Dhaka ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্য হাফিজের ডিএনএ পরীক্ষা

নিজেস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় তদন্তে অনেকটা গতি এসেছে। এ মামলায় গ্রেফতার সন্দেহভাজন আসামি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে।

তাকে গ্রেফতারের পর সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া সন্দেহভাজন আরও দুই সদস্যকে খুঁজছে মামলা তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বৃহস্পতিবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।

এদিকে ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) হাফিজুর রহমানকে পিবিআই ঢাকার কার্যালয়ে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পিবিআই সূত্রে জানা গেছে।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে গ্রেফতারের পর পিবিআই তাকে বুধবার বিকালে কুমিল্লার আদালতে হাজির করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোমিনুল হক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে বুধবারই হাফিজুর রহমানকে ঢাকায় ল্যাবে নিয়ে তার বেশ কিছু ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলাটি একাধিক সিনিয়র অফিসার তদারকি করছেন।

ডিএনএ বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই কঠোর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তায় বুধবারই গ্রেফতার হাফিজুর রহমানের ডিএনএ ল্যাবে নিয়ে নমুনা নেওয়া হয়।

ওই কর্মকর্তার ভাষ্য- সন্দেহভাজন আরও দুইজনকে আমরা খুঁজছি। রিমান্ড শেষে শনিবার কিংবা রোববার হাফিজুর রহমানকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হবে। তবে রিমান্ডে পাওয়া কোনো তথ্যের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট পিবিআই সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তদন্ত টিম তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পায়। তবে পরে আর এগুলো সন্দেহভাজন কারও সঙ্গে ডিএনএ মিলিয়ে (ক্রস ম্যাচ) দেখা হয়নি।

গত ৬ এপ্রিল এ মামলায় তিন সন্দেহভাজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করেছিল পিবিআই।

আদালতের আদেশ পেয়েই তাদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে পিবিআই। গ্রেফতার ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এই প্রথম সন্দেহভাজন একজনের ডিএনএ ক্রস ম্যাচ (মিলিয়ে দেখা) নমুনা নেওয়া হয়।

অপর দুইজনকে গ্রেফতারের পর তাদেরও ডিএনএ নমুনা নেওয়া হবে বলে পিবিআই জানিয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। দুই দফায় ময়নাতদন্তেও তনুর মৃত্যুর কারণ উল্লেখ ছিল না।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

এদিকে দেরিতে হলেও মামলার তদন্তে গতি আসায় ন্যায়বিচারের আশা দেখছে তনুর পরিবার। তনুর বাবা ও মামলার বাদী ইয়ার হোসেন বলেন, ১০টি বছর পুরো দেশবাসী মেয়েটার বিচারের জন্য প্রতীক্ষায় ছিল।

জড়িতদের নাম শুরু থেকেই বলে আসছি। মেয়ে হত্যার বিচার প্রভাবিত করতে দুই দফায় ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তাই ডিএনএ প্রতিবেদনের মাধ্যমে পিবিআই হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত ও বিচার নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্য হাফিজের ডিএনএ পরীক্ষা

Update Time : ০৬:১৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় তদন্তে অনেকটা গতি এসেছে। এ মামলায় গ্রেফতার সন্দেহভাজন আসামি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে।

তাকে গ্রেফতারের পর সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া সন্দেহভাজন আরও দুই সদস্যকে খুঁজছে মামলা তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বৃহস্পতিবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।

এদিকে ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) হাফিজুর রহমানকে পিবিআই ঢাকার কার্যালয়ে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পিবিআই সূত্রে জানা গেছে।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে গ্রেফতারের পর পিবিআই তাকে বুধবার বিকালে কুমিল্লার আদালতে হাজির করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোমিনুল হক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে বুধবারই হাফিজুর রহমানকে ঢাকায় ল্যাবে নিয়ে তার বেশ কিছু ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলাটি একাধিক সিনিয়র অফিসার তদারকি করছেন।

ডিএনএ বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই কঠোর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তায় বুধবারই গ্রেফতার হাফিজুর রহমানের ডিএনএ ল্যাবে নিয়ে নমুনা নেওয়া হয়।

ওই কর্মকর্তার ভাষ্য- সন্দেহভাজন আরও দুইজনকে আমরা খুঁজছি। রিমান্ড শেষে শনিবার কিংবা রোববার হাফিজুর রহমানকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হবে। তবে রিমান্ডে পাওয়া কোনো তথ্যের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট পিবিআই সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তদন্ত টিম তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পায়। তবে পরে আর এগুলো সন্দেহভাজন কারও সঙ্গে ডিএনএ মিলিয়ে (ক্রস ম্যাচ) দেখা হয়নি।

গত ৬ এপ্রিল এ মামলায় তিন সন্দেহভাজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করেছিল পিবিআই।

আদালতের আদেশ পেয়েই তাদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে পিবিআই। গ্রেফতার ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এই প্রথম সন্দেহভাজন একজনের ডিএনএ ক্রস ম্যাচ (মিলিয়ে দেখা) নমুনা নেওয়া হয়।

অপর দুইজনকে গ্রেফতারের পর তাদেরও ডিএনএ নমুনা নেওয়া হবে বলে পিবিআই জানিয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। দুই দফায় ময়নাতদন্তেও তনুর মৃত্যুর কারণ উল্লেখ ছিল না।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

এদিকে দেরিতে হলেও মামলার তদন্তে গতি আসায় ন্যায়বিচারের আশা দেখছে তনুর পরিবার। তনুর বাবা ও মামলার বাদী ইয়ার হোসেন বলেন, ১০টি বছর পুরো দেশবাসী মেয়েটার বিচারের জন্য প্রতীক্ষায় ছিল।

জড়িতদের নাম শুরু থেকেই বলে আসছি। মেয়ে হত্যার বিচার প্রভাবিত করতে দুই দফায় ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তাই ডিএনএ প্রতিবেদনের মাধ্যমে পিবিআই হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত ও বিচার নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।