Dhaka ০৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

8 / 100 SEO Score

 

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। গ্রাহকদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ এবং প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান ও সাঁজোয়া যান।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে কয়েক শত সচেতন গ্রাহক অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি— ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগ, নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল, ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সদ্য অপসারিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ ওমর ফারুক খানকে স্বপদে পুনর্বহাল করা।

মানববন্ধনে আব্দুল হান্নান খন্দকার নামে একজন গ্রাহক বলেন, “ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সুদমুক্তভাবে পরিচালিত হয়ে গ্রাহকদের আমানত রক্ষা করে আসছে। কিন্তু বিগত স্বৈরাচারী সরকার এই ব্যাংকটিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে এস আলম গ্রুপকে এর দায়িত্ব দেয়। তারা ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করে একে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে গিয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীরা আবার এই ব্যাংকে টাকা জমা ও রেমিট্যান্স পাঠানো শুরু করেন। ব্যাংকটি যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই একটি কুচক্রী মহল খুরশিদ আলমকে চেয়ারম্যান করে ব্যাংকটিকে আবারও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সাধারণ আমানতকারীরা এই ব্যাংককে আর লুণ্ঠনকারীদের হাতে ছেড়ে দেবে না।”

আরেক আন্দোলনকারী গ্রাহক আবুল খায়ের আজাদ গতকালের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ সুকৌশলে ব্যাংকটি দখল করেছিল। আর বর্তমান চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, যিনি জুলাই বিপ্লবের সময় পালিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি একজন ফ্যাসিস্টের দোসর। আমরা অবিলম্বে তার পদত্যাগ চাই। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এখান থেকে টাকা পাচার হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গতকাল জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকবান্ধব অফিসার ও এমডি ওমর ফারুক খানকে অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে দ্রুত পুনর্বহাল করতে হবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এর আগে গতকাল সোমবার সকালেও একই দাবিতে প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে সচেতন গ্রাহক ফোরাম। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছিল।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ব্যাংকটির গ্রাহক, কর্মকর্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের একটি বড় অংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়, যা এখন রাজপথের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

Update Time : ০৬:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। গ্রাহকদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ এবং প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান ও সাঁজোয়া যান।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে কয়েক শত সচেতন গ্রাহক অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি— ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগ, নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল, ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সদ্য অপসারিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ ওমর ফারুক খানকে স্বপদে পুনর্বহাল করা।

মানববন্ধনে আব্দুল হান্নান খন্দকার নামে একজন গ্রাহক বলেন, “ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সুদমুক্তভাবে পরিচালিত হয়ে গ্রাহকদের আমানত রক্ষা করে আসছে। কিন্তু বিগত স্বৈরাচারী সরকার এই ব্যাংকটিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে এস আলম গ্রুপকে এর দায়িত্ব দেয়। তারা ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করে একে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে গিয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীরা আবার এই ব্যাংকে টাকা জমা ও রেমিট্যান্স পাঠানো শুরু করেন। ব্যাংকটি যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই একটি কুচক্রী মহল খুরশিদ আলমকে চেয়ারম্যান করে ব্যাংকটিকে আবারও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সাধারণ আমানতকারীরা এই ব্যাংককে আর লুণ্ঠনকারীদের হাতে ছেড়ে দেবে না।”

আরেক আন্দোলনকারী গ্রাহক আবুল খায়ের আজাদ গতকালের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ সুকৌশলে ব্যাংকটি দখল করেছিল। আর বর্তমান চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, যিনি জুলাই বিপ্লবের সময় পালিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি একজন ফ্যাসিস্টের দোসর। আমরা অবিলম্বে তার পদত্যাগ চাই। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এখান থেকে টাকা পাচার হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গতকাল জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকবান্ধব অফিসার ও এমডি ওমর ফারুক খানকে অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে দ্রুত পুনর্বহাল করতে হবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এর আগে গতকাল সোমবার সকালেও একই দাবিতে প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে সচেতন গ্রাহক ফোরাম। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছিল।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ব্যাংকটির গ্রাহক, কর্মকর্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের একটি বড় অংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়, যা এখন রাজপথের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।