Dhaka ০৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যমুনা অয়েলের প্রভাবশালী সেই তিন সিবিএ নেতাকে বহিষ্কার

12 / 100 SEO Score

ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার ও লাপাত্তার ঘটনায় সমালোচনার মুখে থাকা যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড অবশেষে তিন সিবিএ নেতাকে বহিষ্কার করেছে। গতকাল তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যমুনা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (মানব সম্পদ) মোহাম্মদ হাসান ইমাম।

বহিষ্কৃতরা হলেন— শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এয়াকুব এবং কার্যকরী সভাপতি জয়নাল আবেদীন ওরফে টুটুল। এর মধ্যে আবুল হোসেন আট মাস এবং এয়াকুব দুই মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জয়নাল আবেদীন লাপাত্তা ছিলেন।

এর আগে ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো বহিষ্কার বা বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী গ্রেপ্তার বা অভিযোগপত্র গৃহীত হলে সাময়িক বরখাস্তের বিধান থাকলেও দীর্ঘ সময়েও তা কার্যকর না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘দুই সিবিএ নেতা কারাগারে, একজন লাপাত্তা, নিশ্চুপ যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর তিনজনকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বুধবার তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয় এবং পরদিন চিঠি ইস্যু হয়।

তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২০ জুলাই নগরের ইপিজেড থানার সিমেন্ট ক্রসিং এলাকা থেকে সভাপতি মো. আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি প্রায় আট মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন।

গত ১২ ডিসেম্বর নগরের আগ্রাবাদ এলাকা থেকে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এয়াকুবকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। একই সময়কার সহিংসতার মামলায় তাকেও গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন।

এয়াকুব ১৯৯৭ সালে ৯৩৫ টাকা বেতনে যমুনা অয়েলে চাকরি শুরু করেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে তার বর্তমান বেতন দাঁড়ায় ৮৫ হাজার ১০০ টাকা। ২০০৯ সালে লেবার ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং এক বছর পর সাধারণ সম্পাদক হন। গত দেড় দশক ধরে তিনি এই পদে ছিলেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এয়াকুবের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। প্রাথমিক তথ্যে চট্টগ্রাম ও বোয়ালখালীতে একাধিক জমি, আগ্রাবাদে যৌথ মালিকানায় জমি এবং খুলশীর দামপাড়ায় ৪ হাজার ২০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে, যার দলিলমূল্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে কার্যকরী সভাপতি জয়নাল আবেদীন ওরফে টুটুল ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে লাপাত্তা ছিলেন। সরকারি জ্বালানি তেল চুরি, দুর্নীতি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছয়তলা একটি বাড়ির মালিক হিসেবে তিনি পরিচিত, যা ব্রাজিল বাড়ি নামে এলাকায় আলোচিত। ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে বাড়িটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যমুনা অয়েলের প্রভাবশালী সেই তিন সিবিএ নেতাকে বহিষ্কার

Update Time : ০৫:৫৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
12 / 100 SEO Score

ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার ও লাপাত্তার ঘটনায় সমালোচনার মুখে থাকা যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড অবশেষে তিন সিবিএ নেতাকে বহিষ্কার করেছে। গতকাল তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যমুনা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (মানব সম্পদ) মোহাম্মদ হাসান ইমাম।

বহিষ্কৃতরা হলেন— শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এয়াকুব এবং কার্যকরী সভাপতি জয়নাল আবেদীন ওরফে টুটুল। এর মধ্যে আবুল হোসেন আট মাস এবং এয়াকুব দুই মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জয়নাল আবেদীন লাপাত্তা ছিলেন।

এর আগে ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো বহিষ্কার বা বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী গ্রেপ্তার বা অভিযোগপত্র গৃহীত হলে সাময়িক বরখাস্তের বিধান থাকলেও দীর্ঘ সময়েও তা কার্যকর না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘দুই সিবিএ নেতা কারাগারে, একজন লাপাত্তা, নিশ্চুপ যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর তিনজনকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বুধবার তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয় এবং পরদিন চিঠি ইস্যু হয়।

তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২০ জুলাই নগরের ইপিজেড থানার সিমেন্ট ক্রসিং এলাকা থেকে সভাপতি মো. আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি প্রায় আট মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন।

গত ১২ ডিসেম্বর নগরের আগ্রাবাদ এলাকা থেকে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এয়াকুবকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। একই সময়কার সহিংসতার মামলায় তাকেও গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন।

এয়াকুব ১৯৯৭ সালে ৯৩৫ টাকা বেতনে যমুনা অয়েলে চাকরি শুরু করেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে তার বর্তমান বেতন দাঁড়ায় ৮৫ হাজার ১০০ টাকা। ২০০৯ সালে লেবার ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং এক বছর পর সাধারণ সম্পাদক হন। গত দেড় দশক ধরে তিনি এই পদে ছিলেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এয়াকুবের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। প্রাথমিক তথ্যে চট্টগ্রাম ও বোয়ালখালীতে একাধিক জমি, আগ্রাবাদে যৌথ মালিকানায় জমি এবং খুলশীর দামপাড়ায় ৪ হাজার ২০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে, যার দলিলমূল্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে কার্যকরী সভাপতি জয়নাল আবেদীন ওরফে টুটুল ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে লাপাত্তা ছিলেন। সরকারি জ্বালানি তেল চুরি, দুর্নীতি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছয়তলা একটি বাড়ির মালিক হিসেবে তিনি পরিচিত, যা ব্রাজিল বাড়ি নামে এলাকায় আলোচিত। ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে বাড়িটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।