ক এক্সে বিতর্কিত পোস্ট করার পর বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্টারমার এই প্রতিক্রিয়া জানান।

ঘটনার সূত্রপাত, গত বছর ১৮ বছরের তরুণ হেনরি নোয়াক ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে হামলাকারী শিখ যুবকের বর্ণবাদী হামলার অভিযোগ শুনে হেনরিকে সাহায্যের বদলে হাতকড়া পরিয়ে রাখে। পরে হেনরি মারা যান। পরবর্তীতে জানা যায়, হামলাকারীর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল।

সোমবার আদালত হামলাকারীর সাজা ঘোষণা করার পর পুলিশের বডিক্যাম ভিডিও প্রকাশিত হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মৃত্যুপথযাত্রী নির্দোষ তরুণের আকুতি পুলিশ অফিসাররা আমলে নিচ্ছেন না। এ ঘটনায় সারা যুক্তরাজ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ ওঠে।

এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে ইলন মাস্ক এক্সে পোস্ট করে পুলিশের আচরণের সমালোচনা করেন এবং শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, পশ্চিমা সমাজে কাউকে বর্ণবাদী বলাটাই এখন সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এমনকি ধর্ষণ বা খুনের চেয়েও।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এর জবাবে বলেন, মাস্ক কয়েক দিন ধরে আমাদের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন। কিন্তু যুক্তরাজ্য এভাবে চলে না। তিনি পুলিশের জবাবদিহিতার ওপর জোর দিলেও বিক্ষোভের নামে সহিংসতার তীব্র নিন্দা করেন।

নিহত হেনরির পরিবারও স্টারমারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনাকে অমানবিক বলে উল্লেখ করেছেন। তবে তারা চান না যে তাদের ছেলের মৃত্যুকে কোনো রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক বিভেদের হাতিয়ার বানানো হোক।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে ইলন মাস্কের এ দ্বন্দ্ব নতুন নয়। আগেও একাধিকবার স্টারমারের তীব্র সমালোচনা করেছেন এই ধনকুবের। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মাস্ক স্টারমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, প্রধান সরকারি কৌঁসুলি থাকাকালীন তিনি দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত তরুণীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো একটি অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার।

এছাড়া স্টারমার তার লেবার পার্টির এক নারী সংসদ সদস্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যিনি গ্রোক এআই ব্যবহার করে নিজের বিকৃত ছবি তৈরির অভিযোগ এনেছেন মাস্কের বিরুদ্ধে।

বর্তমানে মাস্কের স্পেসএক্স কোম্পানি আমেরিকায় বড় আইপিও করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সময়ে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে তার এই টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সূত্র: রয়টার্স