Dhaka ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান ইস্যুতে সামরিক প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় আগামী সপ্তাহের মধ্যেই দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে যৌথ সামরিক অভিযান চালাতে পারে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে দুই দেশ ইতোমধ্যে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এবার ইরানের ওপর আগের চেয়েও বহুগুণ তীব্র বোমাবর্ষণ করা হবে। এবারের হামলায় মূলত ইরানের সামরিক ও কৌশলগত বিভিন্ন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট) করা হবে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের তেল রপ্তানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখল করার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে আরও একটি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের কথা ভাবা হচ্ছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের মূল ভূখণ্ডে কমান্ডো পাঠিয়ে তাদের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম জব্দ করে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ইউরেনিয়াম জব্দের এই অভিযানটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক সেনা হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। কমান্ডোদের সহায়তার জন্য সেখানে কয়েক হাজার সেনার ব্যাকআপ রাখতে হবে, যাদের সঙ্গে ইরানি বাহিনীর সরাসরি রক্তক্ষয়ী লড়াই বেঁধে যেতে পারে।

এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল-১২’ কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধ অত্যাসন্ন—এমনটি ধরে নিয়েই ইসরায়েল সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। এখন তারা কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের দিকে তাকিয়ে আছেন। ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইরানিদের সঙ্গে আলোচনার টেবিল কীভাবে সামলান, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমেরিকানরা এখন স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো কূটনৈতিক সমাধান আসবে না। আমরা আগামী কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের একটি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

অবশ্য এর আগে গত শুক্রবার চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুটা নরম সুর ভাসিয়েছেন। তিনি জানান, ইরান যদি লিখিতভাবে সত্যিকার অর্থে এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা আগামী ২০ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখবে, তবে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারেন। অথচ এর আগে ট্রাম্পের কড়া শর্ত ছিল—ইরানকে ‘চিরজীবনের জন্য’ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ইরান ইস্যুতে সামরিক প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

Update Time : ০৫:১৩:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় আগামী সপ্তাহের মধ্যেই দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে যৌথ সামরিক অভিযান চালাতে পারে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে দুই দেশ ইতোমধ্যে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এবার ইরানের ওপর আগের চেয়েও বহুগুণ তীব্র বোমাবর্ষণ করা হবে। এবারের হামলায় মূলত ইরানের সামরিক ও কৌশলগত বিভিন্ন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট) করা হবে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের তেল রপ্তানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখল করার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে আরও একটি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের কথা ভাবা হচ্ছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের মূল ভূখণ্ডে কমান্ডো পাঠিয়ে তাদের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম জব্দ করে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ইউরেনিয়াম জব্দের এই অভিযানটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক সেনা হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। কমান্ডোদের সহায়তার জন্য সেখানে কয়েক হাজার সেনার ব্যাকআপ রাখতে হবে, যাদের সঙ্গে ইরানি বাহিনীর সরাসরি রক্তক্ষয়ী লড়াই বেঁধে যেতে পারে।

এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল-১২’ কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধ অত্যাসন্ন—এমনটি ধরে নিয়েই ইসরায়েল সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। এখন তারা কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের দিকে তাকিয়ে আছেন। ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইরানিদের সঙ্গে আলোচনার টেবিল কীভাবে সামলান, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমেরিকানরা এখন স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো কূটনৈতিক সমাধান আসবে না। আমরা আগামী কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের একটি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

অবশ্য এর আগে গত শুক্রবার চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুটা নরম সুর ভাসিয়েছেন। তিনি জানান, ইরান যদি লিখিতভাবে সত্যিকার অর্থে এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা আগামী ২০ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখবে, তবে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারেন। অথচ এর আগে ট্রাম্পের কড়া শর্ত ছিল—ইরানকে ‘চিরজীবনের জন্য’ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস