Dhaka ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক মাসে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম

12 / 100 SEO Score

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং তার জেরে হরমুজ প্রণালিতে তেহরান অবরোধ জারি করায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল, বিশেষ করে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক মাসে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা এই দামবৃদ্ধিকে ‘রেকর্ড’ বলে উল্লেখ করেছে।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে তারা বলেছেন, ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর এই প্রথম এত অল্প সময়ের ব্যবধানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এই পরিমাণ বেড়েছে।

তারা আরও বলেছেন, তেলের ঘাটতির কারণে দামের এই উল্লম্ফন ঘটেনি; বরং এর জন্য দায়ী বাজারে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়া।

আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

হরমুজ প্রণালীকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ সৌদি, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল অতি সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, যুদ্ধ যতদিন চলবে— ততদিন এ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের যেসব মিত্র এই যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীকে সহায়তা করছে— তাদের জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।

আইআরজিসির এ পদক্ষেপে বিপদে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ ৬ দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং ওমান। কারণ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে এসব দেশে স্থাপিত সেনাঘাঁটিগুলো ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এসব দেশের তেলবাহী জাহাজগুলো চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়মিত সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মোট সরবরাহের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে এই দেশগুলো থেকে। এসব দেশের তেল স্থাপনাগুলোতে গত এক মাসে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করেছে ইরান।

জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারে বড় সরবরাহ আসে সৌদি আরব থেকে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো সৌদি তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে না। অপরিশোধিত তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালির পরিবর্তে নিজেদের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করছে সৌদি। গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন এই বন্দর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের উদ্দেশে গিয়েছে ৪৬ লাখ ৫৮ হাজার ব্যারেল তেল।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা জেপি মর্গানের বিশ্লেষক নাতাশা কানেভা রয়টার্সকে বলেন, “যুদ্ধের প্রথম দিকে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি ছিল— এখন সেই ঝুঁকি লোহিত সাগর এবং বাব আল মান্দেব প্রণালি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই দু’টি রুটে ঝুঁকি আরও বাড়লে সামনের দিনগুলোতে বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।”

সূত্র: রয়টার্স

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এক মাসে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম

Update Time : ০৫:২৯:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
12 / 100 SEO Score

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং তার জেরে হরমুজ প্রণালিতে তেহরান অবরোধ জারি করায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল, বিশেষ করে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক মাসে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা এই দামবৃদ্ধিকে ‘রেকর্ড’ বলে উল্লেখ করেছে।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে তারা বলেছেন, ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর এই প্রথম এত অল্প সময়ের ব্যবধানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এই পরিমাণ বেড়েছে।

তারা আরও বলেছেন, তেলের ঘাটতির কারণে দামের এই উল্লম্ফন ঘটেনি; বরং এর জন্য দায়ী বাজারে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়া।

আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

হরমুজ প্রণালীকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ সৌদি, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল অতি সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, যুদ্ধ যতদিন চলবে— ততদিন এ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের যেসব মিত্র এই যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীকে সহায়তা করছে— তাদের জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।

আইআরজিসির এ পদক্ষেপে বিপদে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ ৬ দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং ওমান। কারণ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে এসব দেশে স্থাপিত সেনাঘাঁটিগুলো ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এসব দেশের তেলবাহী জাহাজগুলো চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়মিত সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মোট সরবরাহের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে এই দেশগুলো থেকে। এসব দেশের তেল স্থাপনাগুলোতে গত এক মাসে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করেছে ইরান।

জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারে বড় সরবরাহ আসে সৌদি আরব থেকে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো সৌদি তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে না। অপরিশোধিত তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালির পরিবর্তে নিজেদের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করছে সৌদি। গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন এই বন্দর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের উদ্দেশে গিয়েছে ৪৬ লাখ ৫৮ হাজার ব্যারেল তেল।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা জেপি মর্গানের বিশ্লেষক নাতাশা কানেভা রয়টার্সকে বলেন, “যুদ্ধের প্রথম দিকে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি ছিল— এখন সেই ঝুঁকি লোহিত সাগর এবং বাব আল মান্দেব প্রণালি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই দু’টি রুটে ঝুঁকি আরও বাড়লে সামনের দিনগুলোতে বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।”

সূত্র: রয়টার্স