Dhaka ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অভিজাত এলাকার অধিকাংশ পয়ঃবর্জ্য পড়ছে লেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধাসভা নির্বাচন : চলছে দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ বিশ্বকাপ শেষেই একসঙ্গে অবসরে যাবেন নিউজিল্যান্ডের ৩ তারকা ইরান যুদ্ধ : যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ চাঁদপুর ও নীলফামারীতে মেডিকেল কলেজ-হাসপাতাল নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি হত্যা: হিশামের বিষয়ে পুলিশকে আগেই সতর্ক করেছিল পরিবার ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে ২ বছরের শিশুকে বাঁচালেন বাবা আর হামলা নয়, ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প মূত্রনালীতে পাথর কেন হয় জ্বালানি সংকটে ভরসা সোলার পাম্প

অভিজাত এলাকার অধিকাংশ পয়ঃবর্জ্য পড়ছে লেকে

12 / 100 SEO Score

 

****গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতনের ৮৫ শতাংশ বাড়ির পয়ঃবর্জ্য লেকে ফেলছে

****ওয়াসার পয়ঃবর্জ্য লাইনের অধিকাংশ অকেজো

****দুর্গন্ধে গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতনের লেকপাড়ে হাঁটা দায়

রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকার বড় একটি অংশের পয়ঃবর্জ্য সরাসরি লেকে গিয়ে পড়ছে, যা নগর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অপরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে এই সমস্যা ক্রমেই প্রকট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বহু বাড়ি ও স্থাপনার পয়ঃনিষ্কাশন লাইন এখনো কেন্দ্রীয় শোধনব্যবস্থার আওতায় আসেনি। ফলে গৃহস্থালি বর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্যের বড় অংশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে লেকের পানিতে মিশে যাচ্ছে। এতে লেকের পানির মান দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং আশপাশের পরিবেশেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাশয়ে অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য পড়ার ফলে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়, জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুর্গন্ধসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। তারা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা এ সমস্যা সমাধানে আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যমান সংযোগগুলো নিয়মিত তদারকি এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
একসময় লেকপাড়ের বাসা বা বাড়ির দাম সবচেয়ে বেশি ছিল, ভাড়াটিয়াদের কাছেও ছিল বিশেষ চাহিদা। লেকের খোলামেলা পরিবেশ ও দক্ষিণমুখী বাতাস সবাই উপভোগ করতেন। এখন আর কেউ বাসার জানালা দিয়ে লেকের দিকে তাকান না। জানালা খুললেই দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ক্রমেই কমে যাচ্ছে লেকপাড়ের বাসাবাড়ির চাহিদা।’

এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন রাজধানী তথা দেশের প্রধান অভিজাত এলাকাখ্যাত গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনের মধ্যে একটি এলাকার একজন বাসিন্দা। এসব এলাকার অনেক বাসিন্দার কথাও প্রায় একই রকম। তাদের বক্তব্যের সারকথা ‘আভিজাত্য হারিয়েছে রাজধানীর অভিজাত এলাকা’।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ভবন এসব এলাকায়ই অবস্থিত। অথচ এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ওই চারটি এলাকার প্রায় ৮৫ শতাংশ বাড়ির পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নেই। পয়ঃবর্জ্য সরাসরি গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকে ফেলছেন বাড়ির মালিকরা। ফলে লেকের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

এখন পরিস্থিতি এমন, উৎকট গন্ধে লেকগুলোর দুই পাশে গড়ে ওঠা অভিজাত ভবনের টেরেস (খোলা জায়গা) ও বারান্দায় কেউ বসতে চান না। দুর্গন্ধের কারণে বাসার দরজা-জানালা বন্ধ রাখেন লেকপাড়ের ভবনের বাসিন্দারা।

এদিকে গুলশান, বনানী, বাড়িধারার লেকের ওই দূষণ আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদেরও ভোগাচ্ছে। বিশেষ করে বাড্ডা, শাহজাদপুর, কালাচাঁদপুর, মহাখালী এলাকার বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। লেকের আশপাশের ফুটপাতে চলার পথেও নাক চেপে হাঁটেন পথচারীরা।

