Dhaka ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরিকদের মান ভাঙাতেই কি প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
7 / 100 SEO Score

 

****জেএসডি ও জমিয়ত নৈশভোজ বর্জন করছে
***দুই দলের সঙ্গেই বিএনপির রাজনৈতিক সম্পর্ক বহাল রয়েছে
***জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে নজর রাজনৈতিক মহলের

দীর্ঘদিন পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একই টেবিলে বসতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নৈশভোজ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং শরিক দলগুলোর সঙ্গে দূরত্ব কমানো, অভিমান দূর করা এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে। বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্রও জানিয়েছে, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আরও সক্রিয়ভাবে পাশে রাখতে চায় দলটি। সেই লক্ষ্যেই তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের এই আয়োজন।

তবে নৈশভোজে কী ধরনের বার্তা দেওয়া হবে বা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে শরিকদের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
তবে এ আয়োজনে অংশ নেবেন না তাদের অন্যতম দুই মিত্র জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) শীর্ষ নেতারা। যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
হঠাৎ কেন এই আয়োজন: সরকার গঠনের প্রায় পাঁচ মাস পার হলেও যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। এতে জোটের কয়েকটি দলের মধ্যে এক ধরনের অভিমান ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। এমনকি সরকারে নিজেদের অবস্থান ও মূল্যায়ন নিয়েও কিছু শরিকের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কার্যক্রমও অনেকটাই সীমিত ছিল।

এমন পরিস্থিতিতে শরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা এবং দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এই নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে বলে বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি। দলটির মতে, অতীতের রাজনৈতিক লড়াইয়ে পাশে থাকা মিত্রদের সঙ্গে ভবিষ্যতেও ঐক্য বজায় রাখতে চায় বিএনপি।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানও জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সবক্ষেত্রেই শরিকদের পাশে রাখতে আগ্রহী। তার আশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে এবং রাজনৈতিক সমন্বয় নতুন গতি পাবে।

 

এদিকে, জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সরকার গঠনের পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে শরিকদের সঙ্গে বসছেন। তার মতে, এটি অভিমান দূর করার একটি উদ্যোগ হতে পারে এবং এর ফলে সরকার ও শরিকদের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্বও কিছুটা কমতে পারে। তবে এই বৈঠকের পর শরিক দলগুলোকে সরকারে বা রাজনৈতিকভাবে কতটা মূল্যায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

যুগপৎ জোটে কারা আছেন, কারা সরে গেছেন: জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক পথ আলাদা হওয়ার পর বিএনপি জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট, গণতন্ত্র মঞ্চ, জেএসডি, এলডিপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, বাংলাদেশ লেবার পার্টিসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলে। আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে এসব দল দীর্ঘ সময় রাজপথে একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শরিকদের মূল্যায়নের অংশ হিসেবে কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতাকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এর মধ্যে নিজ নিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভোলা থেকে বিজয়ী হন বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জয় পান গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকী এবং পটুয়াখালী থেকে নির্বাচিত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর।

অন্যদিকে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম চারটি আসনে ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে। জোটগত সমঝোতার কারণে ওই আসনগুলোতে বিএনপি নিজেদের প্রার্থী না দিলেও দলটির কোনো প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেননি। একইভাবে, বিএনপির সমর্থনে ‘হাতুড়ি’ প্রতীক নিয়ে ঢাকা-১২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

তবে নির্বাচনের আগে যুগপৎ জোটে কিছু পরিবর্তনও আসে। কয়েকজন নেতা বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। আবার আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষের জেরে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের এলডিপি, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের বাংলাদেশ লেবার পার্টি এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য জোট থেকে সরে যায়। বর্তমানে এলডিপি ও বাংলাদেশ লেবার পার্টি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে, আর নাগরিক ঐক্য নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

কেন নৈশভোজে যাচ্ছে না জমিয়ত ও জেএসডি: বিগত দিনের রাজপথের মিত্রদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নৈশভোজে অংশগ্রহণ করছেন প্রায় সব দলের শীর্ষ নেতারা। তবে এখন পর্যন্ত দুটি দল যমুনায় যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। তারা বিভিন্ন ‘মান-অভিমান ও অবহেলা’ থেকে যাচ্ছেন না বলে জানান দলগুলোর নেতারা।

জানতে চাইলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সহ-দফতর সম্পাদক ফারহান হাবীব বলেন, ‘তারা আমন্ত্রণ পেলেও প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে যাচ্ছেন না।’ তিনি বলেন, ‘অভিমানে দূরে থাকলেও বিএনপির সঙ্গে তাদের পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। কিন্তু নির্বাচনে আসন ছাড় ও সরকারে মূল্যায়ন না পাওয়া এবং অসুস্থ আ স ম আবদুর রবকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কোনও নেতা দেখতে না যাওয়ায় তারা মনোক্ষুণ্ণ। তাই তারা এ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিতে পারছেন না।’

অন্যদিকে বিএনপির অন্যতম শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কোনও প্রতিনিধি যাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন দলটির সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে বলেন, ‘আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এ দাওয়াতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি। তবে দলটির একটি সূত্রের দাবি, সরকারে মূল্যায়ন না পাওয়ায় তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

