Dhaka ০৭:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

‘সবচেয়ে দামি’ ক্রিকেটারের বোলিং সুবিধা পাচ্ছে না কলকাতা, তীব্র সমালোচনা

12 / 100 SEO Score

আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ক্যামেরন গ্রিনকে ২৫.২০ কোটি রুপিতে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। যদিও এবারের আসর শুরুর আগে থেকেই এই অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারের বোলিং সুবিধা পাওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কলকাতার প্রথম ম্যাচ শেষেও সেটাই আলোচনার কেন্দ্রে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হারের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে– গ্রিন কেন বোলিং করেননি!

গতকাল (রোববার) ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামে অতিথি হিসেবে খেলতে নেমে ২২০ রানের পুঁজি গড়ে কলকাতা। কিন্তু সেটাও তাদের জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতেছে হার্দিক পান্ডিয়ার মুম্বাই। চোটের কারণে আইপিএলের আসর শুরুর আগে থেকেই ধুঁকছিল কলকাতা, মুম্বাইয়ের বিপক্ষে তারা কার্যকর পেস বোলারের সংকটটা তীব্রভাবে টের পেল। সে কারণে গ্রিনের পেস বোলিং সুবিধাটা না পাওয়ার বিষয়ও নজর কেড়েছে সবার।

মাঝে লম্বা সময় ইনজুরিতে ছিলেন গ্রিন। সে কারণে তাকে পুরোপুরি বোলিংয়ে ফেরার অনুমতি দিচ্ছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। সতর্কতার অংশ হিসেবে সর্বশেষ অ্যাশেজেও তাকে খুব কম সময়ই বল হাতে দেখা গিয়েছিল। এবারের আইপিএলেও অস্ট্রেলিয়া তাদের এই তারকা ক্রিকেটারকে বোলিং করতে দেবে না বলে গুঞ্জন ছিল। চলমান বিতর্কের মাঝে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, ‘ক্যামেরনের পিঠে ইনজুরি ছিল, যা ইতোমধ্যে কাটিয়ে উঠেছে, তবুও সাময়িক সময়ের জন্য বোলিং থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে তাকে।’

সিএ’র এক মুখপাত্র বলেন, ‘ভারতে বোলিং লোড নেওয়ার উপযোগী হয়ে উঠছেন ক্যামেরন, পুরোদমে বল হাতে ফিরতে তার প্রায় ১০-১২ দিন লাগবে। এই বিষয়ে কলকাতাও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে এবং এই তথ্যও তারা জানে।’ মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে এ বিষয়ে কথা বলেছেন কলকাতার ব্যাটার অজিঙ্কা রাহানেও, ‘আমি মনে করি শিগগিরই গ্রিন বোলিং শুরু করলে, আমাদের কম্বিনেশন কিছুটা ভিন্ন হবে। এই মুহূর্তে আমাদের এখন ভারসাম্য কেমন তা দেখতে হবে– কারা বল করতে পারবে। ব্যাটিংয়ে আমরা ভালো করেছি, কিন্তু বোলিংয়েও সেই ভারসাম্য পাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি গ্রিন দ্রুত বোলিং শুরু করবে এবং তারপর আমরা দেখব কম্বিনেশন ঠিক হয় কি না।’

রাহানের এমন আশাবাদী মন্তব্যের পরও গ্রিনের বোলিং নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্ন আপনারা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে করুন।’ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনের ব্যাপারে অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেছেন সাবেক ভারতীয় ব্যাটার আম্বাতি রাইডু। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর আলোচনায় তিনি বলেন, ‘তিনি কি কভার খেলতে পারেন নাকি না? সম্ভবত তার ইনজুরি শুধু কনুইয়ে। সম্ভবত তিনি শুধু বল ফ্লিক করতে পারেন। এটি খুবই অযৌক্তিক। যখন কেউ টুর্নামেন্ট খেলতে আসে, তখন যদি বলা হয় “তুমি এটা করতে পারবে, এটা করতে পারবে না”, এটা নির্বোধ কথা। পেশাদার জায়গায় এমনটা চলতে পারে না। আমার মতে এটি ক্রিকেটারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।’

‘যদি তিনি পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন, তিনি যা করতে সক্ষম তা করতে দেওয়া উচিত। ওই ক্রিকেটারই সেরা বিচারক (সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী)। আমার মা সবসময়ই চান আমি যাতে হেলমেট পরি, কিন্তু আমি কখনও এটা পছন্দ করি না। তার মানে এই না যে আমার মা চুক্তি স্বাক্ষর করে তারপর আমাকে বাইরে পাঠাচ্ছেন এবং বলছেন– “সে খেলতে পারবে না, আমার সন্তান চোট পেতে পারে”, আরও যোগ করেন রাইডু।

তার কথার সূত্র ধরে আরেক সাবেক ভারতীয় স্পিনার পিযূশ চাওলা প্রশ্ন তুললেন– ‘আচ্ছা তার বোর্ড বলল যে তিনি কিছু ম্যাচে বল করতে পারবেন না। আমি জানতে চাই– কোনও অলরাউন্ডার বিগ ব্যাশে গিয়ে যদি বলে তিনি বল কিংবা ব্যাট করতে পারবেন না, তাহলে কি তারা ওই খেলোয়াড়কে একাদশে রাখবে? আমার মনে হয় না। তাহলে এখানে কেন সেই বিষয়ের প্রয়োগ হলো। খুবই স্বাভাবিক বিষয়।’

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘সবচেয়ে দামি’ ক্রিকেটারের বোলিং সুবিধা পাচ্ছে না কলকাতা, তীব্র সমালোচনা

Update Time : ০৫:৩৯:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
12 / 100 SEO Score

আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ক্যামেরন গ্রিনকে ২৫.২০ কোটি রুপিতে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। যদিও এবারের আসর শুরুর আগে থেকেই এই অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারের বোলিং সুবিধা পাওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কলকাতার প্রথম ম্যাচ শেষেও সেটাই আলোচনার কেন্দ্রে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হারের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে– গ্রিন কেন বোলিং করেননি!