এসব এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, লেকের পানির ওই দূষণের দায় অভিজাত এলাকার বাড়ির মালিক ও ঢাকা ওয়াসার। তাদের গাফিলতির কারণে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার এমন বিপর্যয় ঘটেছে। অভিজাত এলাকা আজ ‘অভিজাত দুর্গন্ধে’ রূপ নিয়েছে। দ্রুত এই পরিস্থিতি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সামাল দিতে হবে। পাশাপাশি যেসব ভবনে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি রয়েছে, এগুলো চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
যদিও ২০২৩ সালে বনানী, বারিধারা, নিকেতন এবং গুলশান পূর্ব ও পশ্চিমের বাসাবাড়িতে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নিয়ে জরিপ করেছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ওই জরিপে ৩ হাজার ৮৩০টি বাড়ি পর্যবেক্ষণ করেন ডিএনসিসির সংশ্লিষ্টরা। তখন জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছিল, ৩ হাজার ৮৩০টি বাড়ির মধ্যে ২ হাজার ২৬৫টি বাড়ির পয়ঃবর্জ্যই সরাসরি উন্মুক্ত নালা, খাল কিংবা লেকে ফেলা হচ্ছে। অর্থাৎ ৮৫ শতাংশ বাড়ির পয়ঃবর্জ্য সরাসরি নালায় মিশছে।

জরিপে এমন ফলাফল পাওয়ার পর লেকপাড়ের বেশকিছু বাড়ির পয়ঃবর্জ্যের সংযোগে কলাগাছ ঢুকিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিলেন ডিএনসিসির সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম। যদিও যেসব বাড়ির পয়ঃবর্জ্যের লাইনে কলাগাছ ঢোকানো হয়েছিল মেয়রের নির্দেশে, তা এখন আর নেই। অভিযানের পরপরই সব কলাগাছ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আগের মতোই পয়ঃবর্জ্য পড়ছে পানি নিষ্কাশনের নালায়। সেই পানি গড়িয়ে চলে যাচ্ছে লেকে।ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্র জানায়, নিয়ম অনুসারে বাসাবাড়ির পয়ঃবর্জ্যের সংযোগ দেওয়ার কথা ঢাকা ওয়াসার পয়ঃনিষ্কাশন নালায়। আর যেখানে ওই নালা নেই, সেসব এলাকার বাড়ির মালিককে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সেপটিক ট্যাংক স্থাপন করার কথা। কিন্তু এই দুটির কিছুই না করে পয়ঃবর্জ্য নিষ্কাশন সংযোগ দেওয়া হয়েছে সিটি করপোরেশনের খোলা নালায়। আর সেই নোংরা ও বিষাক্ত তরল বর্জ্য নালা থেকে খাল কিংবা লেকে গিয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে।বর্জ্য যাওয়ার কথা কোথায়, যাচ্ছে কোথায়

ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, একটি সড়কের দুপাশে ‘পাইপ ড্রেন’ থাকে। ওই দুটি ড্রেন থেকে বৃষ্টির পানি এবং গৃহস্থালির ব্যবহৃত পানি যায় সিটি করপোরেশনের স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইনে। স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইন হয়ে পানি বিভিন্ন লেক অথবা খালে গিয়ে পড়ে।

