জ্যৈষ্ঠেই জমে উঠল আম নামানোর উৎসব
রাজশাহীতে শুরু হয়েছে আমের মৌসুম। মধু মাস জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিন শুক্রবার থেকে জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গাছ থেকে ‘গুটি’ জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন বাগানে আমচাষী ও শ্রমিকদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়। বাজারেও উঠতে শুরু করেছে মৌসুমের প্রথম আম।
নির্ধারিত ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী সময়মতো আম নামাতে পেরে খুশি স্থানীয় চাষীরা। তারা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে আমের ফলন ভালো হয়েছে। এখন বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটবে।
চাষীরা বলছেন, গত কয়েক বছরের মতো এবারও প্রশাসনের নির্ধারিত সময় মেনে আম সংগ্রহ করায় বাজারে অপরিপক্ব আম আসার আশঙ্কা কমেছে। এতে একদিকে যেমন ক্রেতারা নিরাপদ ও সুস্বাদু আম পাবেন, অন্যদিকে রাজশাহীর আমের সুনামও বজায় থাকবে।
জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, চলতি বছর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম বাজারে আসবে। জাতভেদে আম সংগ্রহের নির্ধারিত সময়সীমা হিসেবে গুটি আম আজ শুক্রবার ১৫ মে নামানো শুরু হয়েছে।গোপালভোগ: নামানো হবে ২২ মে।
লক্ষ্মণভোগ (লখনা) ও রাণী পছন্দ ২৫ মে।হিমসাগর বা খিরসাপাত ৩০ মে।
ল্যাংড়া ১০ জুন। আম্রপালি ও ফজলি ১৫ জুন। আশ্বিনা ও বারি-৪ ৫ জুলাই। গৌড়মতি ১৫ জুলাই এবং ইলামতি ২০ আগস্ট নামানো হবে।
এছাড়া, ‘কাঠিমন’ ও ‘বারি-১১’ জাতের আম সারা বছরই সংগ্রহ করা যাবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজশাহী জেলায় আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৫ মেট্রিক টন। বাজারে এই বিপুল পরিমাণ আমের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৭৮০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে যেন কোনো অপরিপক্ব বা রাসায়নিক মিশ্রিত আম না আসে, সেজন্য নিয়মিত নজরদারি করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এবারও ভোক্তারা নিরাপদ, রাসায়নিকমুক্ত ও পরিপক্ব আম উপভোগ করতে পারবেন।
রাজশাহীর আম দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফল হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি বিদেশেও রাজশাহীর আম রপ্তানি করা হয়। মৌসুমের শুরুতেই আম বাজারে আসায় ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ।




















