Dhaka ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়া ফ্লাইটে রহস্যজনকভাবে উধাও ৭১ যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

ঢাকা থেকে মালয়েশিয়াগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চেক-ইন ও বোর্ডিং পাস নেওয়ার পরও রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যান ৭১ যাত্রী। বোর্ডিং গেটে পাঁচজনের ভিসায় অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর একে একে বিমানবন্দর ছেড়ে চলে যান তারা। শেষ পর্যন্ত ৭৬ জন যাত্রীকে ছাড়াই গন্তব্যের উদ্দেশে উড়ে যায় ফ্লাইটটি।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৪ জুলাই) রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে। রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়।

ফ্লাইটটিতে মোট ২৪৫ জন যাত্রীর ভ্রমণের কথা ছিল।

প্রতিবেদকের বিমানবন্দর সূত্র জানায়, এই ফ্লাইটের ৭৬ জন প্লেনে চড়েননি। তাদের রেখেই চলে যায় ফ্লাইট। ৭৬ জনের মধ্যে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের মিল না থাকায় তাদের অফলোড করা হয়।

সূত্র জানায়, এই সংবাদ শোনার পরপরই ওই ফ্লাইটের অনেক যাত্রী বিমানবন্দর থেকে সরে পড়েন। শেষ পর্যন্ত ৭৬ জন যাত্রীর কেউই বিমানে ওঠেননি।

সূত্র জানায়, ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে জাল ই-ভিসা শনাক্ত করার সুযোগ থাকে। যাত্রীদের ভিসা যথাযথভাবে যাচাই না করেই ‘ভেরিফায়েড’ হিসেবে গ্রহণ করে বিমান সংস্থার চেক-ইন কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাস ইস্যু করা হয়। এরপর ইমিগ্রেশনও তাদের বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়। অথচ বোর্ডিং গেটে গিয়ে পাঁচজনের ভিসা জাল বলে ধরা পড়ে।

এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, ভিসা যাচাইয়ের একাধিক ধাপ থাকার পরও কীভাবে সন্দেহভাজন জাল ভিসাধারীরা চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন পার হয়ে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত পৌঁছালেন।

বিমানে না চড়া ৭৬ জন যাত্রীর সবাই ‘ট্যুরিস্ট’ ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে সূত্রের দাবি কোনো একটি ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের মালয়েশিয়ায় থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “বোর্ডিং চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন যাত্রীকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। পরে জানতে পারি, তাদের ভিসা নিয়ে সমস্যা পাওয়া গেছে। এরপর বোর্ডিং লাইনে থাকা আরও কয়েকজন যাত্রীকে আর দেখা যায়নি। কিছুক্ষণ পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কয়েকজন যাত্রীকে অফলোড করে।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে বিমানবন্দরের সূত্র জানায়, ভিসার সমস্যার কারণে বিমানের ওই ফ্লাইটের কয়েকজন যাত্রীকে আগেই ইমিগ্রেশন পুলিশ অফলোড করেছে। তাদের কয়েকজন মালয়েশিয়া হয়ে সৌদি আরবে ওমরাহ হজ করতে যাচ্ছিলেন। যাত্রার উদ্দেশ নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় তাদের অফলোড করা হয়।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মালয়েশিয়া ফ্লাইটে রহস্যজনকভাবে উধাও ৭১ যাত্রী

Update Time : ০৭:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
12 / 100 SEO Score

ঢাকা থেকে মালয়েশিয়াগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চেক-ইন ও বোর্ডিং পাস নেওয়ার পরও রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যান ৭১ যাত্রী। বোর্ডিং গেটে পাঁচজনের ভিসায় অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর একে একে বিমানবন্দর ছেড়ে চলে যান তারা। শেষ পর্যন্ত ৭৬ জন যাত্রীকে ছাড়াই গন্তব্যের উদ্দেশে উড়ে যায় ফ্লাইটটি।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৪ জুলাই) রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে। রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়।

ফ্লাইটটিতে মোট ২৪৫ জন যাত্রীর ভ্রমণের কথা ছিল।

প্রতিবেদকের বিমানবন্দর সূত্র জানায়, এই ফ্লাইটের ৭৬ জন প্লেনে চড়েননি। তাদের রেখেই চলে যায় ফ্লাইট। ৭৬ জনের মধ্যে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের মিল না থাকায় তাদের অফলোড করা হয়।

সূত্র জানায়, এই সংবাদ শোনার পরপরই ওই ফ্লাইটের অনেক যাত্রী বিমানবন্দর থেকে সরে পড়েন। শেষ পর্যন্ত ৭৬ জন যাত্রীর কেউই বিমানে ওঠেননি।

সূত্র জানায়, ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে জাল ই-ভিসা শনাক্ত করার সুযোগ থাকে। যাত্রীদের ভিসা যথাযথভাবে যাচাই না করেই ‘ভেরিফায়েড’ হিসেবে গ্রহণ করে বিমান সংস্থার চেক-ইন কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাস ইস্যু করা হয়। এরপর ইমিগ্রেশনও তাদের বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়। অথচ বোর্ডিং গেটে গিয়ে পাঁচজনের ভিসা জাল বলে ধরা পড়ে।

এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, ভিসা যাচাইয়ের একাধিক ধাপ থাকার পরও কীভাবে সন্দেহভাজন জাল ভিসাধারীরা চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন পার হয়ে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত পৌঁছালেন।

বিমানে না চড়া ৭৬ জন যাত্রীর সবাই ‘ট্যুরিস্ট’ ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে সূত্রের দাবি কোনো একটি ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের মালয়েশিয়ায় থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “বোর্ডিং চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন যাত্রীকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। পরে জানতে পারি, তাদের ভিসা নিয়ে সমস্যা পাওয়া গেছে। এরপর বোর্ডিং লাইনে থাকা আরও কয়েকজন যাত্রীকে আর দেখা যায়নি। কিছুক্ষণ পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কয়েকজন যাত্রীকে অফলোড করে।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে বিমানবন্দরের সূত্র জানায়, ভিসার সমস্যার কারণে বিমানের ওই ফ্লাইটের কয়েকজন যাত্রীকে আগেই ইমিগ্রেশন পুলিশ অফলোড করেছে। তাদের কয়েকজন মালয়েশিয়া হয়ে সৌদি আরবে ওমরাহ হজ করতে যাচ্ছিলেন। যাত্রার উদ্দেশ নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় তাদের অফলোড করা হয়।