আর বাড়ির পয়ঃবর্জ্যের সংযোগ যাওয়ার কথা ঢাকা ওয়াসার পয়ঃলাইনে। সেই লাইন হয়ে পয়ঃবর্জ্য চলে যাবে ঢাকা ওয়াসার দাশেরকান্দির পয়ঃশোধনাগার বা পাগলা শোধনাগারে। কিন্তু গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতনে ঢাকা ওয়াসার যে পয়ঃনালা রয়েছে তা অনেক পুরোনো। এ কারণে অধিকাংশ জায়গায় বর্জ্য যেতে পারে না। অন্যদিকে এসব এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে সেপটিক ট্যাংকও নেই। তাই বিভিন্ন বাড়ির মালিক পয়ঃসংযোগ দিয়েছেন সিটি করপোরেশনের স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইন বা ড্রেনে। সেই বর্জ্য গিয়ে পড়ছে লেক বা খালে।অথচ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, বাড়ির পয়ঃবর্জ্যের সংযোগ ওয়াসার পয়ঃনালায় দিতে হবে। কোনো কারণে পয়ঃনালায় সংযোগ দিতে না পারলে সেপটিক ট্যাংকের মাধ্যমে বর্জ্য শোধন করতে হবে।ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে গুলশান-২ এর ১১২ নম্বর সড়কের ৪, ১৩, ১৪ নম্বর বাড়ি, ১১৮ নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর বাড়ি, বনানী ১৮ নম্বর সড়কের এফ ব্লকের ১৬ নম্বর বাড়ি, বনানীর ১৭ নম্বর সড়কের বিটিএ টাওয়ারের অবৈধ পয়ঃসংযোগ কলাগাছ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিল ডিএনসিসি। তখন ডিএনসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ছয় মাসের মধ্যে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সেপটিক ট্যাংক স্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে ওই এলাকার যেসব ভবনের পয়ঃবর্জ্য লেকে ফেলা হচ্ছে, তাদের একই নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু পরে তারা সেপটিক ট্যাংক স্থাপন করেছিল কি না বা ওয়াসার লাইনের সঙ্গে তাদের বাড়ির সংযোগ দিয়েছিল কি না তা আর যাচাই করেনি ডিএনসিসি।সম্প্রতি ওই বাড়িগুলোর চারপাশ পরিদর্শন করে পয়ঃবর্জ্যের সংযোগ সিটি করপোরেশনের নালায় দেখা যায়নি। তবে স্থানীয়দের অনেকে জানিয়েছেন, যেসব বাড়ির পয়ঃবর্জ্যের লাইন আগে দৃশ্যমানভাবে সিটি করপোরেশনের পাইপ ড্রেনে ছিল, অভিযান পরবর্তীসময়ে সেগুলো কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আর যেসব বাড়িতে অভিযান চালানো হয়নি, সেগুলো আগের মতোই আছে।

গুলশান-২ এর ১১২ নম্বর রোডের একটি ভবনে ৯ বছর ধরে নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করেন মনোয়ার হোসেন। ২০২৩ সালে সিটি করপোরেশন যেদিন ওই এলাকায় অভিযান চালায় তিনি তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আলাপকালে মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি যে বাড়িতে দায়িত্ব পালন করছি, সেই বাড়ির পয়ঃবর্জ্যের সংযোগও সিটি করপোরেশনের পাইপ ড্রেনে দেওয়া হয়েছে। অভিযানের দিন আমরা আশঙ্কা করছিলাম, আমাদের বাড়িতেও অভিযান চালাবে। এটা নিয়ে বাড়ির মালিকও চিন্তায় ছিলেন।’বারিধারার একটি বাসায় ভাড়া থাকেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হাসান আলী। লেকের পরিবেশ নিয়ে সম্প্রতি তার সঙ্গে কথা হয়। হাসান আলী বলেন, ‘লেকের চারপাশে সকাল-বিকেল হাঁটাচলার সুন্দর ব্যবস্থা আছে। কিন্তু গত কয়েক বছর লেকের পানি থেকে যে পরিমাণ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, তাতে লেকপাড়ে হাঁটা যায় না। শুনেছি, এই এলাকার সব ভবনের পয়ঃবর্জ্য লেকে পড়ে। সবমিলিয়ে যে লেকটি হতে পারতো নাগরিক কোলাহলে প্রশান্তির উৎস, সেটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।’

মহাখালীর ওয়ারলেসের বাসিন্দা সেলিম রেজা। তিনি গুলশান-১ এ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে হেঁটে অফিস যাচ্ছিলেন। এসময় মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারের পূর্বপাশে কথা হয় তার সঙ্গে।

সেলিম রেজা বলেন, ‘দেশের সেরা অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানী। অথচ এখানে তাদের বাড়িঘেঁষা লেকের পানিতে পয়ঃবর্জ্যের স্তূপ। এ বর্জ্য গড়িয়ে যায় হাতিরঝিলে। বর্জ্যের দুর্গন্ধে নিশ্বাস নেওয়া দায়।’পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ওয়াসার গাফিলতির অভিযোগ করেন গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাল, নদী, লেক ব্যবস্থাপনা একটি শহরের সৌন্দর্য শতভাগ বাড়িয়ে দেয়। এর মাধ্যমে পর্যটন নগরী গড়ে ওঠে। কিন্তু ঢাকার চারপাশের নদী, খালগুলো কয়েক যুগ আগেই মৃত। এখন গুলশান, বনানী বা বারিধারা লেক মৃত্যুর পথে। আমরা অনেক সময় নিজেদের খরচে গুলশান লেকের ময়লা ভাসমান এক্সকাভেটর দিয়ে পরিষ্কার করেছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে গুলশান, বনানী ও বারিধারা ডিওএইচএসের যত পয়ঃবর্জ্য সব ফেলা হচ্ছে লেকে। বারবার কর্তৃপক্ষকে বলার পরও কোনো কাজ হচ্ছে না।’প্রতি মাসে পানির বিলের সঙ্গে ঢাকা ওয়াসাকে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিল দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ওমর সাদাত বলেন, ‘ওয়াসাকে আমরা যে বিল পরিশোধ করি, সেটার একটা অংশ দেই পানির জন্য এবং আরেকটা অংশ দেই পয়ঃবর্জ্য শোধনের জন্য। যে পয়ঃবর্জ্য দাশেরকান্দিতে শোধন করার কথা, সেটা ফেলা হচ্ছে গুলশান লেকে। গুলশান লেককে ঢাকার একটা দোজখ বানানো হয়েছে। একটা সভ্য দেশে এ রকম হতে পারে, সেটা অবিশ্বাস্য।’

ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের পাইপলাইনে পয়ঃবর্জ্য দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।’

যা বলছে ওয়াসা
লেকে পয়ঃবর্জ্যের কথা স্বীকার করে ঢাকা ওয়াসা। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল কাদের ওয়াসার একটি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘গুলশান, বনানী, বারিধারা, তেজগাঁও, মহাখালী, নিকেতন এলাকায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার পয়ঃলাইন বিদ্যমান, যা সুষ্ঠুভাবে বর্ণিত এলাকায় পয়ঃসেবা প্রদানের জন্য যথেষ্ট নয়। বিধায়, উল্লেখিত এলাকার যেসব অংশে পয়ঃলাইন নেই সেসব এলাকার পয়ঃবর্জ্য বিভিন্নভাবে পাশের খাল, লেক ইত্যাদিতে পতিত হয়। তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দাশেরকান্দিতে পরিশোধিত হচ্ছে।’

ওই লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘ঢাকা ওয়াসার স্যুয়ারেজ মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ঢাকা মহানগরীতে পয়ঃলাইন নির্মাণ চলমান। বর্ণিত এলাকায় পয়ঃলাইন নির্মাণ সম্পন্ন হলে পয়ঃবর্জ্য সরাসরি নির্দিষ্ট পয়ঃশোধনাগারে নেওয়ার মাধ্যমে পরিশোধন করা সম্ভব হবে এবং পরিবেশের মানোন্নয়ন হবে। তবে এখন গুলশান-বনানী লেকের দূষণরোধে ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রম অব্যাহত।’

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অভিজাত এলাকার অধিকাংশ পয়ঃবর্জ্য পড়ছে লেকে

Update Time : ০৭:৫২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

****গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতনের ৮৫ শতাংশ বাড়ির পয়ঃবর্জ্য লেকে ফেলছে

****ওয়াসার পয়ঃবর্জ্য লাইনের অধিকাংশ অকেজো

****দুর্গন্ধে গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতনের লেকপাড়ে হাঁটা দায়

রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকার বড় একটি অংশের পয়ঃবর্জ্য সরাসরি লেকে গিয়ে পড়ছে, যা নগর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অপরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে এই সমস্যা ক্রমেই প্রকট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বহু বাড়ি ও স্থাপনার পয়ঃনিষ্কাশন লাইন এখনো কেন্দ্রীয় শোধনব্যবস্থার আওতায় আসেনি। ফলে গৃহস্থালি বর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্যের বড় অংশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে লেকের পানিতে মিশে যাচ্ছে। এতে লেকের পানির মান দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং আশপাশের পরিবেশেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাশয়ে অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য পড়ার ফলে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়, জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুর্গন্ধসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। তারা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা এ সমস্যা সমাধানে আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যমান সংযোগগুলো নিয়মিত তদারকি এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
একসময় লেকপাড়ের বাসা বা বাড়ির দাম সবচেয়ে বেশি ছিল, ভাড়াটিয়াদের কাছেও ছিল বিশেষ চাহিদা। লেকের খোলামেলা পরিবেশ ও দক্ষিণমুখী বাতাস সবাই উপভোগ করতেন। এখন আর কেউ বাসার জানালা দিয়ে লেকের দিকে তাকান না। জানালা খুললেই দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ক্রমেই কমে যাচ্ছে লেকপাড়ের বাসাবাড়ির চাহিদা।’

এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন রাজধানী তথা দেশের প্রধান অভিজাত এলাকাখ্যাত গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনের মধ্যে একটি এলাকার একজন বাসিন্দা। এসব এলাকার অনেক বাসিন্দার কথাও প্রায় একই রকম। তাদের বক্তব্যের সারকথা ‘আভিজাত্য হারিয়েছে রাজধানীর অভিজাত এলাকা’।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ভবন এসব এলাকায়ই অবস্থিত। অথচ এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ওই চারটি এলাকার প্রায় ৮৫ শতাংশ বাড়ির পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নেই। পয়ঃবর্জ্য সরাসরি গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকে ফেলছেন বাড়ির মালিকরা। ফলে লেকের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

এখন পরিস্থিতি এমন, উৎকট গন্ধে লেকগুলোর দুই পাশে গড়ে ওঠা অভিজাত ভবনের টেরেস (খোলা জায়গা) ও বারান্দায় কেউ বসতে চান না। দুর্গন্ধের কারণে বাসার দরজা-জানালা বন্ধ রাখেন লেকপাড়ের ভবনের বাসিন্দারা।

এদিকে গুলশান, বনানী, বাড়িধারার লেকের ওই দূষণ আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদেরও ভোগাচ্ছে। বিশেষ করে বাড্ডা, শাহজাদপুর, কালাচাঁদপুর, মহাখালী এলাকার বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। লেকের আশপাশের ফুটপাতে চলার পথেও নাক চেপে হাঁটেন পথচারীরা।

এসব এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, লেকের পানির ওই দূষণের দায় অভিজাত এলাকার বাড়ির মালিক ও ঢাকা ওয়াসার। তাদের গাফিলতির কারণে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার এমন বিপর্যয় ঘটেছে। অভিজাত এলাকা আজ ‘অভিজাত দুর্গন্ধে’ রূপ নিয়েছে। দ্রুত এই পরিস্থিতি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সামাল দিতে হবে। পাশাপাশি যেসব ভবনে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি রয়েছে, এগুলো চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
যদিও ২০২৩ সালে বনানী, বারিধারা, নিকেতন এবং গুলশান পূর্ব ও পশ্চিমের বাসাবাড়িতে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নিয়ে জরিপ করেছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ওই জরিপে ৩ হাজার ৮৩০টি বাড়ি পর্যবেক্ষণ করেন ডিএনসিসির সংশ্লিষ্টরা। তখন জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছিল, ৩ হাজার ৮৩০টি বাড়ির মধ্যে ২ হাজার ২৬৫টি বাড়ির পয়ঃবর্জ্যই সরাসরি উন্মুক্ত নালা, খাল কিংবা লেকে ফেলা হচ্ছে। অর্থাৎ ৮৫ শতাংশ বাড়ির পয়ঃবর্জ্য সরাসরি নালায় মিশছে।

জরিপে এমন ফলাফল পাওয়ার পর লেকপাড়ের বেশকিছু বাড়ির পয়ঃবর্জ্যের সংযোগে কলাগাছ ঢুকিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিলেন ডিএনসিসির সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম। যদিও যেসব বাড়ির পয়ঃবর্জ্যের লাইনে কলাগাছ ঢোকানো হয়েছিল মেয়রের নির্দেশে, তা এখন আর নেই। অভিযানের পরপরই সব কলাগাছ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আগের মতোই পয়ঃবর্জ্য পড়ছে পানি নিষ্কাশনের নালায়। সেই পানি গড়িয়ে চলে যাচ্ছে লেকে।ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্র জানায়, নিয়ম অনুসারে বাসাবাড়ির পয়ঃবর্জ্যের সংযোগ দেওয়ার কথা ঢাকা ওয়াসার পয়ঃনিষ্কাশন নালায়। আর যেখানে ওই নালা নেই, সেসব এলাকার বাড়ির মালিককে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সেপটিক ট্যাংক স্থাপন করার কথা। কিন্তু এই দুটির কিছুই না করে পয়ঃবর্জ্য নিষ্কাশন সংযোগ দেওয়া হয়েছে সিটি করপোরেশনের খোলা নালায়। আর সেই নোংরা ও বিষাক্ত তরল বর্জ্য নালা থেকে খাল কিংবা লেকে গিয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে।বর্জ্য যাওয়ার কথা কোথায়, যাচ্ছে কোথায়

ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, একটি সড়কের দুপাশে ‘পাইপ ড্রেন’ থাকে। ওই দুটি ড্রেন থেকে বৃষ্টির পানি এবং গৃহস্থালির ব্যবহৃত পানি যায় সিটি করপোরেশনের স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইনে। স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইন হয়ে পানি বিভিন্ন লেক অথবা খালে গিয়ে পড়ে।

আর বাড়ির পয়ঃবর্জ্যের সংযোগ যাওয়ার কথা ঢাকা ওয়াসার পয়ঃলাইনে। সেই লাইন হয়ে পয়ঃবর্জ্য চলে যাবে ঢাকা ওয়াসার দাশেরকান্দির পয়ঃশোধনাগার বা পাগলা শোধনাগারে। কিন্তু গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতনে ঢাকা ওয়াসার যে পয়ঃনালা রয়েছে তা অনেক পুরোনো। এ কারণে অধিকাংশ জায়গায় বর্জ্য যেতে পারে না। অন্যদিকে এসব এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে সেপটিক ট্যাংকও নেই। তাই বিভিন্ন বাড়ির মালিক পয়ঃসংযোগ দিয়েছেন সিটি করপোরেশনের স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইন বা ড্রেনে। সেই বর্জ্য গিয়ে পড়ছে লেক বা খালে।অথচ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, বাড়ির পয়ঃবর্জ্যের সংযোগ ওয়াসার পয়ঃনালায় দিতে হবে। কোনো কারণে পয়ঃনালায় সংযোগ দিতে না পারলে সেপটিক ট্যাংকের মাধ্যমে বর্জ্য শোধন করতে হবে।ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে গুলশান-২ এর ১১২ নম্বর সড়কের ৪, ১৩, ১৪ নম্বর বাড়ি, ১১৮ নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর বাড়ি, বনানী ১৮ নম্বর সড়কের এফ ব্লকের ১৬ নম্বর বাড়ি, বনানীর ১৭ নম্বর সড়কের বিটিএ টাওয়ারের অবৈধ পয়ঃসংযোগ কলাগাছ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিল ডিএনসিসি। তখন ডিএনসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ছয় মাসের মধ্যে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সেপটিক ট্যাংক স্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে ওই এলাকার যেসব ভবনের পয়ঃবর্জ্য লেকে ফেলা হচ্ছে, তাদের একই নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু পরে তারা সেপটিক ট্যাংক স্থাপন করেছিল কি না বা ওয়াসার লাইনের সঙ্গে তাদের বাড়ির সংযোগ দিয়েছিল কি না তা আর যাচাই করেনি ডিএনসিসি।সম্প্রতি ওই বাড়িগুলোর চারপাশ পরিদর্শন করে পয়ঃবর্জ্যের সংযোগ সিটি করপোরেশনের নালায় দেখা যায়নি। তবে স্থানীয়দের অনেকে জানিয়েছেন, যেসব বাড়ির পয়ঃবর্জ্যের লাইন আগে দৃশ্যমানভাবে সিটি করপোরেশনের পাইপ ড্রেনে ছিল, অভিযান পরবর্তীসময়ে সেগুলো কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আর যেসব বাড়িতে অভিযান চালানো হয়নি, সেগুলো আগের মতোই আছে।

গুলশান-২ এর ১১২ নম্বর রোডের একটি ভবনে ৯ বছর ধরে নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করেন মনোয়ার হোসেন। ২০২৩ সালে সিটি করপোরেশন যেদিন ওই এলাকায় অভিযান চালায় তিনি তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আলাপকালে মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি যে বাড়িতে দায়িত্ব পালন করছি, সেই বাড়ির পয়ঃবর্জ্যের সংযোগও সিটি করপোরেশনের পাইপ ড্রেনে দেওয়া হয়েছে। অভিযানের দিন আমরা আশঙ্কা করছিলাম, আমাদের বাড়িতেও অভিযান চালাবে। এটা নিয়ে বাড়ির মালিকও চিন্তায় ছিলেন।’বারিধারার একটি বাসায় ভাড়া থাকেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হাসান আলী। লেকের পরিবেশ নিয়ে সম্প্রতি তার সঙ্গে কথা হয়। হাসান আলী বলেন, ‘লেকের চারপাশে সকাল-বিকেল হাঁটাচলার সুন্দর ব্যবস্থা আছে। কিন্তু গত কয়েক বছর লেকের পানি থেকে যে পরিমাণ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, তাতে লেকপাড়ে হাঁটা যায় না। শুনেছি, এই এলাকার সব ভবনের পয়ঃবর্জ্য লেকে পড়ে। সবমিলিয়ে যে লেকটি হতে পারতো নাগরিক কোলাহলে প্রশান্তির উৎস, সেটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।’

