রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রয়োজন বৈশ্বিক সহায়তা
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ছায়াতলে বাংলাদেশের জন্য আরও ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক তহবিল প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে বাংলাদেশে ৮র আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইক এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এ তিনি এ কথা বলেন।
অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (SDG) বাস্তবায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সমর্থন ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাতিসংঘের দৃশ্যমান ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জবাবে আবাসিক সমন্বয়কারী বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণে অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ক আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করার বিষয়ে মন্ত্রীর মতামত ও পরামর্শ কামনা করেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী SDG বাস্তবায়নে জাতিসংঘের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শুরু থেকেই বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে রেখেছে। তবে বর্তমানে এটি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ছায়াতলে বাংলাদেশের জন্য আরও ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক তহবিল প্রয়োজন।
এ সময় আবাসিক সমন্বয়কারী বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক সহায়তা ও উদারতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এত বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর দীর্ঘমেয়াদি বোঝা বাংলাদেশের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পরিশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীকে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের জন্য স্বাগত জানান। অপরদিকে আবাসিক সমন্বয়কারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের হেড অব অফিস লুইস বারবার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ।





















