মাদক প্রতিরোধে বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগের আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর
তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে শুধুমাত্র ভয়ভীতি বা নিষেধাজ্ঞামূলক প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
রোববার রাজধানীর আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (আউস্ট) প্রফেসর ড. এম. এইচ. খান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “তরুণদের মাদক প্রতিরোধে প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সেমিনারটির আয়োজন করে আউস্ট। এতে সহযোগিতা করে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাবসটেন্স ইউজ প্রোফেশনালস (আইস্যাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার।
মন্ত্রী বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি বলেন, “দেশকে মাদকমুক্ত করতে আমাদের সবাইকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই একটি সুন্দর ও মানবিক বাংলাদেশ গঠন সম্ভব হবে।” তিনি আরও জানান, যুবসমাজকে দক্ষ করে তুলতে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক এবং আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাসুদ। তিনি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও আচরণ পরিবর্তনের বিজ্ঞানভিত্তিক মডেলের আলোকে কর্মক্ষেত্র ও বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মাদকাসক্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ তরুণদের শাস্তির পরিবর্তে পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধারভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর জোর দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের কার্যকারিতা মূল্যায়নে বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান ডা. এম এ মোহিত কামাল, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি ড. এস এম খলিলুর রহমান এবং আউস্টের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল হক। সেমিনারে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা অংশ নেন।
















