Dhaka ০৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ার এলোমেলো বিশ্বকাপের নেপথ্যে

12 / 100 SEO Score

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকেই ছিটকে গেছে অস্ট্রেলিয়া। ব্যর্থ অভিযান শেষে দলটির বোলিং আক্রমণ ও দল নির্বাচন নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা গ্রুপপর্বে টানা দুই ম্যাচ হেরে যাওয়ায় তাদের ভাগ্য অনেকটা হেলে পড়েছিল অন্যদের দিকে। গত মঙ্গলবার জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের ম্যাচ বৃষ্টিতে একটি বলও না হওয়ার পর ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। উভয় দল এক পয়েন্ট করে পায়, আর এতেই বিদায় ঘটে অস্ট্রেলিয়ার। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার এইটে কোয়ালিফাই করে জিম্বাবুয়ে।

মাইটি অস্ট্রেলিয়ার এবারের বিশ্বকাপ অভিযানকে অনেকেই “বিশৃঙ্খল” বলে আখ্যা দিয়েছেন। চোটের কারণে প্রধান পেসার প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউড আগেই ছিটকে যান। অধিনায়ক মিচেল মার্শ অনুশীলনে কুঁচকিতে আঘাত পেয়ে প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে পারেননি।

হ্যাজেলউড, কামিন্স বা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া মিচেল স্টার্ককে ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ “সাবেক গৌরবের ছায়ামাত্র” হয়ে পড়েছিল বলে মন্তব্য করেছে দ্য অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকা। পত্রিকাটি আরো বলে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ এর অক্টোবর পর্যন্ত ৬টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া পাঁচটি জয় ও একটি ড্র করেছিল। সমস্যা হলো, সেই সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একাধিক খেলোয়াড় বড় মঞ্চে এসে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।

ক্যামেরন গ্রিন, টিম ডেভিড, জশ ইংলিস, জেভিয়ার বার্টলেট ও বেন ডয়ারশুইসের পারফরম্যান্সে বড় পতন ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ হারও সমালোচনাকে উসকে দিয়েছে।

দল নির্বাচনের ভুল নিয়েও কড়া সমালোচনা হয়েছে। কুপার কনোলিকে দলে নেওয়ার বিষয়টি বলির পাঠা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। টেস্ট তারকা স্টিভ স্মিথকে বাদ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিগ ব্যাশ লিগে ওপেনিংয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এবং স্পিনের বিপক্ষে দক্ষ স্মিথকে শুরুতে দলে রাখা হয়নি। মার্শ চোট পাওয়ার পাঁচ দিন পরও কেন তিনি কলম্বোতে ছিলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে পত্রিকাটি।

শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হারের পর গত সপ্তাহে স্মিথকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু সোমবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচেও তাকে একাদশে রাখা হয়নি, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডার ধ্বসে পড়ে এবং তারা আট উইকেটে হারে।

সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ব্র্যাড হগ ব্রিটিশ স্পোর্টস রেডিও টকস্পোর্টকে বলেন, “আমাদের বোলিং গভীরতা নেই, আর সেটাই স্পষ্ট হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই বিশ্বকাপের জন্য আমরা যথেষ্ট প্রস্তুত ছিলাম না। এই অবস্থায় আমরা যা পেয়েছি, তা হয়তো প্রাপ্যই।” হগের মতে, নির্বাচক ও কোচিং স্টাফদের ওপর এখন চাপ বাড়বে।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অস্ট্রেলিয়ার এলোমেলো বিশ্বকাপের নেপথ্যে

Update Time : ০৬:৫৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
12 / 100 SEO Score

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকেই ছিটকে গেছে অস্ট্রেলিয়া। ব্যর্থ অভিযান শেষে দলটির বোলিং আক্রমণ ও দল নির্বাচন নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা গ্রুপপর্বে টানা দুই ম্যাচ হেরে যাওয়ায় তাদের ভাগ্য অনেকটা হেলে পড়েছিল অন্যদের দিকে। গত মঙ্গলবার জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের ম্যাচ বৃষ্টিতে একটি বলও না হওয়ার পর ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। উভয় দল এক পয়েন্ট করে পায়, আর এতেই বিদায় ঘটে অস্ট্রেলিয়ার। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার এইটে কোয়ালিফাই করে জিম্বাবুয়ে।

মাইটি অস্ট্রেলিয়ার এবারের বিশ্বকাপ অভিযানকে অনেকেই “বিশৃঙ্খল” বলে আখ্যা দিয়েছেন। চোটের কারণে প্রধান পেসার প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউড আগেই ছিটকে যান। অধিনায়ক মিচেল মার্শ অনুশীলনে কুঁচকিতে আঘাত পেয়ে প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে পারেননি।

হ্যাজেলউড, কামিন্স বা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া মিচেল স্টার্ককে ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ “সাবেক গৌরবের ছায়ামাত্র” হয়ে পড়েছিল বলে মন্তব্য করেছে দ্য অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকা। পত্রিকাটি আরো বলে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ এর অক্টোবর পর্যন্ত ৬টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া পাঁচটি জয় ও একটি ড্র করেছিল। সমস্যা হলো, সেই সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একাধিক খেলোয়াড় বড় মঞ্চে এসে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।

ক্যামেরন গ্রিন, টিম ডেভিড, জশ ইংলিস, জেভিয়ার বার্টলেট ও বেন ডয়ারশুইসের পারফরম্যান্সে বড় পতন ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ হারও সমালোচনাকে উসকে দিয়েছে।

দল নির্বাচনের ভুল নিয়েও কড়া সমালোচনা হয়েছে। কুপার কনোলিকে দলে নেওয়ার বিষয়টি বলির পাঠা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। টেস্ট তারকা স্টিভ স্মিথকে বাদ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিগ ব্যাশ লিগে ওপেনিংয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এবং স্পিনের বিপক্ষে দক্ষ স্মিথকে শুরুতে দলে রাখা হয়নি। মার্শ চোট পাওয়ার পাঁচ দিন পরও কেন তিনি কলম্বোতে ছিলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে পত্রিকাটি।

শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হারের পর গত সপ্তাহে স্মিথকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু সোমবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচেও তাকে একাদশে রাখা হয়নি, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডার ধ্বসে পড়ে এবং তারা আট উইকেটে হারে।

সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ব্র্যাড হগ ব্রিটিশ স্পোর্টস রেডিও টকস্পোর্টকে বলেন, “আমাদের বোলিং গভীরতা নেই, আর সেটাই স্পষ্ট হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই বিশ্বকাপের জন্য আমরা যথেষ্ট প্রস্তুত ছিলাম না। এই অবস্থায় আমরা যা পেয়েছি, তা হয়তো প্রাপ্যই।” হগের মতে, নির্বাচক ও কোচিং স্টাফদের ওপর এখন চাপ বাড়বে।