গতকাল (রোববার) ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামে অতিথি হিসেবে খেলতে নেমে ২২০ রানের পুঁজি গড়ে কলকাতা। কিন্তু সেটাও তাদের জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতেছে হার্দিক পান্ডিয়ার মুম্বাই। চোটের কারণে আইপিএলের আসর শুরুর আগে থেকেই ধুঁকছিল কলকাতা, মুম্বাইয়ের বিপক্ষে তারা কার্যকর পেস বোলারের সংকটটা তীব্রভাবে টের পেল। সে কারণে গ্রিনের পেস বোলিং সুবিধাটা না পাওয়ার বিষয়ও নজর কেড়েছে সবার।

মাঝে লম্বা সময় ইনজুরিতে ছিলেন গ্রিন। সে কারণে তাকে পুরোপুরি বোলিংয়ে ফেরার অনুমতি দিচ্ছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। সতর্কতার অংশ হিসেবে সর্বশেষ অ্যাশেজেও তাকে খুব কম সময়ই বল হাতে দেখা গিয়েছিল। এবারের আইপিএলেও অস্ট্রেলিয়া তাদের এই তারকা ক্রিকেটারকে বোলিং করতে দেবে না বলে গুঞ্জন ছিল। চলমান বিতর্কের মাঝে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, ‘ক্যামেরনের পিঠে ইনজুরি ছিল, যা ইতোমধ্যে কাটিয়ে উঠেছে, তবুও সাময়িক সময়ের জন্য বোলিং থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে তাকে।’

সিএ’র এক মুখপাত্র বলেন, ‘ভারতে বোলিং লোড নেওয়ার উপযোগী হয়ে উঠছেন ক্যামেরন, পুরোদমে বল হাতে ফিরতে তার প্রায় ১০-১২ দিন লাগবে। এই বিষয়ে কলকাতাও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে এবং এই তথ্যও তারা জানে।’ মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে এ বিষয়ে কথা বলেছেন কলকাতার ব্যাটার অজিঙ্কা রাহানেও, ‘আমি মনে করি শিগগিরই গ্রিন বোলিং শুরু করলে, আমাদের কম্বিনেশন কিছুটা ভিন্ন হবে। এই মুহূর্তে আমাদের এখন ভারসাম্য কেমন তা দেখতে হবে– কারা বল করতে পারবে। ব্যাটিংয়ে আমরা ভালো করেছি, কিন্তু বোলিংয়েও সেই ভারসাম্য পাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি গ্রিন দ্রুত বোলিং শুরু করবে এবং তারপর আমরা দেখব কম্বিনেশন ঠিক হয় কি না।’

রাহানের এমন আশাবাদী মন্তব্যের পরও গ্রিনের বোলিং নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্ন আপনারা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে করুন।’ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনের ব্যাপারে অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেছেন সাবেক ভারতীয় ব্যাটার আম্বাতি রাইডু। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর আলোচনায় তিনি বলেন, ‘তিনি কি কভার খেলতে পারেন নাকি না? সম্ভবত তার ইনজুরি শুধু কনুইয়ে। সম্ভবত তিনি শুধু বল ফ্লিক করতে পারেন। এটি খুবই অযৌক্তিক। যখন কেউ টুর্নামেন্ট খেলতে আসে, তখন যদি বলা হয় “তুমি এটা করতে পারবে, এটা করতে পারবে না”, এটা নির্বোধ কথা। পেশাদার জায়গায় এমনটা চলতে পারে না। আমার মতে এটি ক্রিকেটারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।’

‘যদি তিনি পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন, তিনি যা করতে সক্ষম তা করতে দেওয়া উচিত। ওই ক্রিকেটারই সেরা বিচারক (সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী)। আমার মা সবসময়ই চান আমি যাতে হেলমেট পরি, কিন্তু আমি কখনও এটা পছন্দ করি না। তার মানে এই না যে আমার মা চুক্তি স্বাক্ষর করে তারপর আমাকে বাইরে পাঠাচ্ছেন এবং বলছেন– “সে খেলতে পারবে না, আমার সন্তান চোট পেতে পারে”, আরও যোগ করেন রাইডু।

তার কথার সূত্র ধরে আরেক সাবেক ভারতীয় স্পিনার পিযূশ চাওলা প্রশ্ন তুললেন– ‘আচ্ছা তার বোর্ড বলল যে তিনি কিছু ম্যাচে বল করতে পারবেন না। আমি জানতে চাই– কোনও অলরাউন্ডার বিগ ব্যাশে গিয়ে যদি বলে তিনি বল কিংবা ব্যাট করতে পারবেন না, তাহলে কি তারা ওই খেলোয়াড়কে একাদশে রাখবে? আমার মনে হয় না। তাহলে এখানে কেন সেই বিষয়ের প্রয়োগ হলো। খুবই স্বাভাবিক বিষয়।’