Dhaka ০৭:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০৩০ লক্ষ্য নিয়ে রেলের রোডম্যাপ দাউদকান্দিতে চালবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ৭ শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ প্ল্যাকার্ডে ভিন্ন বার্তা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হরমুজ পার করলো চীনা জাহাজ শুরু বৈশাখী শোভাযাত্রা, চারুকলা থেকে বর্ণিল আয়োজনে মানুষের ঢল ইরানি নারী ফুটবল দলের অধিনায়কের বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফেরত দিচ্ছে সরকার আজও সাতসকালে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ: ‘জাগো আলোক-লগ্নে’ গানে নববর্ষের সূচনা টাঙ্গাইলে আজ ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী বৈশাখী শোভাযাত্রা ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কড়া নিরাপত্তা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়লো

12 / 100 SEO Score

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম শুক্রবার বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে টানা তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক ভিত্তিতে তেলের দাম বাড়তে পারে।

এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেরপ্রতি ৩৩ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১.৯৯ ডলারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৬২ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬৭.০৫ ডলার।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় সরবরাহ ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উদ্বেগ তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।

ইরান তেলসমৃদ্ধ আরব উপদ্বীপের বিপরীতে হরমুজ প্রণালীর ওপারে অবস্থিত। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানকে সতর্ক করে বলেন, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দ্রুত চুক্তিতে না এলে খুব খারাপ পরিণতি হবে। তিনি ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন।

অন্যদিকে ইরান রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌমহড়ার পরিকল্পনা করেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এর কয়েকদিন আগে দেশটি সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেছিল।

তেলের দাম বাড়ার পেছনে আরেকটি কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়া।

মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৯০ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে শোধনাগারের ব্যবহার এবং রপ্তানি বেড়েছে।

তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ভোক্তা যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কীভাবে নির্ধারিত হবে—এই অনিশ্চয়তা তেলের দামের উত্থান সীমিত রাখছে। উচ্চ সুদের হার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমাতে পারে, যা জ্বালানির চাহিদার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে তেলের বাজারে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়লো

Update Time : ০৯:২২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
12 / 100 SEO Score

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম শুক্রবার বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে টানা তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক ভিত্তিতে তেলের দাম বাড়তে পারে।

এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেরপ্রতি ৩৩ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১.৯৯ ডলারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৬২ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬৭.০৫ ডলার।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় সরবরাহ ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উদ্বেগ তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।

ইরান তেলসমৃদ্ধ আরব উপদ্বীপের বিপরীতে হরমুজ প্রণালীর ওপারে অবস্থিত। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানকে সতর্ক করে বলেন, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দ্রুত চুক্তিতে না এলে খুব খারাপ পরিণতি হবে। তিনি ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন।

অন্যদিকে ইরান রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌমহড়ার পরিকল্পনা করেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এর কয়েকদিন আগে দেশটি সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেছিল।

তেলের দাম বাড়ার পেছনে আরেকটি কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়া।

মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৯০ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে শোধনাগারের ব্যবহার এবং রপ্তানি বেড়েছে।

তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ভোক্তা যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কীভাবে নির্ধারিত হবে—এই অনিশ্চয়তা তেলের দামের উত্থান সীমিত রাখছে। উচ্চ সুদের হার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমাতে পারে, যা জ্বালানির চাহিদার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে তেলের বাজারে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স