বারবার ভুলে যাওয়া কতটা স্বাভাবিক?
এক ঘর থেকে অন্য ঘরে গিয়ে কেন গিয়েছিলেন তা ভুলে যাওয়া কিংবা পরিচিত কারও নাম হঠাৎ মনে না পড়া—এমন ঘটনা অনেকের জীবনেই ঘটে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক হলেও, যদি ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বারবার দেখা দেয় এবং দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করতে শুরু করে, তবে তা স্মৃতিশক্তির অবনতির সতর্ক সংকেত হতে পারে। তাই কোন ভুল স্বাভাবিক আর কোনটি উদ্বেগের কারণ, তা জানা জরুরি।
নয়ডার একটি হাসপাতালের স্নায়ুরোগের চিকিৎসক বিশাল জৈন বলছেন, ‘মাঝেমধ্যে সাময়িকভাবে কোনো কথা ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক। বয়স বৃদ্ধি, মানসিক চাপ, একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে গিয়ে এমন ভুল হয়েই যায়। ঘরের জিনিসপত্র কোথায় কী রেখেছেন মনে না পড়া, এক ঘর থেকে অন্য ঘরে গিয়ে কেন এসেছেন ভুলে যাওয়া, পরিচিত কারও নাম ভুলে যাওয়া, আবার পরে তা মনে পড়া- এগুলো খুব বেশি চিন্তার নয়। তবে, যদি দৈনন্দিন ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে এবং তা জীবনযাপনে প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার।’
কোন লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হতে হবে?
-ভুলে যাওয়ার মাত্রা দিন দিন বেড়ে যাওয়া।
-দৈনন্দিন কাজ বা অর্থের হিসাব রাখতে সমস্যা হওয়া।
-আচরণ ও মেজাজে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হওয়া।
-পরিচিত জায়গায় গিয়েও পথ চিনতে না পারা।
-সময়, স্থান বা পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়া।
-কথা বলতে বা সঠিক শব্দ খুঁজে পেতে অসুবিধা হওয়া।
-একই কথা বা প্রশ্ন বারবার পুনরাবৃত্তি করা।
এ ধরনের সমস্যার পেছনে শুধু বয়সই দায়ী নয়। ভিটামিন বি১২ বা ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা হরমোনজনিত পরিবর্তনও স্মৃতিশক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।
স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে যদি ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দৈনন্দিন জীবন ও কাজের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তাহলে দেরি না করে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।





















