পাবনায় অস্ত্র কারিগরসহ গ্রেপ্তার দুই
পাবনায় সেলাই মেশিনের দোকানে অবৈধ অস্ত্র কারখানা খুঁজে পেয়েছে ডিবি পুলিশ।
সেলাই মেশিনের মেরামতের পাশাপাশি এখানে এয়ারগানও মেরামত করা হতো। এ সময় কয়েকটি দুই নলা বন্দুক, বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আফজাল হোসেন (৬০) ও জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫) নামে দুই অস্ত্র কারিগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের কুমিল্লি গ্রাম এবং পাবনা পৌর এলাকার রূপকথা রোডের বোরহান মার্কেটে পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কুমিল্লি গ্রামে আফজাল হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি দুই নলা বন্দুক, ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার বোরের দুইটি বিদেশি পিস্তল এবং চার রাউন্ড লোডেড গুলি জব্দ করা হয়। পরে জাহাঙ্গীর নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটক আফজালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শহরের রূপকথা রোডের বোরহান মার্কেটে তার নিজস্ব দোকানে অভিযান চালানো হয়।
সেখানে সেলাই মেশিন ও এয়ারগান মেরামতের ট্রেড লাইসেন্স থাকলেও দোকানের ভেতর থেকে একটি একনলা বন্দুকের বডি, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যারেল, ট্রিগার, ক্লিপ, স্প্রিং, ফায়ারিং পিন, ড্রিল মেশিন এবং দশমিক ২২ বোরের গুলি ও খোসা উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে একটি ৮ চেম্বারের দশমিক ২২ বোর রিভলভার (২ রাউন্ড গুলিসহ), প্রায় ৩০ রাউন্ড গুলি, চারটি খোসা এবং অস্ত্র মেরামতের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, একটি ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল এবং ৭৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তার কাছ থেকে একটি দেশীয় ওয়ান শুটার গান ও ৪টি শর্টগানের কার্তুজও উদ্ধার করে পুলিশ।
পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আফজাল অত্যন্ত চতুরতার সাথে বৈধ ব্যাবসার আড়ালে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
সে মূলত একজন দক্ষ কারিগর, যে কী না সাধারণ সেলাই মেশিন মেরামতের আড়ালে প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি ও মেরামতের কাজ করত। আমাদের টিম অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তাকে হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হয়েছে।
এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার জাহিদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, পাবনা জেলাকে অপরাধমুক্ত এবং অবৈধ মাদকের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ করতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি।
এই চক্রের মূল হোতাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে একটি বড় ধরনের অপরাধ নেটওয়ার্ক নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে আর কারা জড়িত বা এই অস্ত্রগুলো কাদের কাছে সরবরাহ করা হতো, তা খুঁজে বের করতে আমাদের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডিবি পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি আসামি। তার বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯এ/১৯(এফ) ধারায় পাবনা সদর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।



















