সাঁথিয়ার ছোন্দাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ছোন্দাহ গ্রামের এস. কে. আর. আলহেরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি, সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, মাদ্রাসার প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনিয়ম চলে আসছে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের সম্পদ সংরক্ষণ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মাদ্রাসার নামে থাকা কিছু জমি নিয়ে বিরোধ ও ভোগদখল সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসার প্রায় এক বিঘা জমি এবং সংশ্লিষ্ট দাগ নম্বরভুক্ত কিছু জমি বিভিন্ন ব্যক্তি ভোগদখল করছেন। তারা অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, ফলে প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি রক্ষায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষক ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উত্থাপন করেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, পূর্ববর্তী সময়ে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, মাদ্রাসার উন্নয়নকাজের জন্য কেনা কিছু বাঁশ প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের জন্য কেনা কয়েকটি কম্পিউটার পরবর্তীতে মাদ্রাসায় না রেখে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির নামে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে একাধিকবার মৌখিকভাবে আপত্তি জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, একটি স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হোক এবং প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসার সুপার মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য জানার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে বা অভিযোগ ইতোমধ্যে দাখিল হয়ে থাকলে বিধি অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তারা জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্তে সত্যতা নিশ্চিত হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।



















