Dhaka ০২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে পাঁচ বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

গত পাঁচ বছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেড়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি জানান, রপ্তানির তুলনায় আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে এ ঘাটতি বেড়েছে, যার মধ্যে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিই সবচেয়ে বেশি।

সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য জসীম উদ্দিন আহমেদের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে আফগানিস্তান, ভুটান এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি থাকলেও ভারতের সঙ্গেই এই পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের ভুল নীতির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মূল্যবৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতিও এতে ভূমিকা রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্প কাঁচামাল আমদানির উচ্চ ব্যয় এবং রপ্তানির তুলনায় ধীর প্রবৃদ্ধি বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল-২০২০-২১ অর্থবছর ১৬.২৪ বিলিয়ন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছর ২৮.১৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছর ২৭.১৮ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছর ২১.৫০ বিলিয়ন ডলার, ২০২৪-২৫ অর্থবছর ২৪.১৬ বিলিয়ন ডলার।

তিনি একই সময়ে দেশের রপ্তানি আয় ও আমদানির চিত্রও তুলে ধরেন। এ সময়ে রপ্তানি আয় ছিল- ৪৫.৩৬, ৬০.৯৭, ৫৩.৯২, ৫১.১১ এবং ৫৫.১৯ বিলিয়ন ডলার (ক্রমশ পাঁচ অর্থবছর) আমদানি ব্যয় ছিল: ৬১.৬০, ৮৯.১০, ৭৮.২৯, ৭২.৬১ এবং ৭৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে। তবে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে আসে। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে প্রণোদনা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্ত্রী জানান, চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক খাতে রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রপ্তানি বৈচিত্র্য আনতে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার আওতায় ৬৪ জেলার মধ্যে ১৪টি পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে এফটিএ সইয়ের তৃতীয় দফা আলোচনা ২০২৬ সালের আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে পাঁচ বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার

Update Time : ০৪:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

গত পাঁচ বছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেড়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি জানান, রপ্তানির তুলনায় আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে এ ঘাটতি বেড়েছে, যার মধ্যে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিই সবচেয়ে বেশি।

সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য জসীম উদ্দিন আহমেদের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে আফগানিস্তান, ভুটান এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি থাকলেও ভারতের সঙ্গেই এই পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের ভুল নীতির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মূল্যবৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতিও এতে ভূমিকা রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্প কাঁচামাল আমদানির উচ্চ ব্যয় এবং রপ্তানির তুলনায় ধীর প্রবৃদ্ধি বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল-২০২০-২১ অর্থবছর ১৬.২৪ বিলিয়ন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছর ২৮.১৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছর ২৭.১৮ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছর ২১.৫০ বিলিয়ন ডলার, ২০২৪-২৫ অর্থবছর ২৪.১৬ বিলিয়ন ডলার।

তিনি একই সময়ে দেশের রপ্তানি আয় ও আমদানির চিত্রও তুলে ধরেন। এ সময়ে রপ্তানি আয় ছিল- ৪৫.৩৬, ৬০.৯৭, ৫৩.৯২, ৫১.১১ এবং ৫৫.১৯ বিলিয়ন ডলার (ক্রমশ পাঁচ অর্থবছর) আমদানি ব্যয় ছিল: ৬১.৬০, ৮৯.১০, ৭৮.২৯, ৭২.৬১ এবং ৭৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে। তবে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে আসে। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে প্রণোদনা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্ত্রী জানান, চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক খাতে রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রপ্তানি বৈচিত্র্য আনতে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার আওতায় ৬৪ জেলার মধ্যে ১৪টি পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে এফটিএ সইয়ের তৃতীয় দফা আলোচনা ২০২৬ সালের আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।