Dhaka ০৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তনু হত্যা মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল।

সাবেক সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলমকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, দুজন বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

তনু হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি-ঢাকা) ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করে। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে।

বুধবার এনসিবির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। রেড নোটিশ জারির বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের কাছের একটি জঙ্গল থেকে সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন তার বাবা ইয়ার আহম্মেদ কতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

দীর্ঘ সময় মামলাটির তদন্ত করে সিআইডি। তবে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২০ সালে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল।

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের অক্টোবরে পিবিআই আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নেয়। এর আগে মামলাটি একাধিক তদন্ত সংস্থার কাছে তদন্তাধীন ছিল।

পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে মামলাটির দায়িত্ব নেন।

চলতি বছরের ৬ এপ্রিল তিন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য— সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহীন আলমের ডিএনএ প্রোফাইল ক্রসম্যাচ করার জন্য আদালতের অনুমতি চান তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম। আদালত তার আবেদন অনুমোদন করেন।

এরপর চলতি বছরের জুনে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার একটি আদালত জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। তবে দুজনই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলছেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর পিবিআই এনসিবি-ঢাকার কাছে অনুরোধ পাঠায়। একই সঙ্গে দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনা শেষে ইন্টারপোল জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তনু হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম দুজনই কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের গাড়ঘাটা এলাকার বাসিন্দা জাহিদুজ্জামান সে সময় কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ প্রকৌশলী ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন।

অন্যদিকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহীন আলম তখন ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন।

যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম রেড নোটিশ জারির বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

তবে তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তদন্ত কর্মকর্তা।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

fifteen + seventeen =

About Author Information

তনু হত্যা মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

Update Time : ০৩:১৫:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল।

সাবেক সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলমকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, দুজন বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

তনু হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি-ঢাকা) ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করে। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে।

বুধবার এনসিবির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। রেড নোটিশ জারির বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের কাছের একটি জঙ্গল থেকে সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন তার বাবা ইয়ার আহম্মেদ কতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

দীর্ঘ সময় মামলাটির তদন্ত করে সিআইডি। তবে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২০ সালে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল।

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের অক্টোবরে পিবিআই আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নেয়। এর আগে মামলাটি একাধিক তদন্ত সংস্থার কাছে তদন্তাধীন ছিল।

পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে মামলাটির দায়িত্ব নেন।

চলতি বছরের ৬ এপ্রিল তিন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য— সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহীন আলমের ডিএনএ প্রোফাইল ক্রসম্যাচ করার জন্য আদালতের অনুমতি চান তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম। আদালত তার আবেদন অনুমোদন করেন।

এরপর চলতি বছরের জুনে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার একটি আদালত জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। তবে দুজনই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলছেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর পিবিআই এনসিবি-ঢাকার কাছে অনুরোধ পাঠায়। একই সঙ্গে দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনা শেষে ইন্টারপোল জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তনু হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম দুজনই কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের গাড়ঘাটা এলাকার বাসিন্দা জাহিদুজ্জামান সে সময় কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ প্রকৌশলী ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন।

অন্যদিকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহীন আলম তখন ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন।

যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম রেড নোটিশ জারির বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

তবে তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তদন্ত কর্মকর্তা।