Dhaka ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পশ্চিমবঙ্গ বিধাসভা নির্বাচন : চলছে দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ বিশ্বকাপ শেষেই একসঙ্গে অবসরে যাবেন নিউজিল্যান্ডের ৩ তারকা ইরান যুদ্ধ : যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ চাঁদপুর ও নীলফামারীতে মেডিকেল কলেজ-হাসপাতাল নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি হত্যা: হিশামের বিষয়ে পুলিশকে আগেই সতর্ক করেছিল পরিবার ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে ২ বছরের শিশুকে বাঁচালেন বাবা আর হামলা নয়, ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প মূত্রনালীতে পাথর কেন হয় জ্বালানি সংকটে ভরসা সোলার পাম্প বৃষ্টিতে নাকাল রাজধানীর কর্মজীবী মানুষ

ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে ২ বছরের শিশুকে বাঁচালেন বাবা

8 / 100 SEO Score

 

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে এক রুদ্ধশ্বাস ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন শত শত মানুষ। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও অসীম সাহসিকতায় সন্তানকে নিজের বুকের সাথে জাপটে ধরে রেললাইনের ওপর স্থির হয়ে শুয়ে থাকেনএক বাবা। ওপর দিয়ে ট্রেন চলে যাওয়ার পর বাবা ও ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ভৈরব স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই ঘটনাটি ঘটে। এই রোমহর্ষক ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা মুহূর্তেই দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুড়ি গ্রাম থেকে আসা ওই দম্পতি তাদের দুই বছর বয়সী শিশু সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর দুপুর আড়াইটার দিকে স্টেশনে পৌঁছায়। দম্পতিটি একটি কামরায় উঠতে যাওয়ার সময় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে মা ও শিশু সন্তান দুজনই প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মাঝখানের সরু ফাঁকা জায়গায় পড়ে যান।

অত্যন্ত সংকীর্ণ সেই স্থান থেকে মা কোনোভাবে দ্রুত প্ল্যাটফর্মে উঠে আসতে সক্ষম হলেও কোলের শিশুটিকে ওপরে টেনে তুলতে পারেননি। ঠিক সেই মুহূর্তে ট্রেনটি ছেড়ে দেওয়ার বাঁশি বেজে ওঠে। কোলের সন্তানকে নিচে রেখেই ট্রেন চলতে শুরু করছে দেখে বাবা আর কালক্ষেপণ না করে জীবন বাজি রেখে নিচে লাফিয়ে পড়েন।

মুহূর্তের মধ্যে তিনি শিশুটিকে কোলবালিশের মতো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে লাইনের পাশে স্থির হয়ে শুয়ে পড়েন। ট্রেনের কামরাগুলো যখন তাদের ওপর দিয়ে এক এক করে চলে যাচ্ছিল, প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা তখন ভয়ে চোখ বন্ধ করে ‘আল্লাহ আল্লাহ’ করছিলেন।

ট্রেনটি স্টেশন অতিক্রম করার পর দেখা যায়, বাবা ও সন্তান দুজনেই সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় রেললাইনের ওপর শুয়ে আছেন। উপস্থিত জনতা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ওপরে তুলে আনেন।

তিতাস ট্রেনের টিকিট বিক্রেতা ফালু মিয়া, যিনি ঘটনার পরপরই তাদের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন, তিনি জানান যে বাবার একটু নড়াচড়া করলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেত। বাবার অসীম ধৈর্য ও কোলের সন্তানকে রক্ষা করার দৃঢ়তা দেখে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রেনটি বিলম্বে আসায় প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। সেই ভিড়ে উঠতে গিয়েই এই বিপত্তি ঘটে। দুর্ঘটনার পর আতঙ্কিত ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ জানান, বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেলেও তাদের শরীরে কোনো গুরুতর আঘাত লাগেনি। পুলিশ তাদের প্রাথমিক সেবা দিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তারা আতঙ্কিত থাকায় ঢাকায় না গিয়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওই দম্পতি কটিয়াদীর লোহাজুড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেলেও তাদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে লিপিবদ্ধ করা সম্ভব হয়নি।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে ২ বছরের শিশুকে বাঁচালেন বাবা

Update Time : ০৫:৪৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে এক রুদ্ধশ্বাস ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন শত শত মানুষ। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও অসীম সাহসিকতায় সন্তানকে নিজের বুকের সাথে জাপটে ধরে রেললাইনের ওপর স্থির হয়ে শুয়ে থাকেনএক বাবা। ওপর দিয়ে ট্রেন চলে যাওয়ার পর বাবা ও ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ভৈরব স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই ঘটনাটি ঘটে। এই রোমহর্ষক ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা মুহূর্তেই দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুড়ি গ্রাম থেকে আসা ওই দম্পতি তাদের দুই বছর বয়সী শিশু সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর দুপুর আড়াইটার দিকে স্টেশনে পৌঁছায়। দম্পতিটি একটি কামরায় উঠতে যাওয়ার সময় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে মা ও শিশু সন্তান দুজনই প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মাঝখানের সরু ফাঁকা জায়গায় পড়ে যান।

অত্যন্ত সংকীর্ণ সেই স্থান থেকে মা কোনোভাবে দ্রুত প্ল্যাটফর্মে উঠে আসতে সক্ষম হলেও কোলের শিশুটিকে ওপরে টেনে তুলতে পারেননি। ঠিক সেই মুহূর্তে ট্রেনটি ছেড়ে দেওয়ার বাঁশি বেজে ওঠে। কোলের সন্তানকে নিচে রেখেই ট্রেন চলতে শুরু করছে দেখে বাবা আর কালক্ষেপণ না করে জীবন বাজি রেখে নিচে লাফিয়ে পড়েন।

মুহূর্তের মধ্যে তিনি শিশুটিকে কোলবালিশের মতো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে লাইনের পাশে স্থির হয়ে শুয়ে পড়েন। ট্রেনের কামরাগুলো যখন তাদের ওপর দিয়ে এক এক করে চলে যাচ্ছিল, প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা তখন ভয়ে চোখ বন্ধ করে ‘আল্লাহ আল্লাহ’ করছিলেন।

ট্রেনটি স্টেশন অতিক্রম করার পর দেখা যায়, বাবা ও সন্তান দুজনেই সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় রেললাইনের ওপর শুয়ে আছেন। উপস্থিত জনতা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ওপরে তুলে আনেন।

তিতাস ট্রেনের টিকিট বিক্রেতা ফালু মিয়া, যিনি ঘটনার পরপরই তাদের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন, তিনি জানান যে বাবার একটু নড়াচড়া করলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেত। বাবার অসীম ধৈর্য ও কোলের সন্তানকে রক্ষা করার দৃঢ়তা দেখে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রেনটি বিলম্বে আসায় প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। সেই ভিড়ে উঠতে গিয়েই এই বিপত্তি ঘটে। দুর্ঘটনার পর আতঙ্কিত ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ জানান, বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেলেও তাদের শরীরে কোনো গুরুতর আঘাত লাগেনি। পুলিশ তাদের প্রাথমিক সেবা দিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তারা আতঙ্কিত থাকায় ঢাকায় না গিয়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওই দম্পতি কটিয়াদীর লোহাজুড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেলেও তাদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে লিপিবদ্ধ করা সম্ভব হয়নি।