Dhaka ১২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

গোয়ার মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে নেপালকে ২–১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে জয় নিশ্চিত করে শিরোপার আরেক ধাপ কাছে পৌঁছে গেছে লাল-সবুজের মেয়েরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নেপাল। বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকা নেপাল ২৩ মিনিটে প্রথম সাফল্য পায়। কর্নার থেকে আসা বলে গোল করেন গীতা রানা। দীপা শাহির নেওয়া কর্নারে পায়ের টোকায় বল জালে পাঠান তিনি। গোল হজম করে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধে বাংলাদেশকে বেশিরভাগ সময়ই রক্ষণে ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে একেবারে শেষ মুহূর্তে ম্যাচে ফিরে আসে লাল-সবুজের দল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত এক কর্নার কিক থেকে সরাসরি গোল করেন ঋতুপর্ণা চাকমা। তার এই ‘অলিম্পিক গোল’ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং বিরতিতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১–১ সমতায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। নেপালের একটি আক্রমণে গোলকিপারকে কাটিয়ে শট নিয়েছিলেন রেখা, তবে বল পোস্টে লেগে ফিরে আসায় অল্পের জন্য রক্ষা পায় বাংলাদেশ।

এরপর ম্যাচে দুই দলই একাধিক আক্রমণ সাজালেও গোলের দেখা মিলছিল না। ৬৯ মিনিটে নেপালের সারু লিম্বুর বাঁকানো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের গোলকিপার মিলির একাধিক সেভ দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে।

৭৮ মিনিটে সাগরিকার সামনে ছিল এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ। শামসুন্নাহার জুনিয়রের পাস পেয়ে কাছ থেকে শট নিয়েছিলেন তিনি, তবে নেপাল গোলকিপারের চমৎকার ঘুষিতে বল ফিরে যায়। সেই মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্যও নির্ধারিত হতে পারত বলে মনে হচ্ছিল।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষেও ম্যাচ ছিল ১–১ সমতায়। এরপর যোগ করা সময়ের ছয় মিনিটে আসে নাটকীয়তা। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে দারুণ সমন্বয়ে গোল করেন সাগরিকা, যা নিশ্চিত করে বাংলাদেশের জয়।

শেষ পর্যন্ত ২–১ গোলের এই জয়ে নেপালকে বিদায় করে ফাইনালে উঠে যায় বাংলাদেশ। টানা তৃতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠে আরও একবার শিরোপার খুব কাছে পৌঁছে গেল লাল-সবুজের মেয়েরা।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

Update Time : ০৩:০১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

গোয়ার মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে নেপালকে ২–১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে জয় নিশ্চিত করে শিরোপার আরেক ধাপ কাছে পৌঁছে গেছে লাল-সবুজের মেয়েরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নেপাল। বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকা নেপাল ২৩ মিনিটে প্রথম সাফল্য পায়। কর্নার থেকে আসা বলে গোল করেন গীতা রানা। দীপা শাহির নেওয়া কর্নারে পায়ের টোকায় বল জালে পাঠান তিনি। গোল হজম করে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধে বাংলাদেশকে বেশিরভাগ সময়ই রক্ষণে ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে একেবারে শেষ মুহূর্তে ম্যাচে ফিরে আসে লাল-সবুজের দল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত এক কর্নার কিক থেকে সরাসরি গোল করেন ঋতুপর্ণা চাকমা। তার এই ‘অলিম্পিক গোল’ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং বিরতিতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১–১ সমতায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। নেপালের একটি আক্রমণে গোলকিপারকে কাটিয়ে শট নিয়েছিলেন রেখা, তবে বল পোস্টে লেগে ফিরে আসায় অল্পের জন্য রক্ষা পায় বাংলাদেশ।

এরপর ম্যাচে দুই দলই একাধিক আক্রমণ সাজালেও গোলের দেখা মিলছিল না। ৬৯ মিনিটে নেপালের সারু লিম্বুর বাঁকানো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের গোলকিপার মিলির একাধিক সেভ দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে।

৭৮ মিনিটে সাগরিকার সামনে ছিল এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ। শামসুন্নাহার জুনিয়রের পাস পেয়ে কাছ থেকে শট নিয়েছিলেন তিনি, তবে নেপাল গোলকিপারের চমৎকার ঘুষিতে বল ফিরে যায়। সেই মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্যও নির্ধারিত হতে পারত বলে মনে হচ্ছিল।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষেও ম্যাচ ছিল ১–১ সমতায়। এরপর যোগ করা সময়ের ছয় মিনিটে আসে নাটকীয়তা। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে দারুণ সমন্বয়ে গোল করেন সাগরিকা, যা নিশ্চিত করে বাংলাদেশের জয়।

শেষ পর্যন্ত ২–১ গোলের এই জয়ে নেপালকে বিদায় করে ফাইনালে উঠে যায় বাংলাদেশ। টানা তৃতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠে আরও একবার শিরোপার খুব কাছে পৌঁছে গেল লাল-সবুজের মেয়েরা।