Dhaka ১০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক কেব্‌লে ৮ মিনিটে চীন থেকে রাশিয়া

8 / 100 SEO Score

 

দীর্ঘ সড়কপথ বা ফেরির অপেক্ষা ছাড়াই এবার মাত্র ৮ মিনিটে চীন থেকে রাশিয়ায় যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী শহর হেইহে ও ব্লাগোভেশচেনস্কের মধ্যে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক রোপওয়ে চালু হলে হেইলংজিয়াং নদীর ওপর দিয়ে কেব্‌লে চড়ে সরাসরি এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়া যাবে।

এতে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে সময় লাগবে মাত্র ৬ থেকে ৮ মিনিট। এই রোপওয়ে কীভাবে কাজ করবে, একসঙ্গে কতজন যাত্রী বহন করতে পারবে এবং এটি চালু হলে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ও যাতায়াতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, চলুন সহজভাবে জেনে নেওয়া যাক।

ঐতিহাসিক এই বাড়িতে নানা দামে রুম মিলবে। সাড়ে ৪ হাজার রুপি থেকে শুরু করে ২৫ হাজার রুপি পর্যন্ত। দামের সঙ্গে রুম থেকে ভিউ আর সুযোগ-সুবিধাও বদলে যাবে

এপারে চীন, ওপারে রাশিয়া
চীনের হেইহে ও রাশিয়ার ব্লাগোভেশচেনস্ক—দুটি শহরই হেইলুংচিয়াং নদীর দুই তীরে অবস্থিত। নদীর এক তীরে চীন, অন্য তীরে রাশিয়া। তাই এই নদীই দুই দেশের সীমান্ত হিসেবে কাজ করছে। তবে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দুই শহরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

এই যোগাযোগকে আরও সহজ করতে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় যাত্রীবাহী আন্তসীমান্ত রোপওয়ের নির্মাণকাজ। চীন (হেইলুংচিয়াং) পাইলট ফ্রি ট্রেড জোনের হেইহে অংশের ব্যবস্থাপনা কমিটির উপপরিচালক ঝাং ছিজুন জানিয়েছেন, পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলতি বছরের শেষ নাগাদ শেষ হবে।

প্রকল্পটির চীনা অংশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হেইহে-ভিত্তিক জিনলংগাং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছাও সিনহং জানান, রোপওয়ে চালু হলে নদী পেরিয়ে দুই সীমান্ত শহরের মধ্যে যেতে সময় লাগবে মাত্র ৬ থেকে ৮ মিনিট।

রোপওয়ে চালু হলে নদী পেরিয়ে দুই সীমান্ত শহরের মধ্যে যেতে সময় লাগবে মাত্র ৬ থেকে ৮ মিনিট

৯৭০ মিটার নদীর ওপর দুই কেবিন
রোপওয়েটি নদীর ওপর দিয়ে ৯৭০ মিটার পথ যাবে। এতে থাকবে দুটি কেবিন। প্রতিটি কেবিনে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১১০ জন যাত্রী যেতে পারবেন। রোপওয়েটি সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ১২ মিটার গতিতে চলবে।

বছরে এক পথ দিয়ে ২৬ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকবে। অর্থাৎ এটি শুধু দুই শহরের মধ্যে দ্রুত যাতায়াতের মাধ্যম নয়, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহনের জন্যও তৈরি করা হচ্ছে।

সেতু-ফেরির পর এবার রোপওয়ে
হেইহে ও ব্লাগোভেশচেনস্কের মধ্যে যোগাযোগের জন্য রোপওয়েই প্রথম নতুন ব্যবস্থা নয়। ২০২২ সালে দুই শহরের মধ্যে একটি মহাসড়ক সেতু চালু হয়। এটি ছিল চীন ও রাশিয়ার মধ্যে নির্মিত প্রথম মহাসড়ক সেতু।

রোপওয়ে চালু হলে হেইহেতে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতের তিনটি ব্যবস্থা থাকবে—মহাসড়ক সেতু, ফেরি ও রোপওয়ে। ঝাং ছিজুন বলেন, তিন ধরনের পরিবহনব্যবস্থা একসঙ্গে চালু থাকলে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পর্যটন, বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন বাড়বে।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

