Dhaka ০৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন অভিযানে বাংলাদেশিসহ ২৭০ শ্রমিক গ্রেপ্তার

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ২৭০ বিদেশি শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত খাতের বাইরে কাজ করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পাস ব্যবহারসহ বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ‘অপস মেগা’ অভিযানে মেরু ও তেলোক গং এলাকার দুটি কারখানায় কর্মরত মোট ৫৮৬ জন বিদেশি শ্রমিককে যাচাই-বাছাই করা হয়। এরমধ্যে ২৭০ জনকে আটক করা হয়েছে।

আটকদের মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নাগরিক রয়েছেন। তবে এরমধ্যে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন তা জানা যায়নি।

সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-পরিচালক (নিয়ন্ত্রণ) মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন জানান, ২৪ জুন সকাল ৮টার দিকে শুরু হওয়া অভিযানের প্রথম ধাপে মেরুর একটি প্লাস্টিক কারখানায় ৬৬ জন শ্রমিককে পরীক্ষা করা হয়। সেখানে ১৮ জনকে ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গের সন্দেহে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে তেলোক গংয়ের একটি আসবাবপত্র কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৫২০ জন বিদেশি শ্রমিকের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত খাতের বাইরে কাজ করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পাস নিয়ে অবস্থানের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযান চলাকালে অনেক শ্রমিক পালানোর চেষ্টা করেন। কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি টের পেয়ে কেউ কারখানার বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে পড়েন, আবার কেউ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, তেলোক গংয়ের কারখানায় এক বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রেফতার এড়াতে একটি রোরো (রোল-অন/রোল-অফ) বর্জ্যবাহী কনটেইনারের ভেতরে ময়লার স্তূপের আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন। তবে তল্লাশির একপর্যায়ে তাকে খুঁজে বের করা হয়। এছাড়া কয়েকজন শ্রমিক কাঠ কাটার মেশিন ও বড় বড় বাক্সের পেছনে আশ্রয় নিয়েও শেষ রক্ষা পাননি।

মোহদ খুসাইরি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাসের অপব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানের ঘটনা পাওয়া গেছে। কিছু ব্যক্তি বৈধ পাস থাকার দাবি করলেও অভিযানের সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগকারী নিয়োগদাতাদের অবশ্যই শ্রমিকদের বৈধতা, অবস্থান ও কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস (পিএলকেএস) অনুমোদিত খাত ও নির্ধারিত কর্মস্থলেই ব্যবহার হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও নিয়োগকর্তার।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট ধারায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগ।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন অভিযানে বাংলাদেশিসহ ২৭০ শ্রমিক গ্রেপ্তার

Update Time : ০৬:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ২৭০ বিদেশি শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত খাতের বাইরে কাজ করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পাস ব্যবহারসহ বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ‘অপস মেগা’ অভিযানে মেরু ও তেলোক গং এলাকার দুটি কারখানায় কর্মরত মোট ৫৮৬ জন বিদেশি শ্রমিককে যাচাই-বাছাই করা হয়। এরমধ্যে ২৭০ জনকে আটক করা হয়েছে।

আটকদের মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নাগরিক রয়েছেন। তবে এরমধ্যে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন তা জানা যায়নি।

সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-পরিচালক (নিয়ন্ত্রণ) মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন জানান, ২৪ জুন সকাল ৮টার দিকে শুরু হওয়া অভিযানের প্রথম ধাপে মেরুর একটি প্লাস্টিক কারখানায় ৬৬ জন শ্রমিককে পরীক্ষা করা হয়। সেখানে ১৮ জনকে ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গের সন্দেহে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে তেলোক গংয়ের একটি আসবাবপত্র কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৫২০ জন বিদেশি শ্রমিকের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত খাতের বাইরে কাজ করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পাস নিয়ে অবস্থানের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযান চলাকালে অনেক শ্রমিক পালানোর চেষ্টা করেন। কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি টের পেয়ে কেউ কারখানার বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে পড়েন, আবার কেউ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, তেলোক গংয়ের কারখানায় এক বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রেফতার এড়াতে একটি রোরো (রোল-অন/রোল-অফ) বর্জ্যবাহী কনটেইনারের ভেতরে ময়লার স্তূপের আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন। তবে তল্লাশির একপর্যায়ে তাকে খুঁজে বের করা হয়। এছাড়া কয়েকজন শ্রমিক কাঠ কাটার মেশিন ও বড় বড় বাক্সের পেছনে আশ্রয় নিয়েও শেষ রক্ষা পাননি।

মোহদ খুসাইরি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাসের অপব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানের ঘটনা পাওয়া গেছে। কিছু ব্যক্তি বৈধ পাস থাকার দাবি করলেও অভিযানের সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগকারী নিয়োগদাতাদের অবশ্যই শ্রমিকদের বৈধতা, অবস্থান ও কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস (পিএলকেএস) অনুমোদিত খাত ও নির্ধারিত কর্মস্থলেই ব্যবহার হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও নিয়োগকর্তার।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট ধারায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগ।