Dhaka ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিমবঙ্গে মমতা-হিমন্ত সংঘাতে নতুন নাটকীয়তা

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
12 / 100 SEO Score

 

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-এর মুখোমুখি অবস্থান। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পদত্যাগে অনড় মমতার সিদ্ধান্ত এবং তাকে বরখাস্তের ইঙ্গিত দিয়ে হিমন্তের মন্তব্য ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন আসামের নির্বাচনে জয়ী বিজেপি দলীয় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেছেন, নানা অনিয়ম সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ তাকে (মমতা) অনেকদিন সহ্য করেছে।

এনডিটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) ও এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়ালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘‘মমতা বন্দোপাধ্যায় যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে তাকে বরখাস্ত করা হবে। দেশ তার খেয়ালখুশিতে চলে না। রাজ্যপাল নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন এবং এরপর তাকে বরখাস্ত করা হবে—বিষয়টি সহজ।’’

তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়ে গেছে। আপনি বলছেন, আপনার থেকে ১০০টি আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে? তাহলে তো আমিও বলতে পারি, কংগ্রেস যে ১৯টি আসন জিতেছে সেগুলো আমার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; আমার ১২৬টি আসন পাওয়ার কথা ছিল। দেশ এভাবে চলে না।’’

পশ্চিমবঙ্গে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলেন মমতা। দুই দফায় অনুষ্ঠিত বিধানসভা

র ফলাফল সোমবার প্রকাশ করেছে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এবারের এই নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজিত হলেও মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এই ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সন্ধ্যার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেছেন, ‘‘আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাব না। আমি পদত্যাগপত্র জমা দেব না।’’

মমতার এই অনড় অবস্থান তাকে বরখাস্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কৌশলগত দিক থেকে ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যপাল চাইলে যেকোনও মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু আইনি বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। বিশেষ করে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের কিছু রায়ে রাজ্যপালের ক্ষমতার সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে আগামী ৭ মে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যদি বিজয়ী দল সরকার গঠনের দাবি জানায় এবং রাজ্যপাল তাদের আমন্ত্রণ জানান, তাহলে মমতাকেন্দ্রিক এই জটিলতা এড়ানো সম্ভব হতে পারে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, মানুষ মমতাকে এতদিন সহ্য করেছে। কারণ ভারত এমনই এক দেশ (যেখানে অনেক কিছু সহ্য করা হয়)।

তিনি বলেন, ‘‘আপনি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে দেবেন না। আবার দাবি করবেন, আপনার আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে? এই নির্বাচনী ফল আপনার জন্য অনেক আগেই আসা উচিত ছিল। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আপনাকে অনেক দিয়েছে। আজ তারা বিজেপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। আপনি বলছেন, ‘আমি পদত্যাগ করব না’’, যেন সমাজ আপনার পদত্যাগ করা বা না করার ওপর ভিত্তি করে চলবে।’’

ভোটার তালিকায় বিশেষ কারচুপি (এসআইআর) করে ভোট চুরি করা হয়েছে এবং সরকার ও নির্বাচন কমিশন এর পেছনে যোগসাজশ করেছে; মমতা ও তার দলের এমন দাবির বিষয়ে হিমন্ত বলেন, এর প্রমাণ কোথায়?

তিনি বলেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘আপনারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন। আদালত বলেছে যে আপনারা ভুল এবং নির্বাচন কমিশন সঠিক। তাই ওই বিতর্ক সেখানেই শেষ হয়ে গেছে। এসআইআরের মাধ্যমে বাদ পড়া নামগুলো যদি আপনার ঝুলিতে যুক্ত হতো, তাহলেও কি আপনি জিততেন?

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৬টিতে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন; যা ২০২১ সালের নির্বাচনে তাদের পাওয়া ২১৫টি আসনের অর্ধেকেরও কম।

সূত্র: এনডিটিভি।

ডিবি/এম

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পশ্চিমবঙ্গে মমতা-হিমন্ত সংঘাতে নতুন নাটকীয়তা

Update Time : ০৫:৪০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-এর মুখোমুখি অবস্থান। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পদত্যাগে অনড় মমতার সিদ্ধান্ত এবং তাকে বরখাস্তের ইঙ্গিত দিয়ে হিমন্তের মন্তব্য ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন আসামের নির্বাচনে জয়ী বিজেপি দলীয় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেছেন, নানা অনিয়ম সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ তাকে (মমতা) অনেকদিন সহ্য করেছে।

এনডিটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) ও এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়ালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘‘মমতা বন্দোপাধ্যায় যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে তাকে বরখাস্ত করা হবে। দেশ তার খেয়ালখুশিতে চলে না। রাজ্যপাল নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন এবং এরপর তাকে বরখাস্ত করা হবে—বিষয়টি সহজ।’’

তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়ে গেছে। আপনি বলছেন, আপনার থেকে ১০০টি আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে? তাহলে তো আমিও বলতে পারি, কংগ্রেস যে ১৯টি আসন জিতেছে সেগুলো আমার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; আমার ১২৬টি আসন পাওয়ার কথা ছিল। দেশ এভাবে চলে না।’’

পশ্চিমবঙ্গে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলেন মমতা। দুই দফায় অনুষ্ঠিত বিধানসভা

র ফলাফল সোমবার প্রকাশ করেছে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এবারের এই নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজিত হলেও মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এই ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সন্ধ্যার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেছেন, ‘‘আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাব না। আমি পদত্যাগপত্র জমা দেব না।’’

মমতার এই অনড় অবস্থান তাকে বরখাস্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কৌশলগত দিক থেকে ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যপাল চাইলে যেকোনও মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু আইনি বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। বিশেষ করে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের কিছু রায়ে রাজ্যপালের ক্ষমতার সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে আগামী ৭ মে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যদি বিজয়ী দল সরকার গঠনের দাবি জানায় এবং রাজ্যপাল তাদের আমন্ত্রণ জানান, তাহলে মমতাকেন্দ্রিক এই জটিলতা এড়ানো সম্ভব হতে পারে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, মানুষ মমতাকে এতদিন সহ্য করেছে। কারণ ভারত এমনই এক দেশ (যেখানে অনেক কিছু সহ্য করা হয়)।

তিনি বলেন, ‘‘আপনি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে দেবেন না। আবার দাবি করবেন, আপনার আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে? এই নির্বাচনী ফল আপনার জন্য অনেক আগেই আসা উচিত ছিল। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আপনাকে অনেক দিয়েছে। আজ তারা বিজেপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। আপনি বলছেন, ‘আমি পদত্যাগ করব না’’, যেন সমাজ আপনার পদত্যাগ করা বা না করার ওপর ভিত্তি করে চলবে।’’

ভোটার তালিকায় বিশেষ কারচুপি (এসআইআর) করে ভোট চুরি করা হয়েছে এবং সরকার ও নির্বাচন কমিশন এর পেছনে যোগসাজশ করেছে; মমতা ও তার দলের এমন দাবির বিষয়ে হিমন্ত বলেন, এর প্রমাণ কোথায়?

তিনি বলেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘আপনারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন। আদালত বলেছে যে আপনারা ভুল এবং নির্বাচন কমিশন সঠিক। তাই ওই বিতর্ক সেখানেই শেষ হয়ে গেছে। এসআইআরের মাধ্যমে বাদ পড়া নামগুলো যদি আপনার ঝুলিতে যুক্ত হতো, তাহলেও কি আপনি জিততেন?

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৬টিতে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন; যা ২০২১ সালের নির্বাচনে তাদের পাওয়া ২১৫টি আসনের অর্ধেকেরও কম।

সূত্র: এনডিটিভি।

ডিবি/এম