2 × 3 =

About Author Information

এক কেব্‌লে ৮ মিনিটে চীন থেকে রাশিয়া

Update Time : ০৪:১৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

দীর্ঘ সড়কপথ বা ফেরির অপেক্ষা ছাড়াই এবার মাত্র ৮ মিনিটে চীন থেকে রাশিয়ায় যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী শহর হেইহে ও ব্লাগোভেশচেনস্কের মধ্যে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক রোপওয়ে চালু হলে হেইলংজিয়াং নদীর ওপর দিয়ে কেব্‌লে চড়ে সরাসরি এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়া যাবে।

এতে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে সময় লাগবে মাত্র ৬ থেকে ৮ মিনিট। এই রোপওয়ে কীভাবে কাজ করবে, একসঙ্গে কতজন যাত্রী বহন করতে পারবে এবং এটি চালু হলে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ও যাতায়াতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, চলুন সহজভাবে জেনে নেওয়া যাক।

ঐতিহাসিক এই বাড়িতে নানা দামে রুম মিলবে। সাড়ে ৪ হাজার রুপি থেকে শুরু করে ২৫ হাজার রুপি পর্যন্ত। দামের সঙ্গে রুম থেকে ভিউ আর সুযোগ-সুবিধাও বদলে যাবে

এপারে চীন, ওপারে রাশিয়া
চীনের হেইহে ও রাশিয়ার ব্লাগোভেশচেনস্ক—দুটি শহরই হেইলুংচিয়াং নদীর দুই তীরে অবস্থিত। নদীর এক তীরে চীন, অন্য তীরে রাশিয়া। তাই এই নদীই দুই দেশের সীমান্ত হিসেবে কাজ করছে। তবে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দুই শহরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

এই যোগাযোগকে আরও সহজ করতে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় যাত্রীবাহী আন্তসীমান্ত রোপওয়ের নির্মাণকাজ। চীন (হেইলুংচিয়াং) পাইলট ফ্রি ট্রেড জোনের হেইহে অংশের ব্যবস্থাপনা কমিটির উপপরিচালক ঝাং ছিজুন জানিয়েছেন, পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলতি বছরের শেষ নাগাদ শেষ হবে।

প্রকল্পটির চীনা অংশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হেইহে-ভিত্তিক জিনলংগাং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছাও সিনহং জানান, রোপওয়ে চালু হলে নদী পেরিয়ে দুই সীমান্ত শহরের মধ্যে যেতে সময় লাগবে মাত্র ৬ থেকে ৮ মিনিট।

রোপওয়ে চালু হলে নদী পেরিয়ে দুই সীমান্ত শহরের মধ্যে যেতে সময় লাগবে মাত্র ৬ থেকে ৮ মিনিট

৯৭০ মিটার নদীর ওপর দুই কেবিন
রোপওয়েটি নদীর ওপর দিয়ে ৯৭০ মিটার পথ যাবে। এতে থাকবে দুটি কেবিন। প্রতিটি কেবিনে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১১০ জন যাত্রী যেতে পারবেন। রোপওয়েটি সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ১২ মিটার গতিতে চলবে।

বছরে এক পথ দিয়ে ২৬ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকবে। অর্থাৎ এটি শুধু দুই শহরের মধ্যে দ্রুত যাতায়াতের মাধ্যম নয়, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহনের জন্যও তৈরি করা হচ্ছে।

সেতু-ফেরির পর এবার রোপওয়ে
হেইহে ও ব্লাগোভেশচেনস্কের মধ্যে যোগাযোগের জন্য রোপওয়েই প্রথম নতুন ব্যবস্থা নয়। ২০২২ সালে দুই শহরের মধ্যে একটি মহাসড়ক সেতু চালু হয়। এটি ছিল চীন ও রাশিয়ার মধ্যে নির্মিত প্রথম মহাসড়ক সেতু।

রোপওয়ে চালু হলে হেইহেতে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতের তিনটি ব্যবস্থা থাকবে—মহাসড়ক সেতু, ফেরি ও রোপওয়ে। ঝাং ছিজুন বলেন, তিন ধরনের পরিবহনব্যবস্থা একসঙ্গে চালু থাকলে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পর্যটন, বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন বাড়বে।