গরমে যেভাবে ত্বকের যত্ন নিবেন
গরমে প্রাণ জুড়ায় পানিতে। পানি খেলে তো বটেই, মুখে পানি দিলেও আরাম হয়। দেহকে ভেতর থেকে সতেজ রাখতে পানি খেতে হবে পর্যাপ্ত। মুখ ধোয়াও ভালো অভ্যাস, তবে বারবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া ঠিক নয়।
ত্বকের ধরন যেমনই হোক, এমন কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলা উচিত সবারই—
এ সময় স্বাস্থ্যকর পানীয় খাওয়া প্রয়োজন
টাটকা ফলমূল, শাকসবজি ও পর্যাপ্ত পানি বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর পানীয় খাওয়া প্রয়োজন। পানির অভাবে সহজেই ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত ঘাম হলে পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে নিন।
ঘাম হলে ত্বক মুছে ফেলুন। ত্বক পরিচ্ছন্ন রাখুন। বিশেষত দেহের বিভিন্ন ভাঁজ যেন ভিজে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
প্রসাধনী বেছে নিন ত্বকের ধরন বুঝে। বিশেষত সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। তা ছাড়া কারও যদি নির্দিষ্ট কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকে, তা অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে।
ফেসওয়াশ বা সাবান অতিরিক্ত ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখুন ঠিকঠাক। রোজ অন্তত দুবার ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। এ ছাড়া প্রয়োজনে পানি বা ভেজা টিস্যু ব্যবহার করা যেতে পারে।
ত্বক ধোয়ার পর ভেজা ভাব থাকতে থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী গরমের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন।
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্থানে থাকলেও ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়তে পারে। তাই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে যত্নশীল হোন।
সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে নিয়মিত
নিয়মমাফিক সানস্ক্রিন সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে অবশ্যই। নির্দিষ্ট সময় অন্তর আবার প্রয়োগ করুন এ ধরনের প্রসাধন। সরাসরি রোদের তাপ থেকে বাঁচতে ছাতা, ক্যাপ, হ্যাট ও স্কার্ফের মতো অনুষঙ্গ কাজে লাগাতে পারেন। সুতি কাপড় বেছে নিন, যাতে ত্বক ও চুলে বাতাস চলাচল করতে পারে, আবার রোদও না লাগে।
সানগ্লাস ব্যবহার করুন। এটি কেবল ফ্যাশনেরই নয়, সুস্থতারও অনুষঙ্গ।
সুস্থতা ও সৌন্দর্য চর্চায় পর্যাপ্ত ঘুম আবশ্যক।
এ ছাড়া ত্বকের ধরন অনুযায়ী কিছুটা বাড়তি যত্নের ব্যবস্থা করার প্রয়োজন হতে পারে।
নিয়ম মেনে চলার পরও কখনো কখনো ত্বকের অতিরিক্ত ফাটা ভাব বা অন্য কোনো অস্বস্তি রয়ে যেতে পারে। এমন অবস্থায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
শুষ্ক ও ফাটা ত্বকের যত্নে
ত্বকে মানাবে এমন ফেসওয়াশ বেছে নিন। মুখে গরম পানি দেবেন না। ময়েশ্চারাইজার লাগান দিনে তিন থেকে চারবার। সমপরিমাণ অ্যালোভেরা জেল, মধু আর টক দইয়ের মিশ্রণ দিয়ে প্যাক তৈরি করতে পারেন। কিংবা সমপরিমাণ টক দই আর মধুর মিশ্রণ দিয়েও প্যাক বানিয়ে নিতে পারেন। এ ধরনের প্যাক ব্যবহারে ত্বক কোমল ও উজ্জ্বল হয়।
অনেকক্ষন রোদে থাকলে ব্যবহার করতে পারেন মানানসই ফেস মিস্ট
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য
এমন ক্রিম ব্যবহার করুন, যেগুলোতে পানি আছে বেশি। তৈলাক্ত ময়েশ্চারাইজার এড়িয়ে চলুন। খুব বেশি মেকআপ না করাই ভালো। সমপরিমাণ মুলতানি মাটি আর গোলাপজল দিয়ে প্যাক তৈরি করা যেতে পারে। এই প্যাক ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমাতে সাহায্য করে। এতে ত্বক সতেজও থাকে।
মিশ্র ত্বকের ব্যাপার-স্যাপার
মানানসই ফেসওয়াশ বেছে নেওয়া ভালো। কপাল, নাক ও থুতনির ত্বকের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখুন। ময়েশ্চারাইজারও নিন ত্বক অনুযায়ী। সমপরিমাণ অ্যালোভেরা জেল আর শসার রস দিয়ে প্যাক তৈরি করতে পারেন এ ধরনের ত্বকের জন্য। তাতে ত্বক ঠান্ডা থাকবে। শুষ্কতা ও তৈলাক্ততার ভারসাম্যও থাকবে।


























