শ্রমিক-ডিজেল সংকটে ধান কাটায় অনিশ্চয়তা
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে কষ্টের পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকরা।
শ্রমিক সংকট, ডিজেলের স্বল্পতা, আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা–সব মিলিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে তাদের মধ্যে।
গত বুধবার উপজেলার ছৈলা আফজালাবাদ ইউনিয়নের রাধানগর এলাকায় ব্রি-ধান ১০০ জাতের ধান কাটার মাধ্যমে নমুনা শস্য কর্তনের উদ্বোধন করে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
ধানের ফলন ভালো হলেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে সময়মতো ফসল ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ছাতকে ১৪ হাজার ৯৯৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে।
এর মধ্যে হাইব্রিড দুই হাজার ৫২৬ হেক্টর, উফশী ১২ হাজার ৪০৫ হেক্টর এবং স্থানীয় জাত ৬৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এসব আবাদ থেকে ৬৫ হাজার টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
উপজেলার ছোট-বড় ৬৩টি বিল-হাওরের অধিকাংশে ইতোমধ্যে ধান পাকতে শুরু করেছে। সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও এখন পানি নামতে শুরু করেছে। মে মাসের শেষেদিকে ধান কাটা শেষ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর উপজেলায় ৪০টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও ২৫টি রিপার মেশিন দিয়ে ধান কাটার কাজ করা হবে। আগে বাইরের জেলা থেকে শ্রমিক এলেও বর্তমানে মেশিননির্ভরতা বাড়ায় শ্রমিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
দেখার হাওরের কৃষক সফিক মিয়া বলেন, ‘আমার ১০-১২ একর জমিতে ভালো ধান হয়েছে। আগে বাইরে থেকে শ্রমিক পাওয়া যেত, এখন পাওয়া যাচ্ছে না। যারা আছেন তারা বেশি মজুরি চাচ্ছেন। শিলাবৃষ্টি হলে সব শেষ হয়ে যাবে।’
নাইন্দার হাওরের কৃষক ময়না মিয়া বলেন, ‘ধান কাটার সময় শ্রমিক না পাওয়া সবচেয়ে বড় সমস্যা। অনেক জায়গায় খোঁজ নিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে পাহাড়ি ঢল বা শিলাবৃষ্টির ভয় তো আছেই।’
এদিকে, শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক কম্বাইন্ড হারভেস্টার ভাড়া নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এসব মেশিন চালাতে প্রতিদিন ১০০-১২০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয় এবং পাওয়ার থ্রেসার মেশিনে লাগে ১২-১৫ লিটার।
ফলে ডিজেল সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে কয়েকজন কৃষক উপজেলা কৃষি অফিস ও ইউএনওর দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন।
সরেজমিন নাইন্দার হাওর ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও ৫০ শতাংশ আবার কোথাও ৬০ শতাংশ ধান পেকেছে। কৃষকরা জানান, অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে ধান শুকানোও কঠিন হয়ে পড়বে। এতে ধানের গুণগত মান নষ্ট হয়ে বাজারদর কমে যেতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান বলেন, ‘এবার বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
পাম্প থেকে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সুপারিশ করা হয়েছে। মাঠের ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই দ্রুত কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
হাওর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, ‘বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকলেও পানি নেমে গেছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।



















