Dhaka ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় পাকিস্তানকে প্রত্যাখ্যান তেহরানের

10 / 100 SEO Score

ইরান যুদ্ধ অবসানের জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে সরাসরি আলোচনার মধ্যস্থতা করার বিষয়ে পাকিস্তানের দেওয়া প্রস্তাব ও দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ বা তথাকথিত কোনো ফোরামের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।সোমবার (৩০ মার্চ) মুম্বাইয়ে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেল থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন কেবল ‘অত্যধিক ও অযৌক্তিক’ কিছু দাবি পাঠিয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যে আলোচনার কথা বলা হচ্ছে, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয় এবং ইরান তাতে অংশগ্রহণ করেনি।ইরানি কনস্যুলেট আরও উল্লেখ করেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত কূটনীতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল, তবে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো আহ্বানকে আমরা স্বাগত জানাই, কিন্তু এই যুদ্ধের সূচনা কে করেছে সেটি ভুলে গেলে চলবে না।’

ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার, যখন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইসলামাবাদে সৌদি আরব, মিসর এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ব্যাপী এক বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি দাবি করেন, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সরাসরি আলোচনার বিষয়ে সফররত মন্ত্রীরা পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং তিনি নিজে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলেও দাবি করেন দার।তবে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা ইরানের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল না। এদিকে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করলেও ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া একটি ১৫ দফা পরিকল্পনার জবাব পাঠিয়েছে।মধ্যস্থতার এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই রণক্ষেত্রে উত্তেজনা কমেনি। সোমবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর তাদের অভিযানের অংশ হিসেবে কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলের একটি তেল শোধনাগারেও আঘাত হেনেছে ইরানি বাহিনী।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্মান প্রদর্শনের নিদর্শন হিসেবে সোমবার থেকে ২০টি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে ইরান। তবে একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রয়োজনে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের খর্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল দখল করে নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে আড়াই হাজার মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং সমপরিমাণ আরও একটি সেনাদল সেখানে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় পাকিস্তানকে প্রত্যাখ্যান তেহরানের

Update Time : ০৬:২৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
10 / 100 SEO Score

ইরান যুদ্ধ অবসানের জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে সরাসরি আলোচনার মধ্যস্থতা করার বিষয়ে পাকিস্তানের দেওয়া প্রস্তাব ও দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ বা তথাকথিত কোনো ফোরামের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।সোমবার (৩০ মার্চ) মুম্বাইয়ে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেল থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন কেবল ‘অত্যধিক ও অযৌক্তিক’ কিছু দাবি পাঠিয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যে আলোচনার কথা বলা হচ্ছে, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয় এবং ইরান তাতে অংশগ্রহণ করেনি।ইরানি কনস্যুলেট আরও উল্লেখ করেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত কূটনীতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল, তবে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো আহ্বানকে আমরা স্বাগত জানাই, কিন্তু এই যুদ্ধের সূচনা কে করেছে সেটি ভুলে গেলে চলবে না।’

ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার, যখন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইসলামাবাদে সৌদি আরব, মিসর এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ব্যাপী এক বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি দাবি করেন, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সরাসরি আলোচনার বিষয়ে সফররত মন্ত্রীরা পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং তিনি নিজে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলেও দাবি করেন দার।তবে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা ইরানের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল না। এদিকে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করলেও ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া একটি ১৫ দফা পরিকল্পনার জবাব পাঠিয়েছে।মধ্যস্থতার এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই রণক্ষেত্রে উত্তেজনা কমেনি। সোমবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর তাদের অভিযানের অংশ হিসেবে কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলের একটি তেল শোধনাগারেও আঘাত হেনেছে ইরানি বাহিনী।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্মান প্রদর্শনের নিদর্শন হিসেবে সোমবার থেকে ২০টি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে ইরান। তবে একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রয়োজনে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের খর্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল দখল করে নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে আড়াই হাজার মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং সমপরিমাণ আরও একটি সেনাদল সেখানে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে।