Dhaka ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বৃষ্টিতে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে সবজি

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

***সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচ ২৪০ টাকা কেজি
***খেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সংকট আরও বাড়ছে
***বৃষ্টিতে সবজি উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধাক্কা
***এক সপ্তাহে কয়েকটি সবজির দাম বেড়েছে ৪০–৫০ টাকা পর্যন্ত

টানা বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এর সুযোগে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার আশপাশে বা তারও বেশি দামে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষ।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির জোগান আগের তুলনায় কম। বিক্রেতারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে সবজির খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় জমিতে পানি জমে যাওয়ায় সময়মতো সবজি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।

রাজধানীর বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১০০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এসব সবজির দাম তুলনামূলক কম ছিল। লাউয়ের দামও বেড়েছে। আগে ৬০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা কিনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।

সবজির পাশাপাশি কাঁচা মরিচের দামেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অস্বস্তি। কয়েক দিন আগেও প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪০ টাকায়। এছাড়া গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। টমেটোর দামও বেড়ে হয়েছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। অন্যদিকে পেঁপের দাম তুলনামূলক কম, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

রাজধানীর মিরপুরের একটি বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা হাসান মাহমুদ বলেন, “আগে যে পরিমাণ সবজি কিনতে ৫০০ টাকা লাগত, এখন একই বাজার করতে অনেক বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ ও অন্যান্য সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।”

বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে শুধু উৎপাদন নয়, পরিবহন ব্যবস্থাতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় সড়কে পানি জমে যাওয়ায় সবজি আনার ক্ষেত্রে বাড়তি সময় ও খরচ হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বাজারদরে।

কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী নাজমুল হক বলেন, “বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজারে সবজি কম আসছে। তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।”

তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরবে না বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে বাজারে আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। জেলা পর্যায়ে বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বাজার তদারকির পাশাপাশি কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

টানা বৃষ্টিতে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে সবজি

Update Time : ০৮:৪১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

***সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচ ২৪০ টাকা কেজি
***খেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সংকট আরও বাড়ছে
***বৃষ্টিতে সবজি উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধাক্কা
***এক সপ্তাহে কয়েকটি সবজির দাম বেড়েছে ৪০–৫০ টাকা পর্যন্ত

টানা বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এর সুযোগে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার আশপাশে বা তারও বেশি দামে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষ।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির জোগান আগের তুলনায় কম। বিক্রেতারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে সবজির খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় জমিতে পানি জমে যাওয়ায় সময়মতো সবজি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।

রাজধানীর বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১০০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এসব সবজির দাম তুলনামূলক কম ছিল। লাউয়ের দামও বেড়েছে। আগে ৬০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা কিনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।

সবজির পাশাপাশি কাঁচা মরিচের দামেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অস্বস্তি। কয়েক দিন আগেও প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪০ টাকায়। এছাড়া গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। টমেটোর দামও বেড়ে হয়েছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। অন্যদিকে পেঁপের দাম তুলনামূলক কম, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

রাজধানীর মিরপুরের একটি বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা হাসান মাহমুদ বলেন, “আগে যে পরিমাণ সবজি কিনতে ৫০০ টাকা লাগত, এখন একই বাজার করতে অনেক বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ ও অন্যান্য সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।”

বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে শুধু উৎপাদন নয়, পরিবহন ব্যবস্থাতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় সড়কে পানি জমে যাওয়ায় সবজি আনার ক্ষেত্রে বাড়তি সময় ও খরচ হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বাজারদরে।

কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী নাজমুল হক বলেন, “বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজারে সবজি কম আসছে। তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।”

তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরবে না বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে বাজারে আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। জেলা পর্যায়ে বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বাজার তদারকির পাশাপাশি কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি