Dhaka ০৯:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের তেল বিক্রি রুখতে একজোট হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ: ট্রাম্প

12 / 100 SEO Score

 

ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ইরান যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনোভাবেই তেল বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু দেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকে এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে এবং ট্রাম্পের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ‘অনেক ইতিবাচক ঘটনা’ ঘটছে যা ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে দেবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ওয়াশিংটন এখন একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পথে হাঁটছে।

ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, এটি এখনো ভালোভাবে কার্যকর রয়েছে। তবে একই সাথে তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উপহাস করে বলেন যে, দেশটির সামরিক বাহিনী বর্তমানে প্রায় ‘বিধ্বস্ত’ অবস্থায় আছে।

ইরানের নৌবাহিনীর শক্তি প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘তাদের পুরো নৌবাহিনী এখন পানির নিচে।’ ট্রাম্পের মতে, সোমবার সকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নৌ-অবরোধ অত্যন্ত কার্যকর হবে কারণ অন্যান্য দেশগুলোও এখন ইরানকে তেল বিক্রি থেকে বিরত রাখতে সহযোগিতা করছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে ইরানের তেলের যোগান বন্ধ হয়ে যাবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালিতে উত্তজনা এবং আসন্ন অবরোধের কারণে অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলের ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যে তাদের পথ পরিবর্তন করতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘অনেক জাহাজ আমাদের দেশের দিকে আসছে তেল সংগ্রহ করার জন্য। তারা আর হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেবে না।’

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব তেলের মজুদ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারের চাহিদা মেটানোর এবং জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচলে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে।

আন্তর্জাতিক মহলে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সামরিক শক্তি নিয়ে তাঁর কঠোর মন্তব্য এবং নৌ-অবরোধে অন্য দেশের সম্পৃক্ততার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই অবরোধের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কী ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয় কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে বিশ্ববাসী। ট্রাম্পের এই আগ্রাসী অবস্থান দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের পথ প্রশস্ত করছে বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইরানের তেল বিক্রি রুখতে একজোট হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ: ট্রাম্প

Update Time : ০৪:৫১:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ইরান যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনোভাবেই তেল বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু দেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকে এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে এবং ট্রাম্পের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ‘অনেক ইতিবাচক ঘটনা’ ঘটছে যা ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে দেবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ওয়াশিংটন এখন একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পথে হাঁটছে।

ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, এটি এখনো ভালোভাবে কার্যকর রয়েছে। তবে একই সাথে তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উপহাস করে বলেন যে, দেশটির সামরিক বাহিনী বর্তমানে প্রায় ‘বিধ্বস্ত’ অবস্থায় আছে।

ইরানের নৌবাহিনীর শক্তি প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘তাদের পুরো নৌবাহিনী এখন পানির নিচে।’ ট্রাম্পের মতে, সোমবার সকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নৌ-অবরোধ অত্যন্ত কার্যকর হবে কারণ অন্যান্য দেশগুলোও এখন ইরানকে তেল বিক্রি থেকে বিরত রাখতে সহযোগিতা করছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে ইরানের তেলের যোগান বন্ধ হয়ে যাবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালিতে উত্তজনা এবং আসন্ন অবরোধের কারণে অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলের ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যে তাদের পথ পরিবর্তন করতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘অনেক জাহাজ আমাদের দেশের দিকে আসছে তেল সংগ্রহ করার জন্য। তারা আর হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেবে না।’

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব তেলের মজুদ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারের চাহিদা মেটানোর এবং জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচলে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে।

আন্তর্জাতিক মহলে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সামরিক শক্তি নিয়ে তাঁর কঠোর মন্তব্য এবং নৌ-অবরোধে অন্য দেশের সম্পৃক্ততার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই অবরোধের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কী ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয় কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে বিশ্ববাসী। ট্রাম্পের এই আগ্রাসী অবস্থান দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের পথ প্রশস্ত করছে বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।