Dhaka ০৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান

8 / 100 SEO Score

পাক-আফগান সীমান্তের ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানের সেনাচৌকিতে হামলার পর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ সেই যুদ্ধেরই অংশ।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই ঘোষণা দিয়েছেন। এক্সবার্তায় তিনি বলেছেন, “আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আপনাদের সঙ্গে আমাদের কেবল যুদ্ধ হবে…পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সাগর থেকে ভেসে আসেনি। আমরা আপনাদের প্রতিবেশী: আপনাদের মতিগতি আমরা খুব ভালোভাবে জানি।”

খাজা আসিফ এক্সে এই বার্তা পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে আফগান সামরিক বাহিনীর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী।

আজ শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বিদেশি সংবাদমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি বলেছেন, রাত ৩ টা ৪৫ মিনিট থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছে পিএএফ এবং স্থলবাহিনী বা আর্মি। অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই রাজধানী কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

পাশাপাশি কাবুল, পাকতিয়া এবং কান্দাহারের ২৭টি সেনাচৌকি ধ্বংস এবং ৯টি চৌকি দখল করেছে পাকিস্তানের আর্মি।

এক্সবার্তায় মোশাররফ জাইদি জানিয়েছন, পিএএফের বোমাবর্ষণে ইতোমধ্যে আফগান সেনাবাহিনীর দু’টি সেনা হেডকোয়ার্টার, ৩টি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দু’টি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, ৩টি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার, ২টি সেক্টর হেডকোয়ার্টার, ৮০টিরও বেশি ট্যাংক এবং বিপুল সংখ্যক আর্টিলারি বন্দুক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার আফগানিস্তানের নানগারহার এবং পাকতিয়া প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছিল পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। এতে নিহত হয়েছিলেন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ। সংক্ষিপ্ত সেই অভিযানের পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আন্তঃসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, পাকিস্তানের তালেবানপন্থি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়েছিল এবং যারা নিহত হয়েছে— তারা সবাই টিটিপির যোদ্ধা।

তবে আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার পাল্টা দাবি করেছিল, জঙ্গিঘাঁটি নয়, লোকালয়ে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। তার পরেই তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, “এর বদলা আমরা নেবো।”

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার আফগান সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইনে অবস্থিত পাক সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন সেনাকে হত্যা এবং কয়েকজন সেনাকে অপহরণ করে আফগান সেনারা। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেন, “আমাদের সেনারা নাইট ভিশন এবং লেজার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এবার ওদের (পাকিস্তানি সেনাবাহিনী) আমরা নরকে পাঠাব।”

সীমান্ত এলকায় হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছে পাকিস্তান।

সূত্র : ডন, এনডিটিভি

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান

Update Time : ০৫:৫১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
8 / 100 SEO Score

পাক-আফগান সীমান্তের ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানের সেনাচৌকিতে হামলার পর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ সেই যুদ্ধেরই অংশ।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই ঘোষণা দিয়েছেন। এক্সবার্তায় তিনি বলেছেন, “আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আপনাদের সঙ্গে আমাদের কেবল যুদ্ধ হবে…পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সাগর থেকে ভেসে আসেনি। আমরা আপনাদের প্রতিবেশী: আপনাদের মতিগতি আমরা খুব ভালোভাবে জানি।”

খাজা আসিফ এক্সে এই বার্তা পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে আফগান সামরিক বাহিনীর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী।

আজ শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বিদেশি সংবাদমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি বলেছেন, রাত ৩ টা ৪৫ মিনিট থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছে পিএএফ এবং স্থলবাহিনী বা আর্মি। অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই রাজধানী কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

পাশাপাশি কাবুল, পাকতিয়া এবং কান্দাহারের ২৭টি সেনাচৌকি ধ্বংস এবং ৯টি চৌকি দখল করেছে পাকিস্তানের আর্মি।

এক্সবার্তায় মোশাররফ জাইদি জানিয়েছন, পিএএফের বোমাবর্ষণে ইতোমধ্যে আফগান সেনাবাহিনীর দু’টি সেনা হেডকোয়ার্টার, ৩টি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দু’টি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, ৩টি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার, ২টি সেক্টর হেডকোয়ার্টার, ৮০টিরও বেশি ট্যাংক এবং বিপুল সংখ্যক আর্টিলারি বন্দুক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার আফগানিস্তানের নানগারহার এবং পাকতিয়া প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছিল পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। এতে নিহত হয়েছিলেন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ। সংক্ষিপ্ত সেই অভিযানের পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আন্তঃসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, পাকিস্তানের তালেবানপন্থি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়েছিল এবং যারা নিহত হয়েছে— তারা সবাই টিটিপির যোদ্ধা।

তবে আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার পাল্টা দাবি করেছিল, জঙ্গিঘাঁটি নয়, লোকালয়ে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। তার পরেই তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, “এর বদলা আমরা নেবো।”

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার আফগান সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইনে অবস্থিত পাক সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন সেনাকে হত্যা এবং কয়েকজন সেনাকে অপহরণ করে আফগান সেনারা। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেন, “আমাদের সেনারা নাইট ভিশন এবং লেজার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এবার ওদের (পাকিস্তানি সেনাবাহিনী) আমরা নরকে পাঠাব।”

সীমান্ত এলকায় হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছে পাকিস্তান।

সূত্র : ডন, এনডিটিভি