Dhaka ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ৪ দিন বন্ধ থাকছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

12 / 100 SEO Score

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ (ডিএফআইএম) সম্প্রতি পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ছুটির ঘোষণা দিয়েছে।

মূলত ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনকালীন স্বাভাবিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ছুটির পর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা ৪ দিন দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ থাকছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসডিএডির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সকল তফসিলি ব্যাংক বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ডিএফআইএম-এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০২৩ এর ৪১ (২) (ঘ) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে ওই দুই দিন সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাঠিয়ে দিয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের জরুরি ব্যাংকিং কাজ সম্পন্ন করার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্তই সময় থাকছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ২৫ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানিয়েছে যে, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারা দেশে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি বলবৎ থাকবে। এই ছুটির মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি-বেসরকারি সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দেওয়া।

যেহেতু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি সাধারণ জনগণের লেনদেনের সঙ্গে জড়িত, তাই এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটির ঘোষণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৪ দিনের এই দীর্ঘ ছুটিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটা ও লেনদেনে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সে লক্ষ্যে এটিএম বুথ ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবাগুলো সচল রাখার জন্য ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ ছুটির কারণে ব্যবসায়িক লেনদেনে যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেজন্য অনেক গ্রাহক আগেভাগেই তাদের জরুরি চেক ক্লিয়ারেন্স ও এলসি সংক্রান্ত কাজগুলো শেষ করার চেষ্টা করছেন। তবে ব্যাংক বন্ধ থাকলেও ইন্টারনেট ব্যাংকিং, এমএফএস (বিকাশ, রকেট, নগদ) এবং পয়েন্ট অফ সেলস (পিওএস) সার্ভিসগুলো নিয়মিতভাবে চালু থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

১৫ ফেব্রুয়ারি রোববার থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় তাদের নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করবে। নির্বাচনের কারণে সৃষ্ট এই দীর্ঘ বিরতির আগে গ্রাহকদের পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সাথে রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ৪ দিন বন্ধ থাকছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

Update Time : ০৫:২৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
12 / 100 SEO Score

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ (ডিএফআইএম) সম্প্রতি পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ছুটির ঘোষণা দিয়েছে।

মূলত ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনকালীন স্বাভাবিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ছুটির পর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা ৪ দিন দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ থাকছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসডিএডির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সকল তফসিলি ব্যাংক বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ডিএফআইএম-এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০২৩ এর ৪১ (২) (ঘ) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে ওই দুই দিন সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাঠিয়ে দিয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের জরুরি ব্যাংকিং কাজ সম্পন্ন করার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্তই সময় থাকছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ২৫ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানিয়েছে যে, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারা দেশে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি বলবৎ থাকবে। এই ছুটির মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি-বেসরকারি সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দেওয়া।

যেহেতু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি সাধারণ জনগণের লেনদেনের সঙ্গে জড়িত, তাই এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটির ঘোষণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৪ দিনের এই দীর্ঘ ছুটিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটা ও লেনদেনে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সে লক্ষ্যে এটিএম বুথ ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবাগুলো সচল রাখার জন্য ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ ছুটির কারণে ব্যবসায়িক লেনদেনে যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেজন্য অনেক গ্রাহক আগেভাগেই তাদের জরুরি চেক ক্লিয়ারেন্স ও এলসি সংক্রান্ত কাজগুলো শেষ করার চেষ্টা করছেন। তবে ব্যাংক বন্ধ থাকলেও ইন্টারনেট ব্যাংকিং, এমএফএস (বিকাশ, রকেট, নগদ) এবং পয়েন্ট অফ সেলস (পিওএস) সার্ভিসগুলো নিয়মিতভাবে চালু থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

১৫ ফেব্রুয়ারি রোববার থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় তাদের নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করবে। নির্বাচনের কারণে সৃষ্ট এই দীর্ঘ বিরতির আগে গ্রাহকদের পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সাথে রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।