Dhaka ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবারও ইরানে ভয়াবহ মার্কিন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে কয়েকদিন আগেই হওয়া যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা কার্যত নতুন সংকটের মুখে পড়েছে। আবার মার্কিন হামলার পর পাল্টা জবাব দেওয়ার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী মালবাহী জাহাজ এমভি এভার লাভলিতে ড্রোন হামলার জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের এই হামলা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং সম্প্রতি হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।

ইরান এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং সেই সঙ্গে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানের আইআরজিসি বলেছে, ওয়াশিংটন ‘বরাবরের মতোই তার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে’ এবং ইরানের নৌবাহিনী এই অঞ্চলের সেইসব স্থানে হামলা চালিয়েছে যেখানে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সংস্থাটি আরও যোগ করেছে, ‘এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটলে আমাদের জবাব আরও ব্যাপক হবে।’

সেন্টকমের এই ঘোষণার পর ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। ইরানের একটি সামরিক সূত্র অনুসারে, শুক্রবার স্থানীয় সময় আনুমানিক রাত ১১:১৫ মিনিটে দক্ষিণ ইরানের বন্দর নগরী সিরিকের ডক এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেখানে একটি বিস্ফোরণ ঘটে।

ঘটনার পর গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা কার্যকর থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে বলে দাবি করলেও সাম্প্রতিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। জাহাজে হামলার পর এ পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এর আগে হামলার কারণে নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

এদিকে ওমান হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি অস্থায়ী সামুদ্রিক করিডোর চালুর ঘোষণা দিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে জাহাজগুলো এই করিডোর ব্যবহার করতে পারবে।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আবারও ইরানে ভয়াবহ মার্কিন হামলা

Update Time : ০৬:১৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে কয়েকদিন আগেই হওয়া যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা কার্যত নতুন সংকটের মুখে পড়েছে। আবার মার্কিন হামলার পর পাল্টা জবাব দেওয়ার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী মালবাহী জাহাজ এমভি এভার লাভলিতে ড্রোন হামলার জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের এই হামলা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং সম্প্রতি হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।

ইরান এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং সেই সঙ্গে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানের আইআরজিসি বলেছে, ওয়াশিংটন ‘বরাবরের মতোই তার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে’ এবং ইরানের নৌবাহিনী এই অঞ্চলের সেইসব স্থানে হামলা চালিয়েছে যেখানে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সংস্থাটি আরও যোগ করেছে, ‘এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটলে আমাদের জবাব আরও ব্যাপক হবে।’

সেন্টকমের এই ঘোষণার পর ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। ইরানের একটি সামরিক সূত্র অনুসারে, শুক্রবার স্থানীয় সময় আনুমানিক রাত ১১:১৫ মিনিটে দক্ষিণ ইরানের বন্দর নগরী সিরিকের ডক এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেখানে একটি বিস্ফোরণ ঘটে।

ঘটনার পর গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা কার্যকর থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে বলে দাবি করলেও সাম্প্রতিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। জাহাজে হামলার পর এ পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এর আগে হামলার কারণে নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

এদিকে ওমান হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি অস্থায়ী সামুদ্রিক করিডোর চালুর ঘোষণা দিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে জাহাজগুলো এই করিডোর ব্যবহার করতে পারবে।