শরিকদের মান ভাঙাতেই কি প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ

Update Time : ০৮:৪৭:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
7 / 100 SEO Score

 

****জেএসডি ও জমিয়ত নৈশভোজ বর্জন করছে
***দুই দলের সঙ্গেই বিএনপির রাজনৈতিক সম্পর্ক বহাল রয়েছে
***জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে নজর রাজনৈতিক মহলের

দীর্ঘদিন পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একই টেবিলে বসতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নৈশভোজ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং শরিক দলগুলোর সঙ্গে দূরত্ব কমানো, অভিমান দূর করা এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে। বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্রও জানিয়েছে, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আরও সক্রিয়ভাবে পাশে রাখতে চায় দলটি। সেই লক্ষ্যেই তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের এই আয়োজন।

তবে নৈশভোজে কী ধরনের বার্তা দেওয়া হবে বা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে শরিকদের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
তবে এ আয়োজনে অংশ নেবেন না তাদের অন্যতম দুই মিত্র জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) শীর্ষ নেতারা। যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
হঠাৎ কেন এই আয়োজন: সরকার গঠনের প্রায় পাঁচ মাস পার হলেও যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। এতে জোটের কয়েকটি দলের মধ্যে এক ধরনের অভিমান ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। এমনকি সরকারে নিজেদের অবস্থান ও মূল্যায়ন নিয়েও কিছু শরিকের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কার্যক্রমও অনেকটাই সীমিত ছিল।

এমন পরিস্থিতিতে শরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা এবং দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এই নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে বলে বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি। দলটির মতে, অতীতের রাজনৈতিক লড়াইয়ে পাশে থাকা মিত্রদের সঙ্গে ভবিষ্যতেও ঐক্য বজায় রাখতে চায় বিএনপি।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানও জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সবক্ষেত্রেই শরিকদের পাশে রাখতে আগ্রহী। তার আশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে এবং রাজনৈতিক সমন্বয় নতুন গতি পাবে।

 

এদিকে, জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সরকার গঠনের পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে শরিকদের সঙ্গে বসছেন। তার মতে, এটি অভিমান দূর করার একটি উদ্যোগ হতে পারে এবং এর ফলে সরকার ও শরিকদের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্বও কিছুটা কমতে পারে। তবে এই বৈঠকের পর শরিক দলগুলোকে সরকারে বা রাজনৈতিকভাবে কতটা মূল্যায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

যুগপৎ জোটে কারা আছেন, কারা সরে গেছেন: জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক পথ আলাদা হওয়ার পর বিএনপি জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট, গণতন্ত্র মঞ্চ, জেএসডি, এলডিপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, বাংলাদেশ লেবার পার্টিসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলে। আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে এসব দল দীর্ঘ সময় রাজপথে একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শরিকদের মূল্যায়নের অংশ হিসেবে কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতাকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এর মধ্যে নিজ নিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভোলা থেকে বিজয়ী হন বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জয় পান গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকী এবং পটুয়াখালী থেকে নির্বাচিত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর।

অন্যদিকে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম চারটি আসনে ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে। জোটগত সমঝোতার কারণে ওই আসনগুলোতে বিএনপি নিজেদের প্রার্থী না দিলেও দলটির কোনো প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেননি। একইভাবে, বিএনপির সমর্থনে ‘হাতুড়ি’ প্রতীক নিয়ে ঢাকা-১২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

তবে নির্বাচনের আগে যুগপৎ জোটে কিছু পরিবর্তনও আসে। কয়েকজন নেতা বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। আবার আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষের জেরে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের এলডিপি, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের বাংলাদেশ লেবার পার্টি এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য জোট থেকে সরে যায়। বর্তমানে এলডিপি ও বাংলাদেশ লেবার পার্টি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে, আর নাগরিক ঐক্য নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

কেন নৈশভোজে যাচ্ছে না জমিয়ত ও জেএসডি: বিগত দিনের রাজপথের মিত্রদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নৈশভোজে অংশগ্রহণ করছেন প্রায় সব দলের শীর্ষ নেতারা। তবে এখন পর্যন্ত দুটি দল যমুনায় যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। তারা বিভিন্ন ‘মান-অভিমান ও অবহেলা’ থেকে যাচ্ছেন না বলে জানান দলগুলোর নেতারা।

জানতে চাইলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সহ-দফতর সম্পাদক ফারহান হাবীব বলেন, ‘তারা আমন্ত্রণ পেলেও প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে যাচ্ছেন না।’ তিনি বলেন, ‘অভিমানে দূরে থাকলেও বিএনপির সঙ্গে তাদের পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। কিন্তু নির্বাচনে আসন ছাড় ও সরকারে মূল্যায়ন না পাওয়া এবং অসুস্থ আ স ম আবদুর রবকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কোনও নেতা দেখতে না যাওয়ায় তারা মনোক্ষুণ্ণ। তাই তারা এ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিতে পারছেন না।’

অন্যদিকে বিএনপির অন্যতম শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কোনও প্রতিনিধি যাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন দলটির সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে বলেন, ‘আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এ দাওয়াতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি। তবে দলটির একটি সূত্রের দাবি, সরকারে মূল্যায়ন না পাওয়ায় তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।