Dhaka ১২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমির সরিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ খাদেমের, মাজারের দিঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
4 / 100 SEO Score

 

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘি থেকে একমাত্র মিঠাপানির কুমির সরিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজারের প্রধান খাদেম। তিনি কুমিরটিকে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তিন দিন আগে কুমিরের আক্রমণে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসন ও বন বিভাগ কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর বুধবার (৩ জুন) বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুমিরটিকে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

মাজারের প্রধান খাদেম ও সাবেক জেলা যুবদল নেতা ফকির তারিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজার এবং এই দিঘি সাড়ে ৫০০ বছর ধরে আমাদের পরিবার এবং আমরা দেখভাল করে আসছি। হ্যাঁ, আমাদের ভুলত্রুটি থাকতে পারে। এটা (কুমির) বাগেরহাটের মানুষের একটা সম্পদ। দুর্ঘটনা যেকোনো জায়গায় হতে পারে। তাই বলে কুমিরটি নিয়ে যাওয়া ঠিক হয়নি। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন ‘বাগেরহাট থানায় যদি কোনো লোক মারা যায়, তাহলে কি ওসির চাকরি চলে যাবে? থানা বন্ধ করে দিতে হবে, এমন কোনো নিয়ম আছে নাকি?’

কুমির দেখার জন্য এখানে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘কুমিরকে অনতিবিলম্বে এখানে দেওয়া হোক। এর নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা হোক, আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা নেব এবং আমরা তা করব। এর আগে কুমিরে কুকুরে খাওয়ার জন্য সমস্যা হয়েছিল, আপনারা জানেন। আমরা আটজন দারোয়ান এখানে রেখেছি। তারপরও এইভাবে এক দিনের মধ্যে পুলিশ নিয়ে আইসে আমাদের কুমিরটাকে নিয়ে যাওয়া, এটা ভালো কাজ হয় নাই। দুর্ঘটনা হয়েছে বলে আমরা একেবারে ঐতিহ্য-ইতিহাস নষ্ট করে দেব, এটা তো ঠিক না।’

অন্যদিকে, নিরাপত্তার স্বার্থে কুমির সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন অনেক দর্শনার্থী। মোল্লাহাট থেকে আসা দর্শনার্থী শাহিদা বেগম বলেন, কোনো প্রাণহানি কাম্য নয়। তবে উপযুক্ত বেষ্টনী নির্মাণ করে কুমিরটিকে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) ২০০০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিল, মিঠাপানির কুমির বাংলাদেশ থেকে একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। মাজারের দিঘির কুমিরগুলো ছিল মিঠাপানির।

করমজল বন্য প্রাণী ও কুমির প্রজনন কেন্দ্র-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ‘সুন্দরবনে এখানে আমরা তো কুমির থেকে বাচ্চা ফোটাচ্ছি। প্রশাসন যদি কঠোর হয়, বাইরের যদি কোনো হস্তক্ষেপ না থাকে, তবে ওই দিঘির এক পাড়ে একটি কুমির প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন নদ-নদী থেকে বেশ কয়েকটি মিঠাপানির কুমির উদ্ধার হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।’

এদিকে বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, ‘মিঠাপানির কুমিরকে নিয়ে লোনাপানির সুন্দরবনে ছাড়া হলে এটি বাঁচবে না। তা করাও হবে না। আমরা চেষ্টা করি যে প্রাণী যে পরিবেশের, তেমন পরিবেশেই ফিরিয়ে দিতে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুমিরটি কোথায় ছাড়া হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।’

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, কুমিরটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা পরে জানানো হবে।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

কুমির সরিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ খাদেমের, মাজারের দিঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি

Update Time : ০৬:৩৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
4 / 100 SEO Score

 

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘি থেকে একমাত্র মিঠাপানির কুমির সরিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজারের প্রধান খাদেম। তিনি কুমিরটিকে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তিন দিন আগে কুমিরের আক্রমণে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসন ও বন বিভাগ কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর বুধবার (৩ জুন) বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুমিরটিকে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

মাজারের প্রধান খাদেম ও সাবেক জেলা যুবদল নেতা ফকির তারিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজার এবং এই দিঘি সাড়ে ৫০০ বছর ধরে আমাদের পরিবার এবং আমরা দেখভাল করে আসছি। হ্যাঁ, আমাদের ভুলত্রুটি থাকতে পারে। এটা (কুমির) বাগেরহাটের মানুষের একটা সম্পদ। দুর্ঘটনা যেকোনো জায়গায় হতে পারে। তাই বলে কুমিরটি নিয়ে যাওয়া ঠিক হয়নি। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন ‘বাগেরহাট থানায় যদি কোনো লোক মারা যায়, তাহলে কি ওসির চাকরি চলে যাবে? থানা বন্ধ করে দিতে হবে, এমন কোনো নিয়ম আছে নাকি?’

কুমির দেখার জন্য এখানে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘কুমিরকে অনতিবিলম্বে এখানে দেওয়া হোক। এর নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা হোক, আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা নেব এবং আমরা তা করব। এর আগে কুমিরে কুকুরে খাওয়ার জন্য সমস্যা হয়েছিল, আপনারা জানেন। আমরা আটজন দারোয়ান এখানে রেখেছি। তারপরও এইভাবে এক দিনের মধ্যে পুলিশ নিয়ে আইসে আমাদের কুমিরটাকে নিয়ে যাওয়া, এটা ভালো কাজ হয় নাই। দুর্ঘটনা হয়েছে বলে আমরা একেবারে ঐতিহ্য-ইতিহাস নষ্ট করে দেব, এটা তো ঠিক না।’

অন্যদিকে, নিরাপত্তার স্বার্থে কুমির সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন অনেক দর্শনার্থী। মোল্লাহাট থেকে আসা দর্শনার্থী শাহিদা বেগম বলেন, কোনো প্রাণহানি কাম্য নয়। তবে উপযুক্ত বেষ্টনী নির্মাণ করে কুমিরটিকে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) ২০০০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিল, মিঠাপানির কুমির বাংলাদেশ থেকে একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। মাজারের দিঘির কুমিরগুলো ছিল মিঠাপানির।

করমজল বন্য প্রাণী ও কুমির প্রজনন কেন্দ্র-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ‘সুন্দরবনে এখানে আমরা তো কুমির থেকে বাচ্চা ফোটাচ্ছি। প্রশাসন যদি কঠোর হয়, বাইরের যদি কোনো হস্তক্ষেপ না থাকে, তবে ওই দিঘির এক পাড়ে একটি কুমির প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন নদ-নদী থেকে বেশ কয়েকটি মিঠাপানির কুমির উদ্ধার হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।’

এদিকে বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, ‘মিঠাপানির কুমিরকে নিয়ে লোনাপানির সুন্দরবনে ছাড়া হলে এটি বাঁচবে না। তা করাও হবে না। আমরা চেষ্টা করি যে প্রাণী যে পরিবেশের, তেমন পরিবেশেই ফিরিয়ে দিতে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুমিরটি কোথায় ছাড়া হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।’

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, কুমিরটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা পরে জানানো হবে।