Dhaka ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থানায় ঢুকে পুলিশকে মারধরের অভিযোগ জামায়াতের নেতাকর্মীদের

10 / 100 SEO Score

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুব জামায়াতের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এতে থানার ওসি সরোয়ার আলম খানসহ অন্তত ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।এ ঘটনায় উপজেলা যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িত সন্দেহে তৌহিদুল ইসলাম কানন নামে এক যুব জামায়াত নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশবাড়ী থানায় এ ঘটনা ঘটে।

ওসি সরোয়ারে আলম খান জানান, পলাশবাড়ী উপজেলা শহরের কালিবাড়ী হাটের সরকারি বরাদ্দের একটি দোকানের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই বিষয়টি নিয়ে যুব জামায়াতের নেতা মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে একটি অভিযোগপত্রসহ থানায় আসেন। পলাশ তাৎক্ষণিকভাবে বিবাদমান ওই দোকানে তালা দিতে তাকে (ওসি) চাপ দেন। এতে তিনি (ওসি) আপত্তি জানান এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে ওই নেতা ওসির সাথে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পরেন। শেষ পর্যন্ত ওসি রাজি না হলে ওই নেতা ও তার সঙ্গে থাকা যুবকেরা ওসির ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে তাকে (ওসি) মারপিট করেন। এসময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। এতে তিনি সহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন।আহতদের মধ্যে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রুহুল আমিন, রাসেল, ছানোয়ারসহ ৭ জনকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নেওয়া হয়।

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. সোহাগ জানান, রাত ১০টার দিকে ৭ জন পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩-৪ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুব জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, পুলিশই আগে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এতে তাদের ২ জন আহত হয়েছে। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে জামায়াত-বিএনপির মারামারিকুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে জামায়াত-বিএনপির মারামারি
যুব জামায়াতের নেতা পলাশ বলেন, পুলিশ আমাদের মারধর করে উল্টো আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।

পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, অভিযুক্তদের এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দলীয় কেউ জড়িত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এবিএম রশিদুল বারী বলেন, পুলিশ সদস্যদের ওপর মারপিটের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত এক যুবককে আটক হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

থানায় ঢুকে পুলিশকে মারধরের অভিযোগ জামায়াতের নেতাকর্মীদের

Update Time : ১০:৫৩:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
10 / 100 SEO Score

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুব জামায়াতের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এতে থানার ওসি সরোয়ার আলম খানসহ অন্তত ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।এ ঘটনায় উপজেলা যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িত সন্দেহে তৌহিদুল ইসলাম কানন নামে এক যুব জামায়াত নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশবাড়ী থানায় এ ঘটনা ঘটে।

ওসি সরোয়ারে আলম খান জানান, পলাশবাড়ী উপজেলা শহরের কালিবাড়ী হাটের সরকারি বরাদ্দের একটি দোকানের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই বিষয়টি নিয়ে যুব জামায়াতের নেতা মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে একটি অভিযোগপত্রসহ থানায় আসেন। পলাশ তাৎক্ষণিকভাবে বিবাদমান ওই দোকানে তালা দিতে তাকে (ওসি) চাপ দেন। এতে তিনি (ওসি) আপত্তি জানান এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে ওই নেতা ওসির সাথে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পরেন। শেষ পর্যন্ত ওসি রাজি না হলে ওই নেতা ও তার সঙ্গে থাকা যুবকেরা ওসির ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে তাকে (ওসি) মারপিট করেন। এসময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। এতে তিনি সহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন।আহতদের মধ্যে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রুহুল আমিন, রাসেল, ছানোয়ারসহ ৭ জনকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নেওয়া হয়।

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. সোহাগ জানান, রাত ১০টার দিকে ৭ জন পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩-৪ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুব জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, পুলিশই আগে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এতে তাদের ২ জন আহত হয়েছে। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে জামায়াত-বিএনপির মারামারিকুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে জামায়াত-বিএনপির মারামারি
যুব জামায়াতের নেতা পলাশ বলেন, পুলিশ আমাদের মারধর করে উল্টো আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।

পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, অভিযুক্তদের এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দলীয় কেউ জড়িত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এবিএম রশিদুল বারী বলেন, পুলিশ সদস্যদের ওপর মারপিটের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত এক যুবককে আটক হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।