Dhaka ০৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরের দিকে চালানো এই হামলায় আরও অন্তত ৯১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৩০টি বহুতল ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা চলতি বছরে রাজধানীর ওপর চালানো সবচেয়ে বড় আক্রমণ।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর টাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যুর পর নিহতের সংখ্যা ২৭ জনে পৌঁছায়। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বাসিন্দাদের সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছে।

কিয়েভের দিনিপ্রো নদীর বাম তীরের একটি পূর্বাঞ্চলীয় শহরতলী থেকেই পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে এখনও আটজন বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন। হামলার ভয়াবহতা বিবেচনা করে কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো আজ পুরো কিয়েভ জুড়ে অফিশিয়াল শোক দিবস ঘোষণা করেছেন।

এই বিধ্বংসী হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত দেশে ফিরে আসেন এবং কিয়েভের একটি অর্ধেক ধ্বংস হয়ে যাওয়া নয় তলা আবাসিক ভবন পরিদর্শন করেন। তিনি এই ব্যাপক প্রাণহানির জন্য পশ্চিমা মিত্রদের সময়মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ না করাকে দায়ী করে বলেন যে অংশীদারেরা যদি তাদের প্রতিশ্রুতি সময়মতো রক্ষা করতো তবে আজ আরও অনেক জীবন ও ঘরবাড়ি বাঁচানো সম্ভব হতো।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে যে রাশিয়া রাতভর ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং রেকর্ডসংখ্যক ৪৯৬টি ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালিয়েছে। বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত স্বীকার করেছেন যে এবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি ছিল এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র ঘাটতি থাকায় এগুলোকে প্রতিহত করার হার ছিল অত্যন্ত কম।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তাদের এই হামলা মূলত কিয়েভের সামরিক অবকাঠামো, জ্বালানি কেন্দ্র এবং বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, যা ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার প্রতিশোধ।

সূত্র: রয়টার্স

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

রাশিয়ার মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২৭

Update Time : ০৪:৪৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরের দিকে চালানো এই হামলায় আরও অন্তত ৯১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৩০টি বহুতল ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা চলতি বছরে রাজধানীর ওপর চালানো সবচেয়ে বড় আক্রমণ।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর টাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যুর পর নিহতের সংখ্যা ২৭ জনে পৌঁছায়। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বাসিন্দাদের সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছে।

কিয়েভের দিনিপ্রো নদীর বাম তীরের একটি পূর্বাঞ্চলীয় শহরতলী থেকেই পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে এখনও আটজন বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন। হামলার ভয়াবহতা বিবেচনা করে কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো আজ পুরো কিয়েভ জুড়ে অফিশিয়াল শোক দিবস ঘোষণা করেছেন।

এই বিধ্বংসী হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত দেশে ফিরে আসেন এবং কিয়েভের একটি অর্ধেক ধ্বংস হয়ে যাওয়া নয় তলা আবাসিক ভবন পরিদর্শন করেন। তিনি এই ব্যাপক প্রাণহানির জন্য পশ্চিমা মিত্রদের সময়মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ না করাকে দায়ী করে বলেন যে অংশীদারেরা যদি তাদের প্রতিশ্রুতি সময়মতো রক্ষা করতো তবে আজ আরও অনেক জীবন ও ঘরবাড়ি বাঁচানো সম্ভব হতো।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে যে রাশিয়া রাতভর ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং রেকর্ডসংখ্যক ৪৯৬টি ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালিয়েছে। বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত স্বীকার করেছেন যে এবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি ছিল এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র ঘাটতি থাকায় এগুলোকে প্রতিহত করার হার ছিল অত্যন্ত কম।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তাদের এই হামলা মূলত কিয়েভের সামরিক অবকাঠামো, জ্বালানি কেন্দ্র এবং বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, যা ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার প্রতিশোধ।

সূত্র: রয়টার্স