Dhaka ০৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর

10 / 100 SEO Score

আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটির আগেই দেশের সকল শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর বেইলি রোডে নিজ সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

আরএমজি ও নন-আরএমজি খাতে সম্ভাব্য শ্রম অসন্তোষ নিরসনে করণীয় নির্ধারণে এই সভার আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, কোনো অবস্থাতেই যেন শ্রমিকের পাওনা নিয়ে জটিলতা তৈরি না হয় এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের কাছে পাঠানো হবে। সংসদ সদস্যরা সরাসরি কারখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা নেবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইউসিবিএল, ট্রাস্ট ও প্রিমিয়ার ব্যাংকসহ যেসব ব্যাংক ঋণ প্রদানে দেরি করছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত অর্থের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেসব শ্রমিক নেতা অহেতুক উসকানি দিয়ে শিল্পখাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাদের ওপর স্থানীয় প্রশাসন ও সংসদ সদস্যদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। পাশাপাশি পলাতক মালিকদের প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা তৈরি করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন সরকারের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে জানান, সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যেই বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন যে, প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ অনুযায়ী কঠোর নজরদারির মাধ্যমে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। বিজিএমইএ-র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু থাকা ২১২৭টি কারখানার মধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশ ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ৭২ শতাংশের বেশি কারখানা ইতিমধ্যে বোনাস পরিশোধ করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মার্চ মাসের বেতন বাধ্যতামূলক না হলেও অনেকে এ নিয়ে উসকানি দিচ্ছে। বিকেএমইএ-র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও জানান যে, অধিকাংশ কারখানা বেতন-বোনাস দিয়ে দেওয়ায় বড় ধরনের অসন্তোষের আশঙ্কা নেই।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সমস্যার স্থায়ী সমাধানে একটি ‘আপদকালীন ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাব দেন। সভায় ঢাকা-১৯, ঢাকা-২০ এবং গাজীপুর জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় মন্ত্রণালয় সব সময় পাশে থাকবে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর

Update Time : ০৩:৪১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
10 / 100 SEO Score

আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটির আগেই দেশের সকল শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর বেইলি রোডে নিজ সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

আরএমজি ও নন-আরএমজি খাতে সম্ভাব্য শ্রম অসন্তোষ নিরসনে করণীয় নির্ধারণে এই সভার আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, কোনো অবস্থাতেই যেন শ্রমিকের পাওনা নিয়ে জটিলতা তৈরি না হয় এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের কাছে পাঠানো হবে। সংসদ সদস্যরা সরাসরি কারখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা নেবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইউসিবিএল, ট্রাস্ট ও প্রিমিয়ার ব্যাংকসহ যেসব ব্যাংক ঋণ প্রদানে দেরি করছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত অর্থের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেসব শ্রমিক নেতা অহেতুক উসকানি দিয়ে শিল্পখাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাদের ওপর স্থানীয় প্রশাসন ও সংসদ সদস্যদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। পাশাপাশি পলাতক মালিকদের প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা তৈরি করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন সরকারের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে জানান, সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যেই বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন যে, প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ অনুযায়ী কঠোর নজরদারির মাধ্যমে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। বিজিএমইএ-র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু থাকা ২১২৭টি কারখানার মধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশ ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ৭২ শতাংশের বেশি কারখানা ইতিমধ্যে বোনাস পরিশোধ করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মার্চ মাসের বেতন বাধ্যতামূলক না হলেও অনেকে এ নিয়ে উসকানি দিচ্ছে। বিকেএমইএ-র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও জানান যে, অধিকাংশ কারখানা বেতন-বোনাস দিয়ে দেওয়ায় বড় ধরনের অসন্তোষের আশঙ্কা নেই।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সমস্যার স্থায়ী সমাধানে একটি ‘আপদকালীন ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাব দেন। সভায় ঢাকা-১৯, ঢাকা-২০ এবং গাজীপুর জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় মন্ত্রণালয় সব সময় পাশে থাকবে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা হবে।