Dhaka ০৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনগণকে অপমান করছে সরকার অভিযোগ বিরোধীদলীয় নেতার

নিজেস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও তীব্র সমালোচনার ঝড় তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডকে জনগণের প্রতি অপমানজনক উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেছেন, গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করে সরকার ভুল পথে এগোচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে উপেক্ষা করছে।

শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলন’ এসব কথা বলেছেন শফিকুর রহমান।

সম্মেলনে দলের নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ৭৯ সাংগঠনিক জেলা ও মহানগরের আমির-সেক্রেটারিরা উপস্থিত ছিলেন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য সরকারকে দায়ী করে শফিকুর রহমান বলেছেন, জ্বালানি সংকটে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও চাঁদার চাপে দাম বাড়ছে।

বিদ্যুত সংকট, সার সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে আলোচনা সরকারের পছন্দ নয়, শুধু লুকোচুরি করছে। আমাদের আহ্বান, আসুন খোলামনে আলোচনা করে জাতীয় সংকট উত্তরণে কাজ করি। এ দেশটা সবার।

গণভোট, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ, বিচার বিভাগ সচিবালয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো অধ্যাদেশ সংসদ পাস না করায় সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, দেশকে আবার ফ্যাসিবাদের দিকে নেওয়া হয়েছে।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, ক্রিকেট বোর্ডকেও দলীয়করণ করা হয়েছে।

প্রশাসনের দক্ষ কর্মচারীদের ওএসডি করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চোখের পলকে বিদায়! দুদক থেকে কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেছেন! মানবাধিকার কমিশন থেকে পদত্যাগ করে খোলা চিঠি দিচ্ছেন!

বিচারকদের ওপর হস্তক্ষেপ করে ২৮ জনকে শোকজ করা হয়েছে, অথচ বলা হচ্ছে বিচারকরা স্বাধীন! বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল করায় আবার খায়রুল হক, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের মতো বিচারপতি তৈরি হবে।

বিরোদলীয় নেতা অভিযোগ করেছেন, বিএনপি হয়ত ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাতে চায়। তিনি বলেছেন, আবার কি আয়নাঘর তৈরি হবে? নইলে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাদ দেবে কেন?

দুদকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত নিয়োগের অধ্যাদেশ বাতিল করা হলো! পুলিশে অনেক সংস্কার প্রয়োজন। পুলিশও বৈষম্যের শিকার। কিন্তু পুলিশ কমিশন বাদ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুট হয়ে বিদেশে পাচার হয়েছে। এর শাস্তি না দিয়ে এখন ব্যাংকের উপর থাবা শুরু হয়েছে। ব্যাংকের মালিক জনগণ, কোনো দল নয়।

সবাইকে পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে, গর্জে উঠতে হবে। আমানত রক্ষা করতে হবে। এতে জনগণের সঙ্গে থাকবে জামায়াত।

অধিকার কেউ ঘরে এনে দেবে না। আপনারা হয়ত বলবেন, আর কত ত্যাগ? হ্যাঁ, ত্যাগের রাস্তায় আমাদের চলতে হবে এবং কালোরাতের অবসান ঘটবে।

গণভোট নিয়ে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির রাজনীতিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেন জানিয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান প্রথম যে গণভোট করেন, তা সংবিধানে ছিল না।

২০২৬ সালের গণভোটও সংবিধানে ছিল না। কিন্তু প্রথমটা যদি জায়েজ হয়, তাহলে এটা জায়েজ হবে না কেন? এখন বলছে ‘ফ্যাক্টাম ভ্যালেট’।

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেছেন, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টার মুখ থেকে তা বের হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, অভ্যুত্থানে যুবসমাজ ছিল, জামায়াতও ছিল।

কিন্তু অধ্যাপক ইউনূস যুক্তরাজ্যে গিয়ে ক্যাপ্টেনের হাতে ট্রফি তুলে দিয়ে এসেছেন। ট্রফি যদি তুলে দেয়া হয়, তাহলে নির্বাচনের প্রয়োজন কী ছিল?

অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন জানিয়ে জামায়াত আমির সরকারকে সতর্ক করে বলেন, এই নির্বাচন শেষ নির্বাচন নয়।

অতীতে যারা বোঝাপড়া করে পিছনের দরজায় ক্ষমতায় গিয়েছিলেন, তারা পরিণতি বহন করে বিদায় হয়েছে।

সরকারের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, চুরানব্বইয়ে হয়েছিল মাগুরা, ছাব্বিশে বগুড়া।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনগণকে অপমান করছে সরকার অভিযোগ বিরোধীদলীয় নেতার

Update Time : ০৬:০৮:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও তীব্র সমালোচনার ঝড় তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডকে জনগণের প্রতি অপমানজনক উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেছেন, গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করে সরকার ভুল পথে এগোচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে উপেক্ষা করছে।

শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলন’ এসব কথা বলেছেন শফিকুর রহমান।

সম্মেলনে দলের নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ৭৯ সাংগঠনিক জেলা ও মহানগরের আমির-সেক্রেটারিরা উপস্থিত ছিলেন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য সরকারকে দায়ী করে শফিকুর রহমান বলেছেন, জ্বালানি সংকটে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও চাঁদার চাপে দাম বাড়ছে।

বিদ্যুত সংকট, সার সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে আলোচনা সরকারের পছন্দ নয়, শুধু লুকোচুরি করছে। আমাদের আহ্বান, আসুন খোলামনে আলোচনা করে জাতীয় সংকট উত্তরণে কাজ করি। এ দেশটা সবার।

গণভোট, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ, বিচার বিভাগ সচিবালয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো অধ্যাদেশ সংসদ পাস না করায় সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, দেশকে আবার ফ্যাসিবাদের দিকে নেওয়া হয়েছে।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, ক্রিকেট বোর্ডকেও দলীয়করণ করা হয়েছে।

প্রশাসনের দক্ষ কর্মচারীদের ওএসডি করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চোখের পলকে বিদায়! দুদক থেকে কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেছেন! মানবাধিকার কমিশন থেকে পদত্যাগ করে খোলা চিঠি দিচ্ছেন!

বিচারকদের ওপর হস্তক্ষেপ করে ২৮ জনকে শোকজ করা হয়েছে, অথচ বলা হচ্ছে বিচারকরা স্বাধীন! বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল করায় আবার খায়রুল হক, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের মতো বিচারপতি তৈরি হবে।

বিরোদলীয় নেতা অভিযোগ করেছেন, বিএনপি হয়ত ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাতে চায়। তিনি বলেছেন, আবার কি আয়নাঘর তৈরি হবে? নইলে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাদ দেবে কেন?

দুদকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত নিয়োগের অধ্যাদেশ বাতিল করা হলো! পুলিশে অনেক সংস্কার প্রয়োজন। পুলিশও বৈষম্যের শিকার। কিন্তু পুলিশ কমিশন বাদ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুট হয়ে বিদেশে পাচার হয়েছে। এর শাস্তি না দিয়ে এখন ব্যাংকের উপর থাবা শুরু হয়েছে। ব্যাংকের মালিক জনগণ, কোনো দল নয়।

সবাইকে পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে, গর্জে উঠতে হবে। আমানত রক্ষা করতে হবে। এতে জনগণের সঙ্গে থাকবে জামায়াত।

অধিকার কেউ ঘরে এনে দেবে না। আপনারা হয়ত বলবেন, আর কত ত্যাগ? হ্যাঁ, ত্যাগের রাস্তায় আমাদের চলতে হবে এবং কালোরাতের অবসান ঘটবে।

গণভোট নিয়ে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির রাজনীতিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেন জানিয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান প্রথম যে গণভোট করেন, তা সংবিধানে ছিল না।

২০২৬ সালের গণভোটও সংবিধানে ছিল না। কিন্তু প্রথমটা যদি জায়েজ হয়, তাহলে এটা জায়েজ হবে না কেন? এখন বলছে ‘ফ্যাক্টাম ভ্যালেট’।

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেছেন, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টার মুখ থেকে তা বের হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, অভ্যুত্থানে যুবসমাজ ছিল, জামায়াতও ছিল।

কিন্তু অধ্যাপক ইউনূস যুক্তরাজ্যে গিয়ে ক্যাপ্টেনের হাতে ট্রফি তুলে দিয়ে এসেছেন। ট্রফি যদি তুলে দেয়া হয়, তাহলে নির্বাচনের প্রয়োজন কী ছিল?

অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন জানিয়ে জামায়াত আমির সরকারকে সতর্ক করে বলেন, এই নির্বাচন শেষ নির্বাচন নয়।

অতীতে যারা বোঝাপড়া করে পিছনের দরজায় ক্ষমতায় গিয়েছিলেন, তারা পরিণতি বহন করে বিদায় হয়েছে।

সরকারের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, চুরানব্বইয়ে হয়েছিল মাগুরা, ছাব্বিশে বগুড়া।