মহাখালীর ওয়ারলেসের বাসিন্দা সেলিম রেজা। তিনি গুলশান-১ এ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে হেঁটে অফিস যাচ্ছিলেন। এসময় মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারের পূর্বপাশে কথা হয় তার সঙ্গে।

সেলিম রেজা বলেন, ‘দেশের সেরা অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানী। অথচ এখানে তাদের বাড়িঘেঁষা লেকের পানিতে পয়ঃবর্জ্যের স্তূপ। এ বর্জ্য গড়িয়ে যায় হাতিরঝিলে। বর্জ্যের দুর্গন্ধে নিশ্বাস নেওয়া দায়।’পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ওয়াসার গাফিলতির অভিযোগ করেন গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাল, নদী, লেক ব্যবস্থাপনা একটি শহরের সৌন্দর্য শতভাগ বাড়িয়ে দেয়। এর মাধ্যমে পর্যটন নগরী গড়ে ওঠে। কিন্তু ঢাকার চারপাশের নদী, খালগুলো কয়েক যুগ আগেই মৃত। এখন গুলশান, বনানী বা বারিধারা লেক মৃত্যুর পথে। আমরা অনেক সময় নিজেদের খরচে গুলশান লেকের ময়লা ভাসমান এক্সকাভেটর দিয়ে পরিষ্কার করেছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে গুলশান, বনানী ও বারিধারা ডিওএইচএসের যত পয়ঃবর্জ্য সব ফেলা হচ্ছে লেকে। বারবার কর্তৃপক্ষকে বলার পরও কোনো কাজ হচ্ছে না।’প্রতি মাসে পানির বিলের সঙ্গে ঢাকা ওয়াসাকে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিল দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ওমর সাদাত বলেন, ‘ওয়াসাকে আমরা যে বিল পরিশোধ করি, সেটার একটা অংশ দেই পানির জন্য এবং আরেকটা অংশ দেই পয়ঃবর্জ্য শোধনের জন্য। যে পয়ঃবর্জ্য দাশেরকান্দিতে শোধন করার কথা, সেটা ফেলা হচ্ছে গুলশান লেকে। গুলশান লেককে ঢাকার একটা দোজখ বানানো হয়েছে। একটা সভ্য দেশে এ রকম হতে পারে, সেটা অবিশ্বাস্য।’

ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের পাইপলাইনে পয়ঃবর্জ্য দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।’

যা বলছে ওয়াসা
লেকে পয়ঃবর্জ্যের কথা স্বীকার করে ঢাকা ওয়াসা। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল কাদের ওয়াসার একটি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘গুলশান, বনানী, বারিধারা, তেজগাঁও, মহাখালী, নিকেতন এলাকায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার পয়ঃলাইন বিদ্যমান, যা সুষ্ঠুভাবে বর্ণিত এলাকায় পয়ঃসেবা প্রদানের জন্য যথেষ্ট নয়। বিধায়, উল্লেখিত এলাকার যেসব অংশে পয়ঃলাইন নেই সেসব এলাকার পয়ঃবর্জ্য বিভিন্নভাবে পাশের খাল, লেক ইত্যাদিতে পতিত হয়। তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দাশেরকান্দিতে পরিশোধিত হচ্ছে।’

ওই লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘ঢাকা ওয়াসার স্যুয়ারেজ মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ঢাকা মহানগরীতে পয়ঃলাইন নির্মাণ চলমান। বর্ণিত এলাকায় পয়ঃলাইন নির্মাণ সম্পন্ন হলে পয়ঃবর্জ্য সরাসরি নির্দিষ্ট পয়ঃশোধনাগারে নেওয়ার মাধ্যমে পরিশোধন করা সম্ভব হবে এবং পরিবেশের মানোন্নয়ন হবে। তবে এখন গুলশান-বনানী লেকের দূষণরোধে ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রম অব্যাহত।’