Dhaka ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবগুলো ধর্ম অবমাননা করছে ইসরায়েলি বাহিনী, প্রশ্ন উঠেছে নৈতিকতা নিয়ে

12 / 100 SEO Score

 

লেবাননের খ্রিস্টান অধ্যুষিত ডেবেল শহরে ইসরায়েলি এক সেনার যিশু খ্রিস্টের মূর্তি হাতুড়ি দিয়ে ভাঙার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং দেশটির সমাজের নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

যদিও ইসরায়েল নিজেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে দাবি করে, তবে আইডিএফ সদস্যদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড সেই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল একজন সেনার ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং ইসরায়েলি বাহিনীর ভেতর ক্রমবর্ধমান উগ্রবাদ ও শৃঙ্খলার অভাবের একটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।

এই বিতর্কিত ছবিটি ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির অপূরণীয় ক্ষতি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে কট্টর ডানপন্থী এবং খ্রিস্টান জায়নিস্টদের মধ্যে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব উসকে দিতে এই একটি ছবিই যথেষ্ট। অনেক খ্রিস্টান গোষ্ঠী এখন অভিযোগ করছে, ইসরায়েলিরা খ্রিস্টানদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে এবং ফিলিস্তিনিরাই তাদের প্রকৃত মিত্র।

এ ছাড়া এই ঘটনা ইহুদিদের বিরুদ্ধে প্রাচীন ধর্মীয় অভিযোগগুলোকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য হুমকিস্বরূপ। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একে ‘বিস্ময়কর ও দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করলেও বিশেষজ্ঞরা একে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূর্তি ভাঙার সময় সেখানে আরও অনেক সেনা এবং একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, কিন্তু কেউ তাকে বাধা দেয়নি। এর আগেও গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে কুরআন শরীফ পোড়ানো, গির্জায় ব্যঙ্গাত্মক বিয়ের আয়োজন এবং বন্দীদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

আইডিএফ এই অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ সেনাদের মধ্যে অপরাধ করে পার পাওয়ার এক ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন শাব্বাত পালনের নিয়ম ভাঙার দায়ে সীমান্ত পুলিশকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়, তখন খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থাপনা অবমাননার দায়ে অভিযুক্তদের শাস্তি কেমন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

ইসরায়েলের ভেতরেও গত কয়েক বছর ধরে খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের ওপর হামলা, থুতু নিক্ষেপ এবং কবরস্থান ভাঙচুরের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত বছর গাজার একমাত্র ক্যাথলিক গির্জায় ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলায় তিনজনের মৃত্যু এবং পাদ্রি গ্যাব্রিয়েল রোমানিল্লির আহত হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।

ইসরায়েলি সাংবাদিক লাজার বারম্যানের মতে, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে ইসরায়েল ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হয়ে ক্রমশ উগ্র ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চরমপন্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। আইডিএফ যদি দ্রুত এই নৈতিক অবক্ষয় রোধ করতে না পারে, তবে তা কেবল লেবানন বা গাজা নয়, খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্যও কাল হয়ে দাঁড়াবে।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সবগুলো ধর্ম অবমাননা করছে ইসরায়েলি বাহিনী, প্রশ্ন উঠেছে নৈতিকতা নিয়ে

Update Time : ০৬:১৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

লেবাননের খ্রিস্টান অধ্যুষিত ডেবেল শহরে ইসরায়েলি এক সেনার যিশু খ্রিস্টের মূর্তি হাতুড়ি দিয়ে ভাঙার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং দেশটির সমাজের নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

যদিও ইসরায়েল নিজেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে দাবি করে, তবে আইডিএফ সদস্যদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড সেই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল একজন সেনার ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং ইসরায়েলি বাহিনীর ভেতর ক্রমবর্ধমান উগ্রবাদ ও শৃঙ্খলার অভাবের একটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।

এই বিতর্কিত ছবিটি ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির অপূরণীয় ক্ষতি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে কট্টর ডানপন্থী এবং খ্রিস্টান জায়নিস্টদের মধ্যে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব উসকে দিতে এই একটি ছবিই যথেষ্ট। অনেক খ্রিস্টান গোষ্ঠী এখন অভিযোগ করছে, ইসরায়েলিরা খ্রিস্টানদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে এবং ফিলিস্তিনিরাই তাদের প্রকৃত মিত্র।

এ ছাড়া এই ঘটনা ইহুদিদের বিরুদ্ধে প্রাচীন ধর্মীয় অভিযোগগুলোকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য হুমকিস্বরূপ। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একে ‘বিস্ময়কর ও দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করলেও বিশেষজ্ঞরা একে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূর্তি ভাঙার সময় সেখানে আরও অনেক সেনা এবং একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, কিন্তু কেউ তাকে বাধা দেয়নি। এর আগেও গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে কুরআন শরীফ পোড়ানো, গির্জায় ব্যঙ্গাত্মক বিয়ের আয়োজন এবং বন্দীদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

আইডিএফ এই অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ সেনাদের মধ্যে অপরাধ করে পার পাওয়ার এক ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন শাব্বাত পালনের নিয়ম ভাঙার দায়ে সীমান্ত পুলিশকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়, তখন খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থাপনা অবমাননার দায়ে অভিযুক্তদের শাস্তি কেমন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

ইসরায়েলের ভেতরেও গত কয়েক বছর ধরে খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের ওপর হামলা, থুতু নিক্ষেপ এবং কবরস্থান ভাঙচুরের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত বছর গাজার একমাত্র ক্যাথলিক গির্জায় ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলায় তিনজনের মৃত্যু এবং পাদ্রি গ্যাব্রিয়েল রোমানিল্লির আহত হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।

ইসরায়েলি সাংবাদিক লাজার বারম্যানের মতে, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে ইসরায়েল ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হয়ে ক্রমশ উগ্র ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চরমপন্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। আইডিএফ যদি দ্রুত এই নৈতিক অবক্ষয় রোধ করতে না পারে, তবে তা কেবল লেবানন বা গাজা নয়, খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্যও কাল হয়ে দাঁড়াবে।