Dhaka ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ, বাবার আত্মহত্যা

জেলা প্রতিনিধি
12 / 100 SEO Score

 

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে স্কুলপড়ুয়া এক ছাত্রীকে অপহরণ করে জোরপূর্বক বিয়ে এবং পরে ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মানসিক চাপে আবুল কাসেম (৪২) নামের এক মুদি ব্যবসায়ী বাবা আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর অভিযোগ, গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার সময় স্থানীয় রফিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক একটি অটোতে তুলে নিয়ে যান। এরপর তাকে ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে গিয়ে কিছু কাগজে সই করতে বাধ্য করা হয়।

ছাত্রীটি জানায়, আমি সই করতে রাজি না হওয়ায় তারা হুমকি দেয় যে, বাজারে যাওয়ার সময় আমার বাবাকে এবং মাদরাসা থেকে ফেরার পথে আমার ছোট ভাইকে মেরে ফেলা হবে। পরিবারের সবার জীবনের ভয়ে আমি বাধ্য হয়ে কাগজে স্বাক্ষর করি। এরপর তারা বিষয়টি গোপন রাখতে বলে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১ জুলাই বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম উল্টো আবুল কাসেমের কাছে তার মেয়েকে ফেরত নেওয়ার শর্তে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। এই অন্যায় দাবি ও বিয়ে মানতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দিন বিকেলেই আবুল কাসেমকে তার নিজ বাড়িতে সবার সামনে মারধর করেন সাইফুল ও তার সহযোগীরা। এরপর প্রভাব খাটিয়ে কাসেমের পরিবারকে এলাকাছাড়া করা হয়।

নিহতের স্ত্রী লাবণী আক্তার জানান, সাইফুল ও তার লোকজনের ভয়ে তারা গত চার দিন ধরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও মোবাইলের মাধ্যমে ক্রমাগত হুমকি ও টাকা দাবি করা হচ্ছিল। সকালে আবুল কাসেম একা বাড়ি ফেরেন। পরে স্বজনরা গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সাইফুল পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার স্ত্রী রুবা আক্তার দাবি করেন, আমার স্বামী বাড়িতে নেই। আর আমি যতটুকু জানি, সাইফুল ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করেননি।

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে সৃষ্ট মানসিক চাপ থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। নিহতের পরিবার থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করলে পুলিশ দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ, বাবার আত্মহত্যা

Update Time : ০৪:১০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে স্কুলপড়ুয়া এক ছাত্রীকে অপহরণ করে জোরপূর্বক বিয়ে এবং পরে ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মানসিক চাপে আবুল কাসেম (৪২) নামের এক মুদি ব্যবসায়ী বাবা আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর অভিযোগ, গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার সময় স্থানীয় রফিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক একটি অটোতে তুলে নিয়ে যান। এরপর তাকে ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে গিয়ে কিছু কাগজে সই করতে বাধ্য করা হয়।

ছাত্রীটি জানায়, আমি সই করতে রাজি না হওয়ায় তারা হুমকি দেয় যে, বাজারে যাওয়ার সময় আমার বাবাকে এবং মাদরাসা থেকে ফেরার পথে আমার ছোট ভাইকে মেরে ফেলা হবে। পরিবারের সবার জীবনের ভয়ে আমি বাধ্য হয়ে কাগজে স্বাক্ষর করি। এরপর তারা বিষয়টি গোপন রাখতে বলে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১ জুলাই বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম উল্টো আবুল কাসেমের কাছে তার মেয়েকে ফেরত নেওয়ার শর্তে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। এই অন্যায় দাবি ও বিয়ে মানতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দিন বিকেলেই আবুল কাসেমকে তার নিজ বাড়িতে সবার সামনে মারধর করেন সাইফুল ও তার সহযোগীরা। এরপর প্রভাব খাটিয়ে কাসেমের পরিবারকে এলাকাছাড়া করা হয়।

নিহতের স্ত্রী লাবণী আক্তার জানান, সাইফুল ও তার লোকজনের ভয়ে তারা গত চার দিন ধরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও মোবাইলের মাধ্যমে ক্রমাগত হুমকি ও টাকা দাবি করা হচ্ছিল। সকালে আবুল কাসেম একা বাড়ি ফেরেন। পরে স্বজনরা গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সাইফুল পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার স্ত্রী রুবা আক্তার দাবি করেন, আমার স্বামী বাড়িতে নেই। আর আমি যতটুকু জানি, সাইফুল ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করেননি।

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে সৃষ্ট মানসিক চাপ থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। নিহতের পরিবার থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করলে পুলিশ দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।