প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কম্পট্রোলারের বিশেষ অভিযান
সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বাড়াতে দেশব্যাপী বিশেষ তদন্ত ও পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেছে কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল কার্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেওয়া এই উদ্যোগ ১১ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সংস্কারমুখী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি সংস্থার অধীন ৫০টি প্রধান হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তার (সিএএফও) কার্যালয়ে বিশেষ পরিদর্শন ও তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং আর্থিক প্রশাসনে জবাবদিহিতা জোরদার করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আর্থিক তদারকি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সপ্তাহব্যাপী আয়োজনে আলোচনা সভা, উপস্থাপনা, সচেতনতামূলক অধিবেশন, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনা সভা এবং বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, সরকারি সেবার মান উন্নয়ন, ওয়ান-স্টপ পরিষেবা সম্প্রসারণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি দায়বদ্ধতা, ঋণ ব্যবস্থাপনা, ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত কার্যক্রম এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরীক্ষা কার্যক্রমে সততা, পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা এবং আর্থিক প্রশাসনকে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে আর্থিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো সংস্কারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
দেশব্যাপী এই কর্মসূচিতে ১৭টি এবিআইটি কার্যালয়, ৫০টি বিএএফও কার্যালয়, আটটি বিভাগ, ৬৪টি জেলা এবং ৪৯৫টি উপজেলার কার্যালয় সম্পৃক্ত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান এবং আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোও অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলমান বিশেষ অভিযান চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়গুলোরও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের আশা, এ উদ্যোগ সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।




















