Dhaka ০৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হানিফ সংকেতের হাতে স্বাধীনতা পদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র স্রষ্টা ও কথার জাদুকর হিসেবে খ্যাত হানিফ সংকেত দেশের সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান—স্বাধীনতা পদক।

দেশের সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-এর উপস্থাপক ও নির্মাতা হানিফ সংকেতের হাতে (এ কে এম হানিফ) স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ তুলে দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তার হাতে এ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধান ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

হানিফ সংকেত একাধারে উপস্থাপক, পরিচালক, লেখক, প্রযোজক, গায়ক, সুরকার ও গীতিকার। তিনি প্রথম টিভি উপস্থিতি ফজলে লোহানীর ‘যদি কিছু মনে না করেন’-এর সূত্রে।

বিটিভিতে ‘ইত্যাদি’র প্রথম পর্ব প্রচারিত হয় ১৯৮৯ সালের মার্চে। সে হিসাবে অনুষ্ঠানটির যাত্রা তিন দশকের বেশি। অনুষ্ঠানটি তিনি নিয়ে গেছেন বারবার দেশের নানা অঞ্চলে। ফলে এটি একধরনের সাংস্কৃতিক মানচিত্র তৈরি করেছে, যেখানে টেলিভিশনের ক্যামেরা বাংলাদেশের মুখকে নতুন করে চিনিয়েছে বাংলাদেশকেই।

‘ইত্যাদি’র বাইরে হানিফ সংকেত নাটক ও চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। উল্লেখযোগ্য নাটক ‘কুসুম’-প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের নির্মাণ। নাটক পরিচালনাতেও তাঁর কাজের তালিকা দীর্ঘ-‘আয় ফিরে তোর প্রাণের বারান্দায়’, ‘দুর্ঘটনা’, ‘তোষামোদে খোশ আমোদে’, ‘কিংকর্তব্য’, ‘শেষে এসে অবশেষে’।

হানিফ সংকেত ২০১০ সালে পেয়েছেন একুশে পদক। তিনি পেয়েছেন জাতীয় পরিবেশ পদকও। ‘ইত্যাদি’ বহুবার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে সেরা টিভি অনুষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এবার তিনি পেলেন স্বাধীনতা পুরস্কার।

এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। এছাড়া ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

বেগম খালেদা জিয়া ও হানিফ সংকেত ছাড়াও স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য ব্যক্তি হলেন— মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

এছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো— মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হানিফ সংকেতের হাতে স্বাধীনতা পদক

Update Time : ০৩:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র স্রষ্টা ও কথার জাদুকর হিসেবে খ্যাত হানিফ সংকেত দেশের সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান—স্বাধীনতা পদক।

দেশের সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-এর উপস্থাপক ও নির্মাতা হানিফ সংকেতের হাতে (এ কে এম হানিফ) স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ তুলে দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তার হাতে এ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধান ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

হানিফ সংকেত একাধারে উপস্থাপক, পরিচালক, লেখক, প্রযোজক, গায়ক, সুরকার ও গীতিকার। তিনি প্রথম টিভি উপস্থিতি ফজলে লোহানীর ‘যদি কিছু মনে না করেন’-এর সূত্রে।

বিটিভিতে ‘ইত্যাদি’র প্রথম পর্ব প্রচারিত হয় ১৯৮৯ সালের মার্চে। সে হিসাবে অনুষ্ঠানটির যাত্রা তিন দশকের বেশি। অনুষ্ঠানটি তিনি নিয়ে গেছেন বারবার দেশের নানা অঞ্চলে। ফলে এটি একধরনের সাংস্কৃতিক মানচিত্র তৈরি করেছে, যেখানে টেলিভিশনের ক্যামেরা বাংলাদেশের মুখকে নতুন করে চিনিয়েছে বাংলাদেশকেই।

‘ইত্যাদি’র বাইরে হানিফ সংকেত নাটক ও চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। উল্লেখযোগ্য নাটক ‘কুসুম’-প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের নির্মাণ। নাটক পরিচালনাতেও তাঁর কাজের তালিকা দীর্ঘ-‘আয় ফিরে তোর প্রাণের বারান্দায়’, ‘দুর্ঘটনা’, ‘তোষামোদে খোশ আমোদে’, ‘কিংকর্তব্য’, ‘শেষে এসে অবশেষে’।

হানিফ সংকেত ২০১০ সালে পেয়েছেন একুশে পদক। তিনি পেয়েছেন জাতীয় পরিবেশ পদকও। ‘ইত্যাদি’ বহুবার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে সেরা টিভি অনুষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এবার তিনি পেলেন স্বাধীনতা পুরস্কার।

এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। এছাড়া ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

বেগম খালেদা জিয়া ও হানিফ সংকেত ছাড়াও স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য ব্যক্তি হলেন— মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

এছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো— মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।