Dhaka ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতি ছাড়াল ১৫০ কোটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প, স্লুইসগেট, খাল ও অন্যান্য জলকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এসব অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছে পাউবো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, বাঁশখালী, আনোয়ারা, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ ও সন্দ্বীপ উপজেলা। এছাড়া খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকাও বন্যার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ-১-এর আওতায় ৭৪টি স্থানে প্রায় ২২ কোটি ৯১ লাখ টাকার এবং বিভাগ-২-এর আওতায় ৯৩টি স্থানে প্রায় ৮৬ কোটি ৯২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে। দুই বিভাগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে ১০৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকারও বেশি। এছাড়া রাঙামাটি পানি উন্নয়ন বিভাগের আওতায় ১০২টি স্থানে প্রায় ৮ দশমিক ৫৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব স্থাপনা পুনর্বাসনে প্রায় ৪১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয় হবে।

ফটিকছড়িতে হালদা ও ধুরং নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প এবং বিভিন্ন সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানে হালদা, কর্ণফুলী, ইছামতি নদীসহ বিভিন্ন নদী ও খালের তীর ভেঙে গেছে এবং বাঁধ ধসে পড়েছে।

আনোয়ারা, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ায় পোল্ডার, সাঙ্গু ও ডলু নদী এবং বিভিন্ন খালের বাঁধ ও তীররক্ষা স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। বাঁশখালীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, খালের পাড় এবং একাধিক স্লুইসগেট ও ফ্ল্যাপগেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা উপকূলীয় এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

এছাড়া খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি সদর ও মাটিরাঙ্গা উপজেলায় মাইনী ও চেঙ্গী নদীর তীর ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সন্দ্বীপে কয়েকটি স্লুইসগেট এবং সীতাকুণ্ডে একটি রেগুলেটর স্লুইসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের পাউবোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা। মাঠপর্যায়ে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ, নদীতীর ও জলকাঠামো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে নতুন করে ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানো যায়।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, বর্তমান সরকার উপকূলীয় জনগণের জানমাল রক্ষায় বদ্ধপরিকর। সাম্প্রতিক বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত এবং পানিবন্দি পরিবারের পুনর্বাসনে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে আনোয়ারার বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় আমাদের বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প, স্লুইসগেট ও অন্যান্য জলকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে প্রকৌশলীরা এখনও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ করছেন। যেসব স্থানে ভাঙন ও ক্ষতি বেশি হয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে জরুরি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থায়ী পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প ও বরাদ্দের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতি ছাড়াল ১৫০ কোটি

Update Time : ০২:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প, স্লুইসগেট, খাল ও অন্যান্য জলকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এসব অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছে পাউবো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, বাঁশখালী, আনোয়ারা, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ ও সন্দ্বীপ উপজেলা। এছাড়া খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকাও বন্যার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ-১-এর আওতায় ৭৪টি স্থানে প্রায় ২২ কোটি ৯১ লাখ টাকার এবং বিভাগ-২-এর আওতায় ৯৩টি স্থানে প্রায় ৮৬ কোটি ৯২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে। দুই বিভাগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে ১০৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকারও বেশি। এছাড়া রাঙামাটি পানি উন্নয়ন বিভাগের আওতায় ১০২টি স্থানে প্রায় ৮ দশমিক ৫৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব স্থাপনা পুনর্বাসনে প্রায় ৪১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয় হবে।

ফটিকছড়িতে হালদা ও ধুরং নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প এবং বিভিন্ন সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানে হালদা, কর্ণফুলী, ইছামতি নদীসহ বিভিন্ন নদী ও খালের তীর ভেঙে গেছে এবং বাঁধ ধসে পড়েছে।

আনোয়ারা, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ায় পোল্ডার, সাঙ্গু ও ডলু নদী এবং বিভিন্ন খালের বাঁধ ও তীররক্ষা স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। বাঁশখালীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, খালের পাড় এবং একাধিক স্লুইসগেট ও ফ্ল্যাপগেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা উপকূলীয় এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

এছাড়া খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি সদর ও মাটিরাঙ্গা উপজেলায় মাইনী ও চেঙ্গী নদীর তীর ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সন্দ্বীপে কয়েকটি স্লুইসগেট এবং সীতাকুণ্ডে একটি রেগুলেটর স্লুইসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের পাউবোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা। মাঠপর্যায়ে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ, নদীতীর ও জলকাঠামো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে নতুন করে ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানো যায়।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, বর্তমান সরকার উপকূলীয় জনগণের জানমাল রক্ষায় বদ্ধপরিকর। সাম্প্রতিক বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত এবং পানিবন্দি পরিবারের পুনর্বাসনে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে আনোয়ারার বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় আমাদের বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প, স্লুইসগেট ও অন্যান্য জলকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে প্রকৌশলীরা এখনও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ করছেন। যেসব স্থানে ভাঙন ও ক্ষতি বেশি হয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে জরুরি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থায়ী পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প ও বরাদ্